দেশ 

নীতিশ কুমারের রাজনৈতিক জীবনের সূর্য অস্তমিতের পথে!

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : জয় প্রকাশ নারায়ণ এবং কর্পুরি ঠাকুরের দুই প্রধান শিষ্য লালুপ্রসাদ যাদব এবং নীতিশ কুমার। বিহারের রাজনীতিতে তো বটেই ভারতের রাজনীতিতে এই দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সব সময় খবরের শিরোনামে থাকেন। এরা দুজনই সমাজবাদে বিশ্বাস করেন। এদের রাজনৈতিক উত্থানের নেপথ্যে ছিল সামাজিক এক সমীকরণ। দলিত পিছিয়েবর্গ এবং সংখ্যালঘু সমাজের কাছে এরা ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব অন্তত বিহারে।

লালু প্রসাদ যাদব পশু খাদ্য কেলেঙ্কারির আগে পর্যন্ত বিহারের রাজনীতিতে শেষ কথা বলতেন। কংগ্রেসের শেষ মুখ্যমন্ত্রী জগন্নাথ মিশ্রের জামানা শেষ হওয়ার পর শুরু হয়েছিল লালুর জামানা। আর সেই লালুর জামানা নানা উত্থান পতনের পর পশু খাদ্য কেলেঙ্কারির কথা সামনে আসে। আসার পরেই লালু প্রসাদ যাদবকে পদত্যাগ করতে হয়। তাকে জেলে পাঠানো হয়। স্বাভাবিকভাবে লালু প্রসাদ এর মত একজন জনপ্রিয় নেতা জেলে চলে যাওয়ার পরে সেই শূন্যস্থানটা দ্রুত দখল করে নেন নীতিশ কুমার।

Advertisement

নীতিশ কুমার নিজেকে সমাজবাদী বলে দাবি করলেও তিনি বরাবরই চলেছেন উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল বিজেপিকে সঙ্গে নিয়ে। আর বিহারে যেহেতু বিজেপির কোন মুখ ছিল না এখনো নেই তাই তারা নীতিশের উপর অনেকটাই নির্ভর করছে। পাঠকবর্গ অবগত আছেন বিহারের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কিভাবে দল পাল্টে নিজেকে পাল্টুরাম নামে পরিচিত করেছেন দেশের রাজনীতির ইতিহাসে।

তা নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনার মধ্যে যাচ্ছি না। আমার ব্যক্তিগত মতামত হল যে বিজেপি রাম মন্দির উদ্বোধনের পর দাবি করে আসছিল ইসকি বার চারশো পার। তারপরেও নীতিশ কুমার এর মত একজন ব্যক্তিকে কি প্রয়োজন পড়লো বিজেপির সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। খুব বেশি দিনের কথা নয় ২০২০ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনের সময় যেভাবে নীতিশ কুমারকে অপমান করা হয়েছিল সেটা কি তিনি ভুলে গেছেন?

বিহারের রাজনীতিতে নীতিশ কুমারকে ভিলেন করে তোলাটা এখন বিজেপির মূল উদ্দেশ্য হয়ে উঠেছে। আর সে কাজটা করতে পারলে আগামী দিনে ওই রাজ্যে বিজেপির পক্ষে এককভাবে ক্ষমতা দখল করা সম্ভব হবে। কিন্তু বিষয়টি খুব স্পর্শকাতর তাই খুব সংগোপনে বিজেপি তার উদ্দেশ্যকে চরিতার্থ করতে চাইছে। প্রশ্ন উঠেছে একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বিজেপির এই চালটি কি বুঝতে পারছেন না অবশ্যই বুঝতে পারছেন। নীতিশ কুমারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যতদিন ক্ষমতায় থাকবো ততদিন শীর্ষে থাকবো।

তাই লালুপ্রসাদ যাদবের সঙ্গে যখন মতান্তর ঘটছে ঠিক তখনই আরেকটা দল রয়েছে বিজেপি তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলো এবং বিহারের মাটিতে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে টিকে থাকো এটাই হচ্ছে নীতিশ কুমারের আদর্শ। আর এই আদর্শকে চরিতার্থ করার জন্য যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন তার সবটাই নিতে পারেন তিনি।

আর নীতিশ কুমারের এই সুবিধাবাদী নীতি বিজেপির নেতারা হাড়ে হাড়ে বুঝে গেছেন। এখন লোকসভা নির্বাচনের সময় ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম প্রবক্তা নীতিশ কুমার যদি বিজেপির কাছে চলে আসে সেক্ষেত্রে জনমানষে প্রচার করা সম্ভব হবে বিজেপি ক্ষমতায় আসছে।  তাই নীতিশকে দলে নিতে হবে কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের পর এই নীতিশের পরিণতি যে চন্দ্রবাবু নাইডু কিংবা উদ্ধব  ঠাকরে হবে না তার গ্যারান্টি কে দেবে? রাজনৈতিক মহল মনে করছে জাতীয় রাজনীতিতে এই পাল্টুরাম শেষ পর্যন্ত যে কোন রাজনৈতিক দলের কাছেই ভালো থাকবে না তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

ইতিমধ্যেই জানা গেছে বিজেপি নীতিশ কুমারের কাছে দাবি করেছে তাদেরকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দিতে হবে। বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই প্রস্তাব নিঃসন্দেহে অপমান কর এখন দেখার বিষয়, ইন্ডিয়া জোটে তিনি নাকি অপমানিত হয়েছিলেন এবার বিজেপি তাকে কতটা সম্মানিত করেন। তবে একটা বিষয়ে সকলেই একমত হবেন আগামীদিনে এই নীতিশ কুমার ভারতীয় রাজনীতিতে একজন ভিলেন রাজনীতিবিদ হিসাবে ইতিহাসে টিকে থাকবে এর বাইরে কিছু নেই।

বলা হচ্ছে কর্পুরি ঠাকুরকে ভারতরত্ন দেওয়ার জন্যই নাকি নীতিশ কুমার বিজেপির দিকে চলে গেছেন। দলিত সংখ্যালঘু মুসলিমদের ক্ষমতার অংশীদারীতে পৌঁছে দেওয়ার যে লড়াই। যে আন্দোলন কর্পুরি ঠাকুর করেছিলেন তার সঙ্গে কি বিজেপি সহমত ছিল বা তৎকালীন জনসংঘ সহমত ছিল? এই প্রশ্নের উত্তরে একটা কথাই হতে পারে, যে কোন কালেই জনসংঘ কর্পুরি ঠাকুরের এই আদর্শকে সমর্থন করেনি। তাহলে শুধুমাত্র গুরুকে ভারতরত্ন দেওয়ার জন্য যেভাবে নীতীশ কুমার একবার এদিক আর ওদিক করছেন তাতে আর যাই হোক তাঁর গুরুর আদর্শ মেনটেন করা হচ্ছে না। কর্পরি ঠাকুর ভারতরত্ন পেল কি পেল না। তাতে তার কিছু এসে যাবে না কিন্তু তাঁর আদর্শ থেকে যদি বিচ্যুত হয়ে যায় সেটাই দেশের পক্ষে মঙ্গলজনক নয়। নীতিশ কুমারের অতি ভক্তি যে চোরের লক্ষণ তা বলার অপেক্ষায় রাখে না। বিজেপির সঙ্গে পুনরায় ঘর বাঁধতে গিয়ে বিহারের দলিত সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে বর্গ মানুষের সঙ্গে যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। আর এর পরিণতিতে আগামী দিনে বিহারের রাজনীতিতে নীতীশ কুমার যে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবেন তা বলার অপেক্ষায় রাখে না।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ