দেশ 

CAA লাগুর বিরুদ্ধে অসম জুড়ে বিক্ষোভ অগ্নিগর্ভ উত্তর পূর্বাঞ্চল, পদত্যাগের হুমকি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার লোকসভা নির্বাচনের মুখে বেকায়দায় বিজেপি!

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : লোকসভা ভোটে বাংলা কোচবিহার আলিপুরদুয়ারে নিজেদের সাফল্য পেতে সি এ এ তড়িঘড়ি চালু করতে গিয়ে বিজেপি বেকায়দায় পড়ে গেল। গতকাল রাত থেকেই CAA চালু করার প্রতিবাদে অসম জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে আর এই বিক্ষোভের জেরে বিভিন্ন জায়গায় জনজীবন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শুধু অসম তা নয় সমগ্র উত্তর পূর্বাঞ্চলে রাজ্যগুলিতে এই বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে।

আর অসমের পরিস্থিতি তো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে শেষ পর্যন্ত অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মাকে বলতে হয়েছে যে CAA কে কাজে লাগিয়ে যদি একজনও বাঙালি হিন্দু নাগরিকত্ব পাই তাহলে আমি পদত্যাগ করব। অর্থাৎ অসমের যে সমস্যা ভূমিপুত্র বনাম বাঙ্গালীদের যে সমস্যা নতুন করে আবার সংঘাত শুরু হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের মুখে যে উত্তর পূর্বাঞ্চলকে নিয়ে মোদি সরকার বা বিজেপি অনেকটা নিশ্চিন্তে ছিলেন তা যে আর নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন না আজকের ঘটনা তা স্পষ্ট হয়েছে।

Advertisement

সোমবার বিকেলে সিএএ কার্যকর হওয়ার ঘোষণা হতেই অসমের (Assam) নানা এলাকায় শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (Citizenship Amendment Act) কার্যকর হওয়াকে অসমের ইতিহাসে কালো দিন বলে অভিহিত করেছেন অসম জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট লুরিনজ্যোতি গগৈ। তাঁর কথায়, সর্বানন্দ সোনওয়াল এবং হিমন্ত বিশ্বশর্মা- রাজ্যের দুই মুখ্যমন্ত্রী দিল্লির কাছে ভিক্ষা চেয়েছেন আর তার পরে এই আইনে সমর্থন করেছেন। অসমের ভূমিপুত্রদের বিরুদ্ধে তাঁরা যে অন্যায় করেছেন, সেই জন্য চিরকাল অসম তাঁদের ভিলেন হিসাবেই মনে রাখবে। অসমের ১৬টি বিরোধী দলের জোট ইউওএফএ সাফ জানিয়েছিল, সিএএ কার্যকর হওয়ার পরদিন থেকেই রাজ্যজুড়ে বন্ধ-হরতাল শুরু হবে। ঘেরাও করা হবে জনতা ভবন।

অসমে এই বিক্ষোভের মূলে রয়েছেন সেখানকার ভূমিপুত্ররা। তাঁদের আশঙ্কা CAA-র অধীনে যদি বাঙালি হিন্দুরা নাগরিকত্ব পেয়ে যান, তাহলে অসমের ভুমিপুত্ররাই সেরাজ্যে সংখ্যালঘু হয়ে যাবেন। অসমে ইতিমধ্যেই NRC চালু হয়েছে। NRC-র মাধ্যমে প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষ ‘ডি ভোটার’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ১৩ লক্ষ হিন্দু বাঙালি। সিএএ চালু হলে এরা নাগরিকত্ব পেয়ে যেতে পারেন। সেই আশঙ্কাতেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ভূমিপুত্ররা।

সেই ভুমিপুত্রদের আশ্বস্ত করতে মঙ্গলবার শিবসাগরে গিয়ে হিমন্ত বললেন,”ভুমিপুত্রদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। আমি নিজেও অসমের ভুমিপুত্র। যদি এমন একজনও নাগরিকত্ব পায় যারা এনআরসিতে আবেদন করেনি, তাহলে আমি পদত্যাগ করব।” আসলে যে শিবসাগরে হিমন্ত এ কথা বলছেন, আহম, মটক, মরানদের আধিক্য রয়েছে।

কিন্তু সিএএ আইন বলছে বাংলাদেশ পাকিস্তান আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিমরা সকলেই এদেশের নাগরিকত্ব পাবে। যদি তাই হয় তাহলে অসমের বঞ্চিত হিন্দু বাঙালিরা যারা এনআরসির মাধ্যমে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছিল তাদের নাগরিকত্ব কোনোভাবেই আটকানো যাবে না। মোদি সরকারের রাজনৈতিক চমক যে তাদেরই বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে সে দিকটা খতিয়ে দেখেননি অমিত শাহ বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ