কলকাতা 

শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধিৎসু করে তোলা এবং তাদের সঙ্গে মিশতে পারাই শিক্ষকের মূল কাজ : অনুসন্ধানের বার্ষিক আয়োজনে রাশিবিজ্ঞানী বিমল রায়

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিনিধি : ২০১৮ তে শুরু পথ চলা। কাজের ধরনে খুশি হয়ে ‘অনুসন্ধান’ নামকরণ করেন বিজ্ঞান সাধক সমর বাগচী। এবার অনুসন্ধান-এর চতুর্থ বর্ষীয় সাধারণ সভায় থাকতে পারলেন না তিনি। তাঁকে এবং শিক্ষা সমাজের আর এক পরম সাধক মিহির সেনগুপ্তকে স্মরণ করে মঙ্গলবার অনুসন্ধানের উদ্যোগে শুরু হয় সভার কাজ। এবারের সভাস্থল ছিল ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউট।

অনুষ্ঠানের সূচনা করেন ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন অধিকর্তা তথা বিশিষ্ট রাশিবিজ্ঞানী পদ্মশ্রী বিমল রায়। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা গড়ে তুলতে শিক্ষকদের ভাবতে হয় নানাভাবে। অনেক সময়েই অতি সাধারণ ঘটনা দিয়ে তাদেরকে উৎসাহিত করে তোলা যায় মূল পাঠ্যবস্তুর অভ্যন্তরে। এ সম্পর্কে তিনি কিছু ঘটনার উদাহরণও দেন। তিনি বলেন, শিক্ষকরা পড়ুয়াদের সঙ্গে যত সহজে মিশে যেতে পারবেন, ততই তাদের মধ্যে দেওয়া-নেওয়ার অনুপাত-ও সঠিক দিকে এগোবে।

Advertisement

এদিনের বৈঠকে আলোচ্য বিষয় ছিল, শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রসার ও উৎকর্ষ সাধন। আলোচনার সূত্রপাত করেন অনুসন্ধান কলকাতার সভাপতি এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও পাঠভবন ডানকুনির প্রধান শিক্ষক ড. দেবব্রত মুখোপাধ্যায়। বিষয়ের উপর বিস্তারিত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শিক্ষা সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট জনেরা। অধ্যাপক সুমিত্র পুরকায়স্থ, বিশ্বনাথ দাশগুপ্ত, প্রশান্ত বসু, সঙ্গীত হালদার, দিলদার হোসেন, উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, আইনুল হক, রফিক মির, ড.উজ্জ্বলা সাহা রায়, গৌরাঙ্গ সরখেল, আঞ্জুমান বানু, মিতালী মুখার্জী, দীপ্তি দাস, আখের আলী সর্দার, রাখি সরখেল, শুভজিৎ মাইতি প্রমুখ।

শিক্ষা সংস্কৃতির অঙ্গনে অনুসন্ধানের কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা করেন নাফিসা ইসমাত। আগামীতে সমাজের প্রয়োজন ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আমাদের চিন্তাভাবনা নিয়ে মূল্যবান মতামত প্রদান করেন উপস্থিত আলোচকেরা। এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন অনুসন্ধানের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয় বেশ কিছু কর্মসূচি। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেওয়া হয় বিভিন্ন দিবস উদযাপনের পরিকল্পনা। ভাষা দিবস, বিশ্ব পরিবেশ দিবস, শিক্ষক দিবস, পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিন, গণিত দিবস উদযাপন এবং আগামী বইমেলায় শিক্ষার্থী উৎসব। এছাড়াও নেওয়া হয় শিক্ষা অঙ্গনে বেশ কিছু পরিকল্পনা। আগামী বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রতি মাসে থাকবে পরীক্ষা, মূল্যায়ন ও পুরস্কার প্রদান, কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে থাকবে টপার্স প্রোগ্রাম, জেলার প্রান্তিক ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশিষ্ট গুণীজনদের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকার মূলক অনুষ্ঠান, হাতে কলমে বিজ্ঞান, মেধা অন্বেষা, আগামী বছরের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকদের জন্য প্রশ্ন ব্যাংক, শিক্ষক ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম ইত্যাদি।

এদিনের সভায় পৌরোহিত্য করেন বিশিষ্ট শিক্ষা আধিকারিক ও লেখক দিব্যগোপাল ঘটক। তিনি সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উদ্দেশ্য করে বলেন নতুন শিক্ষানীতিকে মাথায় রেখে শিক্ষাদানে আরো যত্নবান হতে হবে এবং বিশেষ করে শিক্ষার্থীর যথাযথ বিকাশের দিকে আরও বেশি নজর দিতে হবে। অনুসন্ধানের গৃহীত কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন এ বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে যত রকমের সহযোগিতা প্রয়োজন তা নিশ্চিত ভাবে থাকবে। আগামী দিনে শিক্ষার গতিপ্রকৃতি নিয়ে সকলকে আরো গভীরভাবে চিন্তা করতে তিনি অনুরোধ জানান।

উপস্থিত সকলকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে অনুসন্ধান কলকাতার মুখ্য উপদেষ্টা বিজ্ঞানী মতিয়ার রহমান খান আগামী দিনে সকলকে আরো সুসংগত ও পরিকল্পনা মাফিক এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষক নায়ীমুল হক।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ