কলকাতা 

মাধ্যমিক পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনেও প্রশ্নপত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে ছয় পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করলো পর্ষদ, মোবাইল নিয়ে কিভাবে ঢুকলো পরীক্ষা কেন্দ্রে?

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিনিধি : মাধ্যমিক পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গেল সমাজের মাধ্যমে। এদিন ছিল ইংরেজি পরীক্ষা, পরীক্ষা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ইংরেজি প্রশ্নপত্র ভাইরাল হয়ে যায়। কিভাবে এই প্রশ্নপত্র সামনে এলো তা নিয়ে তদন্ত শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর জানা যায় গতকালের মতো আজও মালদহ জেলা থেকেই এই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ৬ জন পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।

এই ছয়জনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে বলে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে এত নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কিভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাচ্ছে? কিউ আর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে সমস্ত তথ্য সামনে এলেও প্রশ্নপত্র ফাঁস কিন্তু রোখা যাচ্ছে না ! পর্ষদ সূত্রে এ-ও জানা গিয়েছে, ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচতে কৌশল করে প্রশ্নপত্রে থাকা কিউআর কোড লাল কালি দিয়ে কেটে দিয়েছিল অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীরা। তবে তাতে লাভ হয়নি। কিউআর কোডের উপর থাকা লাল কালি মুছে ওই ছয় পরীক্ষার্থীকে চিহ্নিত করেছে পর্ষদ। তাদের সব পরীক্ষা বাতিলও করা হয়েছে।

Advertisement

শনিবার ইংরেজি পরীক্ষা চলাকালীন সমাজমাধ্যমে যে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে, তাতে কিউআর কোড ছিল। মালদহের অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীরা লাল কালি দিয়ে সেই কিউআর কোড ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিশেষ প্রযুক্তিতে তা মুছে ফেলে পর্ষদ। এর পর কিউআর কোড স্ক্যান করে পর্ষদের কর্মীরা জানতে পারেন, কোন জায়গার কোন পরীক্ষার্থীর হাতে ওই প্রশ্নপত্র পড়ে। কারণ, ওই কোডে যে সিরিয়াল নম্বরটি ‘এনক্রিপটেড’ রয়েছে, সেই কোড দেখেই বোঝা যায়, প্রশ্নপত্রটি কোন জেলায় গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, কোন স্কুলে ওই প্রশ্নপত্র গিয়েছিল, তা-ও জানা যায় সিরিয়াল নম্বর থেকে। তার পর স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গিয়েছে, কোন পরীক্ষার্থীর হাতে সেই প্রশ্নপত্র পড়েছিল।

মাধ্যমিক শুরুর প্রথম দু’দিনেই পরীক্ষা চলাকালীন প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের শিক্ষা মহলের একাংশ। তবে পুরো বিষয়টি চক্রান্ত বলেই মনে করছেন মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘‘যারা এই কাজ করছে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই করছে। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। যেমনটা বাংলা পরীক্ষার সময়েও করা হয়েছিল। বিষয়টা আমরা খতিয়েও দেখছি। তার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব পরীক্ষার্থী মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। শুধুমাত্র মালদহ জেলা থেকেই কেন এমনটা হচ্ছে তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। কিউআর কোড মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে মানে স্পষ্ট যে, সচেতন ভাবেই করছে। এটা স্বাভাবিক নয়। মনে হয় বড় চক্রান্ত চলছে।’’

পর্ষদ সভাপতি যাই বলুক না কেন এ কথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে প্রশ্নপত্র সমাজ মাধ্যমে বেরিয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কিভাবে পরীক্ষার্থীরা মোবাইল নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকেছিল? তাদেরকে ঢোকার অনুমতি কারা দিয়েছিল? সেই নিয়ে তদন্ত না করে কিভাবে ছাত্রগুলিকে চিহ্নিত করার পর তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে পর্ষদ। তাহলে কি দায়  এড়াচ্ছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ?


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ