কলকাতা 

পরীক্ষা সুষ্ঠু অবাধ করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে মাদ্রাসা বোর্ড

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিনিধি : আগামী পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের হাই মাদ্রাসা আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা। এই পরীক্ষা ব্যবস্থা যাতে সুষ্ঠু এবং অবাধ শান্তিপূর্ণভাবে করা যায় তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদ। প্রতিটা জেলায় জেলায় জেলা শাসকদের নিয়ে বৈঠক করার পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আজ বুধবার কলকাতা জেলার বৈঠকে মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক ড আবু তাহের কামরুদ্দীন উপস্থিত কলকাতা জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং স্কুল শিক্ষা দফতরের এ আই মাদ্রাসা গুলির প্রধান শিক্ষক ও টিচার ইনচার্জ এবং পরীক্ষার সুপারিনটেনডেন্ট দের উদ্দেশ্যে বলেন পরীক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে স্বচ্ছ অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ করতে হবে। পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন সহ ইলেক্ট্রনিক্স কোন গ্যাজেট ধরা পড়লে রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হবে। এর ফলে ওই পরীক্ষার্থী আর কোনদিন মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের কোন পরীক্ষায় বসতে পারবে না।

Advertisement

তিনি আরো বলেন, পরীক্ষার সময় কোন ছেলে মেয়ে অসুস্থ হলে তাদেরকে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে একই সঙ্গে ওই ছেলে মেয়ে যদি পরীক্ষা দিতে চাই তার সুব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটা পরীক্ষা কেন্দ্রে আলাদা করে সিক রুমের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে কোন পরীক্ষার্থী অসুস্থ বা যে সকল বহিরাগত পরীক্ষার্থী রয়েছে তাদের অন্য কোন সমস্যা হলে তারা আলাদা ঘরে পরীক্ষা দিতে পারবে। সেই সঙ্গে তিনি এও বলেন, যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে যায় পরীক্ষার্থীদের আসার সময় কিংবা যাওয়ার সময় তাদেরকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে তারা যদি সেখান থেকে পরীক্ষা দিতে চায় তবে অবশ্যই পরীক্ষা দিতে পারবে। এক্ষেত্রে একটাই শর্ত হচ্ছে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলে চলবে না।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, গত বছর উত্তর ২৪ পরগনার একজন পরীক্ষার্থী দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তাকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে চাইলে তার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পার্শ্ববর্তী পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্ব হচ্ছে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করা এবং তারাই এখানে যাবতীয় পরীক্ষার ব্যবস্থা করবে একই সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদ এক্ষেত্রে সব রকম সহযোগিতা করবে।

তিনি খানিকটা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনরকম গোলযোগ অশান্তি হলে তার জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ওপর দায় বর্তাবে। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কোনোভাবেই শিক্ষক শিক্ষিকারা সি এল নিতে পারবেন না। একমাত্র গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তবেই ছুটি নিতে পারবে। কিংবা যারা আগে থেকে সিসিএল নিয়েছে কিংবা যারা আগে থেকে মেডিকেল লিভে আছে, কিংবা যাদের ছেলে মেয়ে এ বছর যে কোন বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা দিচ্ছে মাধ্যমিক বা দশম শ্রেণীতে তারা ছুটি নিতে পারবেন। একইসঙ্গে তিনি আরো বলেন এই পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক শিক্ষিকারা অহেতুক ছুটি নিলে সেক্ষেত্রে পর্ষদ কড়া পদক্ষেপ করবে।

এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন কলকাতা জেলার সংখ্যালঘু দফতরের আধিকারিক আরশাদ জামাল হাশমি, কলকাতা জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক মাধ্যমিক সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা জেলার এআই কবিরুল ইসলাম, বড়তলা সিনিয়র মাদ্রাসার সুপার মুফতি আহমাদুল্লাহ, ডি এল এ সি সদস্য আবদুল ওয়াহিদ, ডিএলসি সদস্য সাবির আলী শেখ , ডি এল এ সি সদস্যা বেশারত্তুল আল কাদেরী, মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের সচিব আব্দুল মুন্নাফ, আসানুর মল্লিক, মনু মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউশন এর প্রধান শিক্ষক আরাফাত আলী মিদ্যা, সাতঘরা হাই মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সেখ ইবাদুল ইসলাম , বেনিয়াপুকুর হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষিকা নিখখাত পারভিন, সাতঘরা হাই মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষার ইনচার্জ এআই রমেশ ভূঁইয়া, বেনিয়াপুকুর হাই মাদ্রাসার পরীক্ষার ইনচার্জ এসআই সুদিপ্তা লি প্রমুখ।

এ বছর কলকাতা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম, ফাজিল মিলিয়ে ৩৬২ জন ছেলেমেয়ে পরীক্ষায় বসতে চলেছে। তিনটে সেন্টারে পরীক্ষা হবে। খিদিরপুরে হাজী মোহাম্মদ মহসিন গার্লস মাদ্রাসা বেনিয়াপুকুর হাই মাদ্রাসা এবং সাতঘরা হাই মাদ্রাসা। কলকাতা জেলার নটি মাদ্রাসার ছেলেমেয়েদের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ ২৪ পরগনার আকরা সিনিয়র মাদ্রাসা এবং হাই মাদ্রাসার ছেলেমেয়েরাও কলকাতার এই সেন্টারগুলিতে পরীক্ষা দেবে।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ