দেশ 

রাজধানী দিল্লির রাজপথে বসে নামাজ! ক্রোধে নামাজিকে লাথি মারলেন পুলিশ অফিসার! স্বাধীন দেশে এই দৃশ্য দেখতে হচ্ছে!

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক :  রাজধানী দিল্লি শহরের বুকে এক নাগরিককে নামাজ পড়ার অপরাধে পুলিশ লাথি মারছে এই ঘটনা হয়তো ব্রিটিশ আমলেও কল্পনা করা যেত না কিন্তু মোদি সরকারের আমলে সবটাই বাস্তব বলে মনে হচ্ছে। শুক্রবার ছিল জুম্মার নামাজ মসজিদে মুসল্লী ভরে যাওয়ার কারণেই রাস্তার উপরে বসে পরের কিছু নামাজী। দিল্লির ব্যস্ততম রাস্তায় বসে কেন নামাজ পড়ছে এই অভিযোগ তুলে কয়েকজন পুলিশ কর্মী এসে তাদের সরিয়ে দেয় ঠিক সেই সময় এক পুলিশ অফিসার লাথি মেরে কয়েকজনকে সরানোর চেষ্টা করেন। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় আর তাতেই নড়েচড়ে বসে মোদি সরকার। প্রশ্ন উঠেছে স্বাধীন দেশের একজন নাগরিক রাস্তায় বসে নামাজ পড়লে তাকে পুলিশের কি অধিকার রয়েছে লাথি মারার এই প্রশ্নের উত্তর মোদি সরকারকে দিতে হবে!

সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, শুক্রবার দিল্লির ইন্দ্রলোক এলাকার এক মসজিদের নমাজ পড়ার জন্য জড়ো হয়েছিলেন অনেকে। অতিরিক্ত ভিড়ের জন্য মসজিদের মধ্যে নমাজ পড়ার জায়গা পাননি, এমন মুসলিমদের সংখ্যা নেহাত কম ছিল। তাই রাস্তার ধারে বসেই প্রার্থনা শুরু করেন তাঁরা। তার জেরেই ওই রাস্তায় বিশাল যানজটের সৃষ্টি হয়।

Advertisement

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন কয়েক জন পুলিশকর্মী। তাঁরা এসেই ভিড় হটাতে শুরু করেন। অভিযোগ, সে সময়ই এক জন পুলিশ অফিসার আচমকাই প্রার্থনারত মুসলিমদের লাথি মারতে শুরু করেন। গোটা ঘটনার ভিডিয়ো মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করেন কয়েকজন পথচারী। সেই ভিডিয়োই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

পুলিশ অফিসারের ‘কীর্তি’তে নিন্দার ঝড় ওঠে। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানান অনেকেই। কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ইমরান প্রতাপগারহি ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। তিনি লেখেন, ‘‘দিল্লি পুলিশের এই কর্মী নমাজ পাঠরত মুসলিমদের একের পর এক লাথি মারতে থাকেন। ওই পুলিশকর্মীর হৃদয়ে কিসের এত ঘৃণা? দিল্লি পুলিশকে অনুরোধ করছি অভিযুক্ত পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে যথাযথ ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত করতে। পাশাপাশি তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করারও আর্জি জানাচ্ছি।’’

ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখান অনেকেই। উত্তেজনা এড়াতে ঘটনাস্থলে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে ‘তদন্তের আশ্বাস’ দেওয়ার পরেই বিক্ষোভ তোলে উত্তেজিত জনতা। দিল্লি পুলিশের এক উচ্চপদস্থ অফিসার এমকে মিনা জানান, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ