কলকাতা 

Madhyamik Examination 2024: মাধ্যমিক রেজাল্ট এর গুরুত্ব অনেক, কিন্তু এটাই শেষ কথা নয় : অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের ভরা সভায় জানালেন শিক্ষকেরা

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিবেদন: আমরা এতদিন ধরে তোমাদের শিখিয়েছি, নম্বর তুলে আনার কৌশল, সর্বোচ্চ নম্বর পেতে কোন কোন দিকে নজর দিতে হয়, কীভাবে উত্তরপত্র সাজালে পরীক্ষক খুশি হন ইত্যাদি। কিন্তু আজ একেবারে পরীক্ষার দোরগোড়ায় পৌঁছে তোমাদের বলছি, যার যেমন প্রস্তুতি হয়েছে সেটাই যথেষ্ট। কনফিডেন্স সহকারে পরীক্ষা হলে লিখে আসবে। আর অবশ্যই সততা বজায় রাখবে। মনে রাখবে বড় হওয়ার এটাই নিয়ম। ফলাফল তো সবার একই হবে না। কারো কম – কারো বেশি। এটাই তো পরীক্ষার নিয়ম। অতঃপর যার একটু কম নম্বর আসবে, তার ভেঙে পড়ার কোনো কারণ নেই, হতাশ হওয়আরও কোনো জায়গা নেই। মাধ্যমিক রেজাল্ট-এর গুরুত্ব অনেক। কিন্তু জীবন তো এখানেই থেমে থাকবে না, এরকম আরো অনেক অনেক পরীক্ষার সামনা-সামনি হতে হবে। নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ অনেক বার পাবে। উল্টোদিকে এটাও বলে রাখি, যারা সর্বোচ্চ নম্বর বা বেশ ভালো নম্বর পাবে, তারাও কিন্তু আনন্দে আত্মহারা হয়ে যেও না। কারণ এ তো কেবল একটা ধাপ, যদিও এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তবুও এরকম অনেক ধাপ পেরোলে তবে দেখতে পাবে গন্তব্যের ঠিকানা।

মাধ্যমিক পরীক্ষার ঠিক আর বারো দিন বাকি। রবিবার সন্ধ্যায় অনলাইনে অভিভাবকদের হাত ধরে অনুসন্ধানের অনলাইন আয়োজনে হাজির হয়েছিল এ বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। তাদের জন্য উপরের গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো শোনাতেই অনলাইনের এই আয়োজন। শুরু হওয়ার ঢের সময় বাকি থাকতে পৌঁছে গিয়েছিলেন বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকেরা। জীবন বিজ্ঞানের ড.কমল কৃষ্ণ দাস, ভৌত বিজ্ঞানের নাজিম মল্লিক, অংকের নায়ীমুল হক, গৌরাঙ্গ সরখেল, কৌশিক সাধুখা, পান্থ মল্লিক, শুভজিৎ মাইতি প্রমুখ। প্রত্যেকে প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য উজাড় করে দিলেন। ছাত্র-ছাত্রীদের কিসে সুবিধা হবে, কোন কোন দিকগুলো বেশি নজর দিতে হবে, এমনকি এডমিট কার্ড পাওয়ার পর নিজের নাম ও সমস্ত বানান ঠিক আছে কিনা তাও দেখে নেয়ার সবক শিখিয়ে দেয়া হল।

Advertisement

সংক্ষিপ্ত এই আয়োজনের অবশ্যই মুখ্য আকর্ষণ ছিলেন বিশিষ্ট মনোবিদ অধ্যাপক ডা. গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে তিনি সব থেকে বেশি জোর দিয়ে যা বললেন, তা হল, পড়াশোনা অনুশীলনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে হবে। ঘুম ঠিকমতো না হলে মাথা কাজ করে না। সবকিছু গোলমাল হয়ে যায়। এমনটা যেন না হয়! পরীক্ষা দু’ঘণ্টা এগিয়ে এসেছে, তোমরাও তোমাদের প্রাত্যহিক রুটিন তেমনভাবেই বানিয়ে নেবে। অভিভাবকদের কাজ হল এই সময়ে শুধুমাত্র তাঁদের সন্তানদের পাশে থাকা। তারা যে পারবে, সেটা দৃঢ়তার সাথে বলা। কারো সাথে কোনো তুলনা একেবারেই নয়। মনে রাখতে হবে পারিবারিক প্রত্যাশার চাপ যত কম থাকবে, ততই পরীক্ষা ভালো হবে এবং নম্বর ভালো আসবে।

দু’ঘণ্টার এই ওয়েবিনারে পৌরোহিত্য করেন অনুসন্ধান কলকাতার সভাপতি ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. দেবব্রত মুখোপাধ্যায়। অভিভাবকদের জন্য তিনি বলেন পরীক্ষার সেন্টার কোথায় হচ্ছে তা জানার পর সেই স্কুলে গিয়ে আগেই ঘুরে আসবেন। কত সময় লাগে, কীভাবে পরীক্ষা হলে পৌঁছাবেন সবকিছু আগেই ঠিক রাখবেন। আর অ্যাডমিট কার্ড পাওয়ার পর ছাত্র-ছাত্রীরা প্রথমেই যা করবে, তা হল, সমস্ত বানান অ্যাডমিট কার্ডে ঠিক আছে কিনা তা ভালো করে মিলিয়ে দেখে নেবে।

 

এদিনের অনুষ্ঠান শেষ হওয়া মাত্র ফোন ও ম্যাসেজ-এ কৃতজ্ঞতা জানান বহু অভিভাবক। বার বার করে বলেন, ‘এই সময়ে খুবই প্রয়োজন ছিল এ ধরনের একটি অনুষ্ঠান’।

অনলাইনেও বেশ বোঝা যাচ্ছিল এতক্ষণ ধরে বসে থাকা ম্রিয়মাণ ছাত্র-ছাত্রীরাও, এখন বেশ ঝকঝকে তকতকে, বেশ তৎপর…….

এদিনের অনুষ্ঠান সূচনা করেন বিশিষ্ট প্রকৌশলী প্রশান্ত ভট্টাচার্য


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ