পঞ্চায়েত সংবাদ 

বাম দুর্গ ভাঙতে শিক্ষক নেতা ফারহাদের উপর আস্থা তৃণমূলের

শেয়ার করুন
  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ মিজানুর রহমানঃ

একেএম ফারহাদ একজন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ। রাজ্যের প্রখ্যাত আলেম ও রাজারহাট দরগাহ শরীফের পীর সাহেব মাহমুদ বখতিয়ারি সাহেবের সুযোগ্য উত্তরসুরী হিসাবে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তো বটেই রাজ্যেরও বিভিন্নপ্রান্তে সুপরিচিত তিনি। পেশায় শিক্ষক হলেও তাঁর নেশা রাজনীতি। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই দলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসাবে কাজ করছেন তিনি। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে রাজ্য হজ্ব কমিটির সদস্য করা হয়েছিল। পরে মাদ্রাসা বোর্ডেরও সদস্য হন তিনি। উভয় ক্ষেত্রেই দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের ৩৬ নম্বর আসন থেকে টিকিট দিয়েছে দল। দেগঙ্গা ও হাড়োয়া বিধানসভা এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনটি।শুক্রবার জুম্মার নামায শেষে মনোনয়ন জমা দেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন দেগঙ্গার ব্লক সভাপতি মফিদুল ইসলাম সাহাজি সহ অন্যরা।

নির্বাচনী প্রচারে একেএম ফারহাদ

কিন্তু সমস্যা হল উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের এই আসনটিতে ১৯৭৮ সাল থেকে বরাবরাই ক্ষমতা ধরে রেখেছে বামেরা। ২০১৩ সালে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকালীনও এই জেলা পরিষদ আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন সিপিএম প্রার্থী পাপড়ি দত্ত। এবারের নির্বাচনে এই জেলা পরিষদ আসনে চতুর্মুখী লড়াই হচ্ছে। বামেদের প্রার্থী হয়েছেন জেলা পরিষদের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা ইমতিয়াজ হোসেন, বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন অমল কর ও কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন, আব্দুল লতিব মন্ডল। দীর্ঘদিনের লালগড় ভেঙে এবার কি তিনি এই আসনে ঘাসফুল ফোটাতে পারবেন? প্রশ্ন করতেই মৃদু হেসে ফারহাদ বলেন, আমাকে দেখে নয়,মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে উত্তর ২৪ পরগনা সহ রাজ্যজুড়ে যে উন্নয়ন হয়েছে তার নিরীখেই মানুষ জোড়া ফুল চিহ্নে ভোট দেবে। তবে এবারেও তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ সিপিএমই বলে জানিয়েছেন তিনি। বিজেপি ও কংগ্রেসকে কোনও গুরুত্বই দিতে নারাজ তিনি। সেই সঙ্গে দীর্ঘদিনের বামদুর্গ এবার ধুলিস্যাত হবে বলে আশাবাদী ফারহাদ।

বিরোধীদের পরাস্ত করার লক্ষ্যে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর থেকেই জমিয়ে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন তিনি। প্রত্যেকদিন দুপুর ১০ টা থেকে রুটিন মাফিক তিনি তাঁর ভাতিন্ডার বাড়ি থেকে রওনা দেন দেগঙ্গার উদ্দেশ্যে। এর পরেই শুরু করেন প্রচার। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বড়দের কাছ থেকে প্রণাম ও ছোটদের কাছ থেকে সালাম নিচ্ছেন। সেই সঙ্গে জেনে নিচ্ছেন তাঁদের সুবিধা-অসুবিধার কথা। খাদ্যসাথী, কন্যাশ্রীর সুবিধা এলাকার বাসিন্দারা পাচ্ছেন কিনা তার খোঁজখবর নিচ্ছেন। পাশাপাশি কোথাও বৈদ্যুতিক চুল্লি কিংবা কবরস্থানের চারপাশ দেওয়াল দিয়ে ঘেরার প্রয়োজন রয়েছে কিনা সেসবও জেনে নিচ্ছেন। একই সঙ্গে তাঁর আশ্বাসবাণী নির্বাচনে তিনি জয়ী হওয়ার পর এলাকাবাসীর সমস্যার এই সব সমাধান করবেন। তাঁর প্রচারে সর্বক্ষণের ছায়া সঙ্গী হিসাবে রয়েছেন দেগঙ্গার ব্লক সভাপতি মফিদুল হক সাহাজি। এছাড়া দেগঙ্গার বিধায়ক রহিমা মন্ডল ও হাড়োয়ার বিধায়ক হাজি নুরুল ইসলামও তাঁর সমর্থনে প্রচার করছেন। তিনি জানিয়েছেন, হেভিওয়েটদের মধ্যে প্রচারের তালিকায় থাকছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্য খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সহ অন্যরা। পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন ঘোষণার পরেই হেভিওয়েটরা প্রচারে আসবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে তার আগেই প্রচারে বিপুল পরিমাণে সাড়া পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন ফারহাদ। তাঁরর দাবি শুধু মাত্র তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের কাছ থেকেই নয় প্রচারে সাড়া দিচ্ছেন বিরোধীরাও।  সূত্রে খবর, ফারহাদের প্রচারাভিযান নিয়ে সন্তুষ্ট জেলা নেতৃত্ব। দীর্ঘদিনের এই বামগড়ে এবার ঘাস ফুুুল ফুটছেই বলে একদিকে যেমন আশাবাদী ফারহাদ, অন্যদিকে আশাবাদী জেলার নেতারাও।

 

 

 

 

 


শেয়ার করুন
  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment