জেলা 

মিথ্যা অভিযোগে থানায় তুলে এনে গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ, কাঠগড়ায় খানাকুল থানার পুলিশ কর্মী, কড়া ব্যবস্থা না নিলে উত্তপ্ত হতে পারে এলাকা

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : হারিয়ে যাওয়া সোনার ব্রেসলেট লুকিয়ে রেখেছে এই সন্দেহে খানাকুলের চিংড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন মালঞ্চ গ্রামের এক গৃহবধূকে ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে। অবশ্য এই অভিযোগ সামনে আসার পরেই ওই পুলিশ কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই গৃহবধুর উপর এতটাই অত্যাচার করা হয়েছে যে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে আরামবাগের এক নার্সিংহোমে ভর্তি রয়েছে বলে সূত্রের খবর। অভিযুক্ত পুলিশকর্মীর নাম তুষার মন্ডল তিনি খানাকুল থানার অধীনস্থ চিংড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মালঞ্চ তে অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে ছিলেন।

একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্তা কিভাবে মিথ্যা অভিযোগে প্রমাণ ছাড়াই এক গৃহবধূকে বাড়ি থেকে তুলে এনে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করতে পারেন সে নিয়ে খানাকুল জুড়ে প্রশ্ন উঠেছে। সন্দেশখালীর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই যেভাবে এক পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাতে খানাকুল থানা এলাকায় যে কোন সময় উত্তাল হয়ে উঠতে পারে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

Advertisement

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে,খানাকুলের চিংড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মালঞ্চ এলাকায় খানাকুল থানার একটি পুলিশ ফাঁড়ি আছে। আর সেই ফাঁড়ির পাশেই প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওই স্কুলেই পড়ে নির্যাতিতা বধূর ছেলে। কয়েকদিন আগে স্কুলের মাঠে ভলিবল খেলা হচ্ছিল। অভিযোগ, মাঠেই এক পুলিশকর্মীর সোনার ব্রেসলেট হারিয়ে যায়। পুলিশকর্মী গৃহবধূর ছেলেকে সন্দেহ করেন। গয়না ফেরতের দাবিতে স্কুলছাত্রের মাকে টেনেহিঁচড়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলেই অভিযোগ।

বধূর পরিবারের লোকজনের দাবি, বুধবার অর্থাৎ একুশে ফেব্রুয়ারি বিকাল তিনটে নাগাদ তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ১১ ঘন্টা পর অর্থাৎ রাত ২টো নাগাদ অর্ধমৃত অবস্থায় বাড়িতে দিয়ে যান তুষার মণ্ডল নামে এক আধিকারিক। শাড়ির আঁচলে চিকিৎসা করানোর জন্য ১ হাজার টাকা বেঁধে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।

ভুয়ো অভিযোগে পুরুষ পুলিশকর্মী কীভাবে একজন মহিলাকে তুলে নিয়ে যান, সেই প্রশ্ন তোলেন নির্যাতিতার পরিজনেরা। ওই রাতেই মহিলাকে প্রথমে খানাকুল গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় আরামবাগের এক নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়। পুলিশের নির্মম অত্যাচারের আতঙ্কিত বধূর পরিবারের লোকজন। তাঁর কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। যদিও ওই পুলিশকর্মীকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে।

এলাকার মানুষের দাবি পুলিশ কর্মীকে সাসপেন্ড করলেই হবে না তার কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনই কড়া ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আগামী দিনে খানাকুল উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ