জেলা 

উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় বিএসএফের অবৈধ পরিখা খননের ফলে ৪ শিশুর মৃত্যু: দায়িত্বে থাকা কমান্ডারের বিচারের দাবি এসডিপিআইয়ের

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : উত্তর দিনাজপুর জেলার দাসপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন চেতনাগাছ গ্রামে বিএসএফ-এর ভয়ঙ্কর পরিখা খননের ফলে ১২ ফেব্রুয়ারি চার শিশুর প্রাণ গেছে। এর জন্য আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং শঙ্কিত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্তে, প্রকৃত সীমান্ত পাহারা দেওয়ার পরিবর্তে প্রায়শই জনবসতি এলাকায় ঘুরে বেড়ায়, কারণ, সম্মতি, ছাড়পত্র ছাড়াই বিএসএফ বেড়া তৈরি করে এবং ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে পরিখা খনন করে, যা গ্রামের মধ্য দিয়ে যায় এবং ব্যক্তিগত জমি দখল করে।

এটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের গ্রামবাসীদের কৃষিকাজ ও জীবিকা এবং সেইসাথে তাদের নিয়মিত জীবনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। বিএসএফ সদস্যরা গ্রামবাসীদের নিয়মিত হয়রানি ও অত্যাচার করে এমনকি যেখানে বিএসএফের প্রবেশ নিষেধ সেখানেও গ্রামবাসীদের বাড়ির ভিতরে ঢুকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে। বিএসএফ কে সীমান্তে অধিক ক্ষমতা দিয়ে সাধারণ মানুষের উপর চালানো নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে সোস্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া এবং এই রকম ঘটনা যেন এর পর না ঘটে তাঁর প্রতি করা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান সোস্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়ায় রাজ্য সভাপতি তায়েদুল ইসলাম।

Advertisement

তিনি আরও বলেন— পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন, ১৯৭৩-এর ধারা ১৯ (২) (এ), (ডি), এবং (এফ) অনুসারে, গ্রাম পঞ্চায়েতই একমাত্র মনোনীত কর্তৃপক্ষ যা জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বা ইউটিলিটির জন্য কোনও নির্মাণের কাজ করতে পারবে এবং যদি অন্য কোনও বিভাগ, সংস্থা, কর্তৃপক্ষ এই কাজ করার চেষ্টা করে, এটি বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য।

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিএসএফ নির্বিচারে ও বেআইনিভাবে এ ধরনের নির্মাণ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। বর্তমান ক্ষেত্রেও আমরা লক্ষ্য করেছি যে বিএসএফের কর্মীরা বিপজ্জনকভাবে চেতনাগাছ গ্রামের মধ্য দিয়ে ভারী আর্থমুভার দিয়ে একটি পরিখা খননের উদ্যোগ নিয়েছিল এমনকি কোনো সতর্কতা অবলম্বন না করেই। যার ফলে স্থানীয় চার শিশু, গোলাম মোস্তফা (৫ বছর), ইউসুফ আলী (৬ বছর), মোহাম্মদ ইসলাম (৫ বছর) এবং তালেব আলী (১২ বছর) সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সকালে ঐ জায়গায় খেলা করছিল। সেই সময় একটি আলগা মাটির ঢিবিতে তারা ঢুকে পড়ে । চারজনই চাপা পড়ে যায় । গ্রামবাসীরা তাদের অবিলম্বে উদ্ধার করে চোপড়া ডালুই হাসপাতালে পাঠান। যেখানে তাদের সবাইকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তুফানগঞ্জ ব্লকের ঝাউকুঠি এবং ধাদিয়াল এবং কোচবিহার জেলার দিনহাটা ব্লকের হরিদাসে অনুরূপ পরিখা খনন কার্যক্রম চলছে, যেখানে যথাক্রমে বিএসএফের ৬২ এবং ৯০ ব্যাটালিয়ন মোতায়েন রয়েছে। উত্তরবঙ্গের গ্রামগুলিতে বিএসএফ-এর পরিখা খননের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ বহু বছর ধরে কেন্দ্র সরকার, রাজ্য সরকার, বিএসএফ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বিচারাধীন রয়েছে। পুলিশ, বিডিও, স্থানীয় পঞ্চায়েতগুলো সশস্ত্র বিএসএফের সামনে ক্ষমতাহীন।

চারটি শিশুর এই দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুর জন্য দায়ী ১৩২ তম ব্যাটালিয়নের ‘ই’ কোম্পানির বিএসএফ সদস্যরা, যারা অবৈধভাবে গ্রামের অভ্যন্তরে পরিখা খননের একটি বিপজ্জনক প্রকল্প হাতে নিয়েছিল, এবং উপরন্তু এই উদ্যোগের সময় গ্রামবাসী এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কোন সতর্কতা অবলম্বন করেনি।

সোস্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া প্রথম থেকেই বিএসএফ-এর ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিল, তাঁদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করার বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে, মানুষকে সজাগ করেছে। আজ তাঁদের কর্মকান্ড প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে, সীমান্তে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ ভয়ের মধ্যে রয়েছে। সোস্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া দাবি জানায়— বিএসএফ কর্তৃক গ্রামে পরিখা খনন বন্ধ করতে হবে। ৩২ BN BSF-এর E Coy-এর কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং ৪ শিশুর হত্যার জন্য ওপেন কোর্টে পেশ করতে হবে এবং নিহত চার পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ