জেলা 

সন্দেশখালিরর সাধারণ মানুষের চাপে গ্রেফতার অজিত মাইতি! সংকট মোকাবিলায় তৃণমূল নেতৃত্বের ভুল সিদ্ধান্ত বুমেরাং হতে চলেছে রাজ্যজুড়ে!

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : শেষ পর্যন্ত সন্দেশখালীর তৃণমূল নেতা অজিত মাইতিকে গ্রেফতার করলো পুলিশ। গতকাল রবিবার এই তৃণমূল নেতাকে নিয়েই উত্তপ্ত হয়েছিল সন্দেশখালীর বেড়মজুর গ্রাম। গ্রামবাসীদের তাড়া খেয়ে শাসক দলের এই নেতা কে শেষ পর্যন্ত এক সিভিক ভলেন্টিয়ার এর বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল সেখান থেকে পুলিশ উদ্ধার করে তাকে থানায় নিয়ে যায়। আজ সোমবার সকালে অজিত মাইতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করল পুলিশ।

অজিতকে রবিবার আটক করে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের হাত থেকে উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তাঁকে রবিবার মিনাখাঁ থানাতেই রাখা হয়েছিল। সোমবার গ্রেফতারির পর অজিতকে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় মিনাখাঁ হাসপাতালে। তার পর আবার থানায় আনা হয়েছে তৃণমূল নেতাকে। সোমবারই তাঁকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে হাজির করাবে পুলিশ।

Advertisement

শনিবারের পর রবিবারও সন্দেশখালিতে গিয়েছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক এবং সুজিত বসু। তাঁরা বেড়মজুরের একটি হরিনাম সংকীর্তনের আসরে ছিলেন। ওই এলাকায় অজিতকে দেখে তাড়া করেন গ্রামবাসীদের একাংশ। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন মহিলা।

তাড়া খেয়ে নিকটবর্তী একটি বাড়ির দরজা খোলা পেয়ে সেখানে ঢুকে পড়েন অজিত। ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। ওই বাড়ির মালিক সেই মুহূর্তে বাইরে ছিলেন। অজিত তাঁকেও বাড়িতে ঢুকতে দিচ্ছিলেন না বলে অভিযোগ। অজিতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেড়মজুরে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বাড়ির ভিতরে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। বাইরে তাঁকে ধরতে জড়ো হয়েছিলেন মারমুখী গ্রামবাসীরা। বাড়ির মালিক দরজার সামনেই ছিলেন, ভিতরে ঢুকতে পারছিলেন না। তিনি জানান, তিনি স্নান করতে বেরিয়েছিলেন। তাঁর নিমন্ত্রণ আছে। স্নান সেরে পোশাকটুকুও পরতে পারছেন না।

ইতিমধ্যে এলাকায় আসে পুলিশ। তাদের অনুরোধ সত্ত্বেও সেখান থেকে গ্রামবাসীদের সরানো যাচ্ছিল না বলে অভিযোগ। একসময় ভয়ে কেঁদেও ফেলেন অজিত। বলেন, ‘‘দাদা, দরজা খুলবেন না! ওরা আমাকে মেরে ফেলবে!’’ প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে অন্যের বাড়িতে আটকে থাকার পর অজিতকে অন্ধকারে ঘুপচি গলি দিয়ে বার করে গাড়িতে তোলে পুলিশ।

অজিতের বিরুদ্ধে এলাকায়  অত্যাচার, জমি জবরদখলের মতো অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসীরা। তিনি শাহজাহান শেখের ভাই সিরাজউদ্দীনের ঘনিষ্ঠ বলে এলাকায় পরিচিত। এক সময়ে নাকি গ্রামবাসীদের চমকে-ধমকে বেড়িয়েছেন। তাঁর গ্রেফতারির দাবিতে শনিবারও বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। রবিবার তাঁকে সামনে পেয়ে তাড়া করেন।

অজিতের বিরুদ্ধে যখন ক্ষোভের আগুন জ্বলছে বেড়মজুরে, তখন রবিবারই সন্দেশখালির অন্য একটি জায়গা থেকে মন্ত্রী পার্থ জানিয়ে দেন, দল তাঁর পাশে নেই। তাঁর পদও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীর কথায়, ‘‘অন্যায় করলে তো রাগের বহিঃপ্রকাশ হবেই।’’

সন্দেশখালীর ঘটনাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যেভাবে একের পর এক তৃণমূল নেতৃত্ব ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তাতে আগামী দিনে তার খেসারত তাদের দিতে হবে। যদি এই ঘটনার নিয়ন্ত্রণ করতে তৃণমূল নেতারা প্রথমেই চাইতেন তাহলে শাজাহান সেখকে গ্রেফতার করে কাজটা সহজ করে দিতে পারতেন তা কিন্তু করেননি। গ্রামবাসীরা প্রতিবাদের সরব হওয়ার পর একের পর এক যেভাবে উত্তপ্ত সন্দেশখালিকে ঠান্ডা করার চেষ্টা করছে তৃণমূল নেতৃত্ব সেটা যে বুমেরাং হবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। সন্দেশখালির ঘটনা সামনে আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বে একটা বড় কলঙ্কিত দিক সামনে এলো বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ