কলকাতা 

সোমেন মিত্রের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ কংগ্রেসের মঞ্চে আহ্বান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী রাহুলই , একা লড়াই করে কংগ্রেসের মরা গাঙে জোয়ার আনার শপথ নেতাদের

শেয়ার করুন
  • 243
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : বেশ কয়েক মাস আগে লিখেছিলাম পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেসকে যদি চাঙ্গা করতে হয় তাহলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে সোমেন মিত্রকেই বেছে নিতে হবে এআইসিসিকে । তা নিয়ে অনেক সাংবাদিক বন্ধু আমাকে কটাক্ষও করেছিলেন । কিন্ত এআইসিসি শেষ পর্যন্ত সোমেনের হাতেই প্রদেশ কংগ্রেসের দায়িত্ব দেয় । প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে বসার সংবাদ করার সময়ও আমরা লিখেছিলাম এবার কংগ্রেসের মরা গাঙে জোয়ার আসবে । এ নিয়ে এক সময়ের সোমেন মিত্রের কাছের মানুষ বলে পরিচিত বর্তমান শাসক দলের নেতা আমাকে বলেছিলেন তোষামেদের সীমা রাখা উচিত । রাজ্য কংগ্রেসের মরা গাঙে কেউ জোয়ার আনতে পারবে না, যতদিন তৃণমূল ক্ষমতায় থাকবে ।

কিন্ত সোমেন মিত্র প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হওয়ার পর আজই প্রথম সভার ডাক দিয়েছিল কলকাতার রানী রাসমণি রোডে । কাতারে কাতরে কংগ্রেস কর্মীরা উপস্থিত হয়েছিল আজকের সভায় । সভা ডাকা হয়েছিল আগেই কিন্ত তিন রাজ্যে কংগ্রেসের বিজয়ে সভাটি বিজয় সভা হয়ে যায় । আজকের সভায় যেমন লোক সমাগম হয়েছে ; একইভাবে লক্ষ্য করা গেছে অনেক দিন পর ঐকবদ্ধ কংগ্রেসকে । এতদিন ধরে লক্ষ্য করা গেছে , দলের প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে তীব্র মত বিরোধ । কিন্ত আজকের সভায় দেখা গেল সবাই উপস্থিত । প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি তো বলেই ফেললেন , কংগ্রেসে আজ বসন্ত এসেছে ।

উচ্ছ্বসিত হয়ে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ সোমেন মিত্রের একান্ত সহচর সরদার আমজাদ আলী তাঁর বক্তব্যে বললেন , কংগ্রেস কর্মীরা আজ রাস্তায় নেমেছে । কংগ্রেস কর্মীরা কখন রাস্তায় নামে ? যখন দেশের গণতন্ত্র বিপন্ন হয় সংহতি বিনষ্ট করার চেষ্টা হয় , তখনই কংগ্রেস কর্মীরা রাস্তায় নেমে আসে । আজ সমগ্র দেশজুড়ে গণতন্ত্র বিপন্ন সংহতি বিপন্ন তাই কংগ্রেস কর্মীরা রাস্তায় নেমে এসেছে । আর কংগ্রেস কর্মীরা নামার সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র দেশজুড়ে অশুভ শক্তি বিদায় ‍নিতে শুরু করেছে । তিনি আরও বলেন , গনতন্ত্রের নামাবলী গায়ে দিয়ে কিছু ব্যক্তি গণতন্ত্রের বড়াই করে । কিন্ত দুঃখের বিষয় তাদের আমলেই সবচেয়ে বেশি গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে । গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে ।

তাই মোদীর স্বৈরাচারিতার বিরুদ্ধে কংগ্রেস কর্মীরা যেমন লড়াই করবে একইভাবে বাংলার স্বৈরাচারি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে । কংগ্রেস কর্মীরা এ রাজ্যেও গনতন্ত্র , সংহতি ও সম্প্রীতি রক্ষার স্বার্থে রাস্তায় নেমে এসেছে । এবারও এখানেও পরিবর্তন আসবে , আসতেই হবে কারণ কংগ্রেস কর্মীরা রাস্তায় নেমেছে বলে সরদার আমজাদ আলী মন্তব্য করেন।

এদিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, মোদী বলেছিলেন কংগ্রেস মুক্ত দেশ করবেন। আর গতকাল তিনটি বিজেপি শাসিত রাজ্যে ক্ষমতা পাওয়ার পরও  রাহুল গাঁধী বলেছেন বিজেপিকে হারাবার কথা ,কিন্তু বিজেপি মুক্ত ভারত গড়ার কথা বলেননি। একেই বলে গণতন্ত্র।

প্রদেশ সভাপতি আজকের সভায় ভিড় দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন , ভারতবর্ষে স্বৈরতন্ত্রের কোনও জায়গা নেই।  যে পরিবারের ৩জন মানুষ দেশের জন্যে প্রাণ দিয়েছেন, যে পরিবারকে দেশের জনগণ ভালোবাসে সেই পরিবারের বিরুদ্ধে পরিবার তন্ত্রের অভিযোগ মানুষ মেনে নেবে না । সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে যেভাবে রাহুল গান্ধী এবং তার পরিবারকে আক্রমণ করা হয়েছে ; এমনকি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকেও কটাক্ষ করেছেন তারপরও সাধারণ মানুষ আজ কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছে । সুতরাং গান্ধী পরিবারের প্রতি এখনও দেশের মানুষের আস্থা আছে এবং বিশ্বাস আছে ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে প্রদেশ সভাপতি বলেন, আজ যখন গোটা দেশের মতোই রাজ্যের মানুষ কংগ্রেসের জয়ে আনন্দ করছে, তখন পশ্চিমবঙ্গের শাসক ঘরে বসে ডুকরে কাঁদছে— হায়, আমাকে কেন নেতা হিসেবে গ্রহণ করল না দেশ! এরপর সোমেনের বক্তব্য, একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মহিলা হওয়া সত্ত্বেও রাজ্যে মহিলাদের উপর নিপীড়ন, নিগ্রহ বেড়েই চলেছে। এটা লজ্জার ।

এদিনের সভায় এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক ও রাজ্য কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক গৌরব গগৈই বলেন ,, ‘২০১৯-এ দিল্লিতে আমরা ক্ষমতায় আসছি একইভাবে রাজ্যেও কংগ্রেস ক্ষমতায় আসবে। আপনারা সংঘবদ্ধ থাকুন। বুথস্তরে সংগঠনে জোর দিতে হবে ।’

এদিনে সভা থেকে প্রদেশ কংগ্রেস নেতারা দাবি করেন, তারা আগামী লোকসভা নির্বাচনে একাই লড়াই করবে । এদিনের সভায় বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান , সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য , এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক গৌরব গগৈই , দীপা দাশমুন্সি, শংকর মালাকার , আবু হাসেম খান চৌধুরি , সাংসদ মৌসম বেনজির নুর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।

 


শেয়ার করুন
  • 243
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment