কলকাতা 

রেড রোডের সভা মঞ্চ থেকে রাজ্য বাজেটকে ভূয়সী প্রশংসায় ববি হাকিম

শেয়ার করুন

সংখ্যালঘুরা তৃণমূল কংগ্রেসের পাশে আছে : মোসারফ

বাংলার মসিহা মমতা ব্যানার্জি : ফারহাদ

ইসরাফিল বৈদ্য, কলকাতা :  পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় রাজ্য অর্থ বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।টানাটানির সংসারে কীভাবে বরাদ্দ এবং ঘাটতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখবেন, সেদিকেই নজর আছে অর্থনৈতিক মহলের। এমনিতেই লক্ষ্মীর ভান্ডার, কৃষক বন্ধু, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী, রূপশ্রীর মতো একাধিক সামাজিক প্রকল্পের জন্য রাজ্যকে একটা বড় অঙ্কের টাকা বরাদ্দ করতে হয়। তারইমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার একশো দিনের কাজের মজুরি ‘না দেওয়ায়’ ২১ লাখ শ্রমিককে নিজেরাই টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। আর সেটার জন্য কমপক্ষে ৩,০০০ কোটি টাকা লাগবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। বিপুল ঋণের বোঝা নিয়ে সেই বাড়তি টাকা কোথা থেকে আসবে, সেটারও উত্তর খুঁজতে হবে অর্থমন্ত্রীকে। তারইমধ্যে এবার রাজ্য বাজেটে আমজনতার জন্য একগুচ্ছ সুযোগ সুবিধা ঘোষণা করেছে।১.৫ লাখের সিভিক ভলান্টিয়ার, সিভিক পুলিশ, গ্রিন পুলিশদের ভাতা বাড়ানো হচ্ছে। ভাতা ১,০০০ টাকা বাড়বে। রাজ্য পুলিশে যুক্ত হওয়ার কোটা ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হচ্ছে। ১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ।নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য পশ্চিমবঙ্গে চারটি সুপার ক্রিটিকাল থার্মাল পাওয়ার ইউনিট তৈরি করা হচ্ছে। পিপিপি মডেলে বাস্তবায়ন করা হবে। ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে।নিউ টাউন ও বিমানবন্দরে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে মেট্রোপলিটন ও মহিষবাথানের মধ্যে চার লেনের সাত কিলোমিটার ফ্লাইওভার তৈর করা হবে। তিন বছরের মধ্যে সেই প্রকল্প শেষ করা হবে। খরচ পড়বে ৭২৮ কোটি। প্রথম বছরের জন্য ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ। রাজ্যের বিভিন্ন দফতরে প্রচুর নিয়োগ করা হবে। রাজ্য সরকারি অফিস ও রাজ্যের আওতাধীন অফিসে নিয়োগ করা হবে।দামোদরের উপর শিল্পসেতু তৈরি করা হবে। ৬৪০ মিটারের সেতু। যে সেতুর ফলে প্রচুর স্থানীয় মানুষ উপকৃত হবে। তিন বছরের মধ্যে সেতু তৈরি করা হবে। ২৪৬ কোটি আনুমানিক ব্যয়। চার লেনের সেতু তৈরি করা হবে।মুড়িগঙ্গা থেকে কচুবেড়িয়া পর্যন্ত ৩.১ কিলোমিটারের ব্রিজ তৈরি করা হবে। সেই ব্রিজের নাম হবে গঙ্গাসাগর সেতু। যে সেতুর ফলে মানুষ সহজেই গঙ্গাসাগরে যেতে পারবেন।পশ্চিমবঙ্গের যে শ্রমিকরা রাজ্যের বাইরে আছেন, তাঁরা সেখানকার হাসপাতালেও স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।মিড ডে মিলের কুক-কাম-হেল্পারদের মাসিক আর্থিক সাহায্য বাড়ছে ৫০০ টাকা। তার ফলে দু’লাখ কুক-কাম-হেল্পাররা লাভবান হবেন। অতিরিক্ত ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে।

তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পের জন্য ১০,০০০ টাকা দেওয়া হয়। দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা ট্যাব কেনার জন্য পান। এবার একাদশ শ্রেণি থেকেই সেই টাকা দেওয়া হবে। সেজন্য অতিরিক্ত ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে।

Advertisement

ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা আরও বাড়ানো হচ্ছে। কোনও কোলাট্যারল ছাড়াই ১০০ শতাংশই ঋণ দেওয়া হবে। নামমাত্র চার শতাংশ সুদ দিতে হবে। বাকি সুদ বহন করবে রাজ্য সরকার।যুবক-যুবতীদের অ্যাপ্রেন্টিস প্রকল্প। বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের সুবিধা মিলবে। মাসে মাসিক ১,৫০০ টাকা ২,৫০০ টাকা দেওয়া হবে সেই ট্রেনিদের। প্রতি বছর ১ লাখ যুবক-যুবতী লাভবান হবেন। বরাদ্দ করা হচ্ছে ২০০ কোটি টাকা।

মৎস্যজীবীদের জন্য সমুদ্রসাথী প্রকল্প চালু করা হল। দু’লাখ মৎস্যজীবী উপকৃত হবেন। ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। তিনটি জেলার (উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর) মৎস্যজীবীদের দু’মাস সেই টাকা দেওয়া হবে।২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে জেনারেল ক্যাটেগরির আওতায় মহিলারা মাসে ১,০০০ টাকা পাবেন। তফসিলি জাতি ও জনজাতিভুক্ত মহিলারা ১,২০০ টাকা পাবেন। মে মাস থেকেই সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে। সেজন্য বছরে বাড়তি ১২,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে দু’কোটির বেশি মানুষের জীবিকার সংস্থান কমেছে। তার ফলে দারিদ্র্যসীমার নীচে থাকা মানুষ ৮.৬ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের আমলে ৪৯ শতাংশ কমেছে। ১.৭২ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার হাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

প্রত্যাশা মতোই ভাতা বাড়ল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে। এতদিন মাসিক ৫০০ টাকা দেওয়া হত। এবার সেটা বেড়ে দাঁড়াল ১,০০০ টাকা। অর্থাৎ জেনারেল ক্যাটেগরির মহিলারা ১,০০০ টাকা করে পাবেন। সেখানে তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতিদের মাসিক ভাতা বেড়ে দাঁড়াল ১,২০০ টাকা। যা আগে ১,০০০ টাকা ছিল।

বৃহস্পতিবার সপ্তম দিনে রেড রোডের ধর্না মঞ্চ থেকে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে তীব্র কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম দিনের বিশ্বস্ত সহকর্মী তথা কলকাতা পুরসভার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম। তিনি রাজ্য বাজেটের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি শ্রী সুব্রত বক্সী ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আয়োজক কমিটির সদস্যদের। সহ-সভাপতি শ্রী জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন এভাবেই ময়দানে থেকে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা মানুষের জন্য কাজ করে যাবে।বৃহস্পতিবার ধর্না মঞ্চের অন্যতম সংগঠক সংখ্যালঘু তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন বাস্তবে দেখা যায়।তাই বাংলার আপামর মানুষের সাথে সাথে সংখ্যালঘুরা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আছে। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাদ্রাসা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন এর রাজ্য সভাপতি একেএম ফারহাদ বলেন মা মাটি মানুষের দলকে শক্তিশালী করতে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ।

বৃহস্পতিবার ধর্না মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখেন সাংসদ সুনীল মন্ডল,মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী,বীরবাহা হাসদা,জ্যোৎসনা মান্ডি,এসসি সেলের তাপস মন্ডল, সংখ্যালঘু ফরিদ খান, এহতেশামুল হক, বিজলী রহমান, নওসাদ আলম প্রমুখ।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ