কলকাতা 

ভবানীপুরের মৃত ওষুধ ব্যবসায়ীর বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী, ক্রিমিনালদের কড়া শাস্তির ব্যবস্থা হবে আশ্বাস মমতার

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক :  কর্মসূচি বাতিল করে শিলিগুড়ি থেকে দ্রুত ফিরেই নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে মৃত ব্যবসায়ীর বাড়িতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বিকেল চারটে নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছন মৃত ব্যবসায়ী ভাবিয়া লাহানির বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে একান্ত আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, অপরাধীরা কেউ ছাড়া পাবে না। প্রত্যেকের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

পরে সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যেভাবে ওষুধ ব্যবসায়ীর দেহ লোপাট করা হয়েছিল, তাতে স্পষ্ট ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। অপরাধীদের কাউকে রেয়াত করা হবে না।”

Advertisement

গত কয়েকদিন ধরেই নিখোঁজ ছিলেন ভবানীপুরের ব্যবসায়ী ভাবিয়া লাহানি। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে বুধবার সকালে ওই ব্যবসায়ীর অংশীদার অনির্বাণ গুপ্তর নিমতার বাড়ির জলের ট্যাঙ্কের নীচ থেকে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ইতিমধ্যে অনির্বাণকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে তার এক সহযোগীকেও।

এদিন সকালে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল। তিনি বলেন, “পুলিশ তদন্তে নেমে প্রধান দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। আর কে বা কারা জড়িত রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার মিটিং-এর জন্য যাচ্ছেন বলে ভাবিয়া লাহানি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। দুপুর ৩ টে নাগাদ শেষবার তাঁর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কথা হয়েছিল। তারপরই মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের তরফে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। বালিগঞ্জ থানার পুলিশ এবং লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।

সোমবার গভীর রাতে পুলিশ নিহত ব্যবসায়ীর বিজনেস পার্টনারের বাড়িতে তল্লাশি করতে যায়। সেখানেই জলের ট্যাঙ্কের একেবারে নীচে মেলে মৃতদেহ। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, মাথায় জোরালে আঘাত করে ওই বাড়িতেই ব্যবসায়ীকে খুন করা হয়েছে। জেরায় খুনের কথা স্বীকারও করেছেন অনির্বাণ। এরপর বস্তাবন্দি দেহ লুকানোর জন্য জলের নীচে রেখে রাতারাতি সিমেন্ট, বালি দিয়ে গাঁথনি করে দেওয়া হয় বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে সেই গাঁথনি ভেঙে ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রের খবর, ভাবিয়া লাহানি অভিযুক্ত অনির্বাণের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা পেতেন। সেই সূত্রেই গত সোমবার ওই ব্যবসায়ীকে অনির্বাণ নিজের বাড়িতে ডেকেছিলেন। আর সেখানেই প্রথমে বিবাদ এবং পরে তাঁকে বাড়ির মধ্যেই খুন করা হয়। ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরে খুন বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ