জেলা বিনোদন, সংস্কৃতি ও সাহিত্য 

৩৬ বর্ষ সাহিত্য সভায় বাংলার রেনেসাঁ পুরস্কারে পুরস্কৃত হলেন খাজিম আহমেদ

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিনিধি : বাংলার রেনেসাঁ ৩৬ তম ও লাব্বাইক মিশনের ২৬ তম সাহিত্য ও পুরস্কার বিতরণী সভা অনুষ্ঠিত হয় রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নেতড়াতে। অংশ নেন রাজ্যের বিভিন্ন জেলার সাহিত্য ও শিক্ষা প্রেমি জনতা। বার্ষিক অনুষ্ঠানকে ঘিরে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।

এদিন বাংলার রেনেসাঁ পুরস্কার প্রদান করা হয় ইতিহাসবেত্তা খাজিম আহমেদকে। তাকে স্মারক ও মানপত্র প্রদান করা হয়। সেই সঙ্গে অর্ধশতাধিক বিভিন্ন গুণী মানুষকে সমাজ ভাবনায় তাদের স্ব-স্ব অবদানের জন্য মানপত্র প্রদানের মধ্যে দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়।

Advertisement

খাজিম আহমেদ সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে বাংলা সাহিত্যের গবেষক সা’দুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বাংলার বাঙালি মুসলমানদের তথ্য সমৃদ্ধ ইতিহাস তুলে ধরার ক্ষেত্রে খাজিম আহমেদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ইতিহাস গবেষক খাজিম আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, দক্ষিণবঙ্গের আজিজুল হক এর আহ্বানে আসতে পেরে অনেক গুণী মানুষের সঙ্গে পরিচিত হলাম। তার সম্পাদিত বাংলার রেনেসাঁ পত্রিকা জনজাগরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে চলেছে। বাঙালি হিন্দুর থেকে মুসলিমরা অগ্রসর কম ছিলেন। সেই পিছিয়ে পড়া দের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কলম ধরি। তাই বলে ভাগাভাগি, ভাঙাভাগি তে নয়, অসাম্প্রদায়িক ভাবনা নিয়ে সবাইকে ভাই হিসাবে চলতে চাই।

ঔপন্যাসিক মুসা আলি বলেন, ওপার বাংলার ১৮ কোটির ১ কোটি হিন্দু সমাজের মানুষ, তারা বঞ্চনার শিকার নয়, অথচ এপার বাংলার সংখ্যালঘুরা চিরকাল উপেক্ষিত। বিখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ মুস্তফা সিরাজ সারা জীবন আনন্দবাজার পত্রিকায় চাকরি করেছেন, অথচ তার মৃত্যুর সংবাদ ওই পত্রিকায় মাত্র দু লাইন প্রকাশ হয়।

শিশু সাহিত্যিক আব্দুল করিম বলেন, আজ পর্যন্ত ১৮ টি সভ্যতার শ্রেষ্ঠ ছিল গ্রীক সভ্যতা। যার লোকসংখ্যা মাত্র কয়েক লক্ষ। আড়াই লক্ষ ক্রীতদাস নানা পরিসংখ্যানের পর পঞ্চাশ হাজার মানুষের হাতে গ্রিক সভ্যতা সুসজ্জিত হয়। নতুন পৃথিবীতে আলোকে উদ্ভাসিত করার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

কবি কৃষ্ণকলি বেরা বলেন, সকল মানুষের সেবায় আজিজুল হকের আগ্রহ তাকে স্মরণীয় করে রাখবে। বিশিষ্ট সমাজসেবী হাজি রমজান আলি বলেন, আজিজুল হক সকল মানুষকে আপন করে নিতে ভালোবাসেন।

গুণী মানুষদের বিভিন্ন আলোকপাত এর পাশাপাশি ছিল লাব্বাইক মিশনের ছাত্র-ছাত্রীদের ইসলামিক বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম। ফিলিস্তিনের উপর নাটক সবাইকে মুগ্ধ করে।

সবাইকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন বাংলার রেনেসাঁ ও লাব্বাইক মিশনের সম্পাদক আজিজুল হক। বিশিষ্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বহু গ্রন্থ শিক্ষাবিদ এম তাহেরুল হক , সমাজসেবী মহতারামা অজিফা খাতুন, অধ্যাপিকা সালেহা বেগম, শিক্ষারত্ন নুরনবী জমাদার, সমাজসেবী শাজাহান লস্কর, সাহিত্যিক ইন্সুর আলি, সমাজসেবী আব্দুল আলিম মোল্লা, কবি মনিরুজ্জামান , কবি জাহাঙ্গীর দেওয়ান প্রমুখ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ