কলকাতা 

তৃণমূল কংগ্রেস আরএসএস –বিজেপি- হিন্দু সংহতির সঙ্গে যোগ সাজশে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় প্রতীক , ভাষা ,অনুষঙ্গ যুক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনীতির ধর্মীয় করণ , মেরুকরণকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ; এখন সময়ের দাবি হলো – সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক মানুষের এক ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস । রাজনীতির প্রয়োজনে মানুষ নয় , মানুষের প্রয়োজনে রাজনীতি ; আর জাতীয় কংগ্রেসই মানুষের স্বার্থে কাজ করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস : ড. আবদুস সাত্তার

শেয়ার করুন
  • 43
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সব জল্পনা- কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মন্ত্রীসভার সদস্য ড.আবদুস সাত্তার আজ জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিলেন । জাতীয় কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য  ও পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক গৌরব গগৈ ও প্রদেশ সভাপতি সোমেন মিত্র সহ রাজ্য কংগ্রেসের নেতারা তাঁকে কংগ্রেস দলে স্বাগত জানান । তিনি কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পরেই বাংলার জনরব নিউজ পোর্টালের পক্ষ তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় ।আমাদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি একটি লিখিত বিবৃতি পাঠান । সেই বিবৃতিটি হুবহু তুলে ধরা হলো :  

প্রশ্ন : লোকসভা নির্বাচনে প্রাক্কালে আপনি হঠাৎ রাজনৈতিক মঞ্চে উপস্থিত হলেন । বাম রাজনীতি ছেড়ে সরাসরি ডানপন্থী রাজনীতিতে আপনি যোগ দিলেন । আবার রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলে নয় , যোগ দিলেন কংগ্রেসে ।

এই মূহুর্তে পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস কমিটির সাংগঠনিক অবস্থা খুব একটা ভাল নয় । তবু অন্যদলে না গিয়ে কংগ্রেসে কেন ?

 ড. আবদুস সাত্তার : এক . আপনারা সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদপত্র সূত্রে অবগত আছেন যে , আমি বিগত ২০১৭ সালের এপ্রিল মাস থেকে কোনো রাজনৈতিক দল ,রাজনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না । কেন এবং কী কারণে তার অনেকাংশই আপনাদের নিউজ পোর্টালে আপনার সঙ্গে ধারাবাহিক সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তা প্রকাশিত হয়েছিল।

দুই . আরএসএস- বিজেপি-এর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের এই সময়কালে রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় রাজনৈতিক হিন্দুত্বকে সামনে রেখে ধর্মীয় পুরাতত্ব ও গাথার সংমিশ্রণে এক নতুন ভারত নির্মাণের প্রচেষ্টা জোর কদমে চলছে । দেশের সাংবিধানিক পীঠস্থানগুলিও আজ এই মতাদর্শের নির্মমতায় ভীষণভাবে আক্রান্ত ! আর তা হচ্ছে সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের ছদ্মবেশে ।

তিন . স্বঘোষিত ধর্মরক্ষক, গোরক্ষকরা দেশের আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে অসহায় জনতাকে বিশেষত মুসলিম, দলিত ও আদিবাসীদের নির্মমভাবে শাসন করে চলেছে । মন্ত্রী-সাংসদরা তাদের সংবর্ধিত করছেন । ‘ মব লিন্চিং ‘- এর অসহায় শিকার মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ ।

চার . আরএসএস –বিজেপি তাদের নির্মিত এই ‘ নতুন ভারত‘-এ সংখ্যাগরিষ্ঠের হৃদয়ে অস্তিত্বের বিপন্নতার বিষয়টিকে ঘৃণা ,ভয়ের আকারে প্রবেশ করিয়ে দিতে সমর্থ হয়েছে । ‘ সংখ্যাগরিষ্ঠের পরিচিতি বিপন্ন ‘ এই শ্লোগানকে ব্যবহার করে দেশের ধর্মীয় , সামাজিক, রাজনৈতিক পরিমন্ডলকে এক ভয়ঙ্কর সর্বনাশা পথে নিয়ে যাওয়া যে সম্ভব তা ইতোপূর্বে কখনো কল্পনাই করা যেত না । উন্নয়নহীন উন্নয়নের নামাবলী পরিয়ে শাসককূল সমস্ত জনবিরোধী নীতিগুলিকে সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ , দেশপ্রেমের মোড়কে দেশবাসীর সামনে ‘ বৈধ ‘ করার চেষ্টা করছে ।

পাঁচ . ২০১৪-এর ‘ আচ্ছে দিন ‘-এর প্রতিশ্রুতি সব এখন উধাও । আবারও ধর্মীয় বিভাজন, বিভাজনের রাজনীতি । দেশব্যাপী কৃষকের আত্মহত্যা , বছরে ২ কোটি চাকরি , রাফাল দূনীর্তি, ঋণ-খেলাপী , সিবিআই , আরবিআই , নোটবন্দী , জিএসটি , তেলের দামবৃদ্ধি , নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি , শিল্পের বেহাল দশা , উত্তপ্ত কাশ্মীরের মতো গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলি এখন  অযোধ্যায় রাম-মন্দির , মূর্তি নির্মাণ , মুসলিম নাম ও অনুষঙ্গযুক্ত শহর , ষ্টেশনের নাম পরিবর্তন , গো –সন্ত্রাসের শত সহস্র বুলির বিঞ্জাপনে ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা জোর কদমে চলছে । সোচ্চারে ঘোষণা করা হচ্ছে যদি কারো সাধ্য থাকে তবে রোধ করে দেখাও ।

 

ছয় . অপরদিকে , তৃণমূল কংগ্রেস আরএসএস –বিজেপি- হিন্দু সংহতির সঙ্গে যোগ সাজশে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় প্রতীক , ভাষা ,অনুষঙ্গ যুক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনীতির ধর্মীয় করণ , মেরুকরণকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে । প্রথমে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ক্ষেত্রে , অতঃপর সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সম্প্রদায়কে ‘ তোষণের ‘ খেলায় এই সরকার মত্ত হয়ে উঠেছে যা ইতোপূর্বে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে কখনো ভাবাই যেত না ।

সাত .  শুধু তাই নয় , তৃণমূল কংগ্রেস ধ্বংস করছে রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশ , শিক্ষাঙ্গন,শিল্প , নারীর নিরাপত্তা , সংস্কৃতি ,প্রতিবাদের ভাষা ও কণ্ঠস্বরকে । মানুষে –মানুষে বিশ্বাস , ভালোবাসা, চিরায়ত মানবিক মূল্যবোধের মতো বিষয়গুলিকেও হরণ করে চলেছে । পরিণতিতে ‘অবিশ্বাস ‘ পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও রাজনৈতিক মানচিত্রে দীর্ঘস্থায়ী রূপ পাচ্ছে । মনে রাখতে হবে , তৃণমূল সরকারের এই আট বছরের কাজ কর্মে মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িক শক্তি এই রাজ্যে এক ভয়ঙ্কর সর্বনাসা বিপদ হিসাবে হাজির হয়েছে । এর ফলে সংখ্যালঘু , দলিত সর্বোপরি কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের রুজি-রুটির লড়াই-আন্দোলন, নিরাপত্তার বিষয়টি আজ এক বড়ো প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়েছে ।

আট .  এখন সময়ের দাবি হলো – সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক মানুষের এক ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস । রাজনীতির প্রয়োজনে মানুষ নয় , মানুষের প্রয়োজনে রাজনীতি । যে- প্রয়াস , যে- রাজনীতি ধর্মীয় ও সামাজিক বিভাজনের রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে মানুষের ঐক্যকে সুপ্রসারিত করবে । সর্বভারতীয় কংগ্রেস সভাপতি শ্রী রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সেই প্রয়াসে বিজেপি বিরোধী সমস্ত শক্তি ভেদাভেদ ভুলে এক মঞ্চে আসীন হচ্ছেন । দেশের আপামর সাধারন মানুষও তাঁর ডাকে সাড়া দিচ্ছেন ।

উপরোক্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির মাননীয় সভাপতি শ্রী সোমেন মিত্র বিগত ৪ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে আমার বাসস্থানে সস্ত্রীক এসে ২০ মাসের রাজনৈতিক অবসর ভেঙে কংগ্রেস-এ যোগদানের অনুরোধ ও আমন্ত্রণ জানান । পরবর্তীতে সর্বভারতীয় কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ও পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক মাননীয় শ্রী গৌরব গগৈও আমন্ত্রন জানান । দেশব্যাপী পরিবেশের বাস্তবতা ও সর্বোপরি তাঁদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে সর্বভারতীয় কংগ্রেস-এ আমার আজকের এই যোগদান । এই সুযোগের জন্য সর্বভারতীয় ও প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব এবং অবশ্যই রাজ্যের কংগ্রেস কর্মীদের কাছে আমার কৃতঞ্জতা ঞ্জাপন করছি ।


শেয়ার করুন
  • 43
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment