কলকাতা 

অংক দেখতে শেখা প্রয়োজন, অনুসন্ধানের উদ্যোগে জাতীয় গণিত দিবসে বললেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নায়ীমুল হক : অসীম সংখ্যাকে আয়ত্ত করতে পেরেছিলেন যিনি, গণিতের সেই বিস্ময়কর প্রতিভা শ্রীনিবাস রামানুজনের ১৩৬-তম জন্মদিন উপলক্ষে শুক্রবার ২২ ডিসেম্বর ছিল জাতীয় গণিত দিবস। গণিত দিবস হল রামানুজনের মহান অর্জনকে স্মরণ করার এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনে গণিতের তাৎপর্যকে আরও একবার উপলব্ধি করার দিন। ‘গণিত সকলের জন্য’ – এবারের এই থিমকে সামনে রেখে এদিন অনুসন্ধান কলকাতার পক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল অনলাইনে এক বিশেষ আলোচনাপর্ব। আলোচনার বিষয় ছিল, ‘গণিতে অনীহা সামগ্রিকভাবে আমাদেরকে পিছিয়ে দিচ্ছে না তো!’ এই জিজ্ঞাসা নিয়েই এদিন অনুষ্ঠানের প্রারম্ভিক বক্তৃতায় বিশিষ্ট প্রশাসক এবং গণিতের শিক্ষক ড. পার্থ কর্মকার বলেন, যদি সত্যিই তাই হয়, তাহলে তা যথেষ্ট চিন্তার কারণ এবং এর প্রতিকারে আমাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। এই কাজে অনুসন্ধান কলকাতা বরাবরই খুবই অগ্রণী ভূমিকা রাখছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। গণিত দিবস উপলক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অনুসন্ধান কলকাতা আয়োজিত গণিত মেধা অন্বেষা পরীক্ষায় যারা অংশ নিয়েছিল, এমন সমস্ত ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, গণিত হচ্ছে সকল বিষয়ের রানী, গণিতে দক্ষতা জীবনের সকল ক্ষেত্রে সফলতা বয়ে আনতে সক্ষম। এদিন আলোচনার সূত্রপাত করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক অনুপম বসু। তিনি বলেন গণিতের প্রতি আকর্ষণ কমার দরুন সাধারণের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতায় ভাটা পড়েছে, ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পড়াশোনা করার প্রবণতা অনেক কমেছে, পাঠ্যের বাইরে গিয়ে গল্প বই পড়ার অভ্যাসও আর গড়ে তুলতে চাইছে না ছাত্র-ছাত্রীরা, চাইছেন না তাদের অভিভাবকেরাও। এ এক অতি কঠিন সময়!
এছাড়াও এদিন যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি উত্থাপিত হয়, তা হল–আমরা অনেক ক্ষেত্রেই ছাত্র-ছাত্রীদের যুক্তিবদ্ধ ভাবনাকে এগিয়ে না নিয়ে গিয়ে তাদের মুখস্ত বিদ্যা, নোট লিখে দেওয়ার বদ-অভ্যাস গড়ে তুলি।

ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে প্রশ্ন করার ইচ্ছাকে অনেক সময় দমিয়ে দিই। বইয়ের মলাট ছাড়িয়ে তাদেরকে প্রকৃতির অঙ্গনে ছড়িয়ে দিতে চাই না, বিভিন্নভাবে সমস্যার সমাধান করতে অনুপ্রাণিত করি না। গণিত তো আসলে একটা বোধ, যুক্তিবদ্ধ ভাবনার সমন্বয়। সেই ভাবনাকে উদ্দীপিত করে শিক্ষার্থীর মানসপটে পৌঁছে যাওয়ার সেই আন্তরিক প্রয়াস আমাদের কোথায়! অভিভাবকরা প্রায়শই সন্তানদের জন্য দোষারোপ করে থাকেন, একদম পড়াশোনায় মন বসাতে পারছে না, চঞ্চল হয়ে পড়ছে। আসলে গণিত অনুশীলনেই সম্ভব ছিল এই চাঞ্চল্য দূর করে চিন্তাভাবনার স্তরকে ক্রমান্বয়ে উন্নীত করা। কিন্তু তার সুযোগ কোথায়? ভালো ছাত্র মানেই সে নিজেকে প্রস্তুত করবে কেবলমাত্র প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হওয়ার। সেখানে আর যাই হোক গণিতের চর্চা বলতে যা বোঝায়, তা কিন্তু নেই। গণিতের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হওয়ায় এটা কি একটা বড় কারণ নয়! আর এরই ফলে সার্বিকভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠে মনোনিবেশ করতে যে ধৈর্য, দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্বাসের প্রয়োজন হয়, তাও আজ হারিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও বর্তমান সময়ে আমরা যন্ত্রনির্ভর হয়ে পড়ছি। ফলে সেলফ কনফিডেন্স হারাচ্ছি, দূরদৃষ্টি তৈরি হচ্ছে না, ইন্দ্রিয়ের অনুশীলন নেই, ফলে মনে রাখার ক্ষমতা দিন-দিন কমে যাচ্ছে।
যাবতীয় এ সকল সমস্যার পাশাপাশি তা থেকে সমাধানের উপায় নিয়েও কথা বলেন শিক্ষাবিদ ডঃ অর্ণব গুপ্ত, ডঃ দেবব্রত মুখোপাধ্যায়, বিজ্ঞানী মতিয়ার রহমান খান, অধ্যাপিকা অরুণিমা মহাপাত্র, প্রশান্ত বসু, শর্মিষ্ঠা শীল প্রমুখ। আলোচনা পর্বের শেষে গণিত মেধা অন্বেষা প্রতিযোগিতায় সফল ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন শুভজিৎ মাইতি এবং কৌশিক সাধুখাঁ।
এদিনের গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনা পর্ব সুচারুভাবে পরিচালনা করেন গণিতের বিশিষ্ট শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরখেল ও নায়ীমুল হক। সভাপতিত্ব করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত অধিকর্তা ড.অমলেন্দু বসু এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন গণিতের বিশিষ্ট ছাত্রী ও সাংবাদিক নাফিসা ইসমাত।

Advertisement

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ