দেশ 

গ্রেফতার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : লোকসভা ভোটের নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে গ্রেফতার হলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এক কথায় মোদী সরকার সমস্ত রাজনৈতিক শিষ্টাচারকে ছাপিয়ে গেল। একটু ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭৭ সালের মার্চ মাসে দেশ জুড়ে নির্বাচন করেছিলেন ওই সময় সমগ্র দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি ছিল। কারণ ১৯৭৭ সালের ১৬ই মার্চ থেকে কুড়ি মার্চ পর্যন্ত দেশ জুড়ে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অন্যদিকে ওই বছরই জানুয়ারি মাসে ইন্দিরা গান্ধীর পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল যে এ বছর ভোট হবে সাধারন মানুষ ভোটাধিকার দিয়ে যাকে ক্ষমতায় বসাবে তাকেই আমরা গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় বসতে দেবো।

কিন্তু জরুরি অবস্থা ইন্দিরা গান্ধী ভোট চলাকালীন সময়ে তুলে নেননি, তারপরেও ভোট ঘোষণা হওয়ার পর থেকে যেভাবে বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হলেন একই সঙ্গে একজোট হলো বরাজি দেশাই থেকে শুরু করে জয়প্রকাশ নারায়ন জগজীবন রাম এই যে জোর তৈরি হয়েছিল সেই জোটেও কোনরকম ভাবে আঘাত দেওয়ার চেষ্টা করেননি ইন্দিরা গান্ধী।। কিন্তু মোদি সরকার সমস্ত রকম শিষ্টাচারকে সরিয়ে যেভাবে রাজনৈতিক লড়াই না করে একের পর এক বিরোধী দলের নেতাদের গ্রেপ্তার করে জেলে ঢোকাতে শুরু করেছেন তাতে আর যাই হোক গণতন্ত্রের পক্ষে অশনি সংকেত বলা যেতে পারে।

Advertisement

যাইহোক বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে প্রবেশ করে ইডি। তারপর রাত্রি ন’টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়, সম্ভবত ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে তিনি একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি পদে থাকাকালীন সময়ে গ্রেফতার হলেন। কয়েক মাস আগে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন কে গ্রেফতার করা হয়েছিল কিন্তু গ্রেফতার এর আগে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন সে দিক থেকে দেখলে এটাই স্পষ্ট হয়েছে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী এখন জেলে থাকবেন। আবগারি মামলায় এ পর্যন্ত ৯ বার তলব করেছিল ইডি অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে। তিনি একবারও যাননি শেষ পর্যন্ত আজ তাকে গ্রেফতার করলো কেন্দ্রীয় এজেন্সি। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর গ্রেফতারির পরেই তাঁর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন আপ কর্মী, সমর্থকেরা। গোটা রাজধানী জুড়েই প্রতিবাদ শুরু করেন তাঁরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেজরীর বাসভবনের সামনে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

সূত্রের খবর, ১২ জনের ইডি আধিকারিকের একটি দল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে যায়। তল্লাশি অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় নথি দেখিয়েই কেজরীওয়ালের বাড়িতে প্রবেশ করে তারা। তাঁর বাসভবনের সামনে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। অন্য দিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাতেই রক্ষাকবচ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন কেজরীওয়াল। জরুরি ভিত্তিতে মামলা শোনার আর্জি জানানো হয় তাঁর তরফে।

দিল্লির আবগারি মামলায় আপ প্রধানকে মোট ন’বার সমন পাঠিয়েছিল ইডি। কিন্তু আট বারই হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। শেষ পাঠানো সমনে বৃহস্পতিবারই ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর। কিন্তু হাজিরা না দিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন কেজরীওয়াল।

আদালতে পেশ করা আবেদনে কেজরীওয়াল বলেন, ‘‘ইডি নিশ্চয়তা দিক যে, তাদের তলবে সাড়া দিলে আমার বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে না।” আপের অভিযোগ, ইডির লক্ষ্য জিজ্ঞাসাবাদ নয়। এত দিন ধরেও তারা এই মামলায় কেজরীওয়ালের বিরুদ্ধে কোনও তথ্যপ্রমাণ পায়নি। তাই লোকসভা ভোটের আগে সমন পাঠিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সুরেশকুমার কাইথ এব‌ং বিচারপতি মনোজ জৈনের ডিভিশন বেঞ্চে কেজরীওয়ালের আবেদন সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। শুনানি শেষে ডিভিশন বেঞ্চ বলে, ‘‘আমরা উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছি। তবে আমরা এই পর্যায়ে মামলাকারীকে কোনও সুরক্ষা দেওয়ার কথা দিচ্ছি না।’’ হাই কোর্ট রক্ষাকবচ না দেওয়ার পরেই তৎপর হয় ইডি। আবগারি মামলায় বিআরএস নেত্রী কে কবিতাকে দিন কয়েক আগেই গ্রেফতার করেছে ইডি।

বর্তমানে আদালতের নির্দেশে ইডি হেফাজতে রয়েছেন তিনি। কবিতা ছাড়াও এই মামলায় এখনও পর্যন্ত দিল্লির প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসৌদিয়া এবং আপের রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিংহ গ্রেফতার হয়েছেন। রয়েছেন তিহাড় জেলে। অভিযোগ ওঠে, দিল্লি সরকারের ২০২১-২২ সালের আবগারি নীতি বেশ কিছু মদ ব্যবসায়ীকে সুবিধা করে দিচ্ছিল। এই নীতি প্রণয়নের জন্য যাঁরা ঘুষ দিয়েছিলেন, তাঁদের সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছিল। আপ সরকার সেই অভিযোগ মানেনি। সেই নীতি যদিও পরে খারিজ করা হয়।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ