কলকাতা 

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মদতে বাকিবুর রহমান চারশো কোটি টাকা কামিয়েছেন আদালতে চার্জশিট পেশ করে দাবি ইডির

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকার সুবাদে ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমান কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন বলে আদালতে চার্জশিট পেশ করে জানালো ইডি।

আর এই দুর্নীতির জন্য রাজ্য সরকারের বহু কোটি টাকার লোকসান হয়েছে বলে মনে করছেন এনফোর্সমেন্ট ডিরক্টরেটের (ইডি) তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের একাংশ মনে করছেন, প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় (যিনি রাজনৈতিক মহলে বালু নামে সমধিক পরিচিত)-র প্রশ্রয় ছাড়া এই কাজ করতে পারতেন না বাকিবুর। সেই সূত্রেই ফের চর্চা শুরু হয়েছে জ্যোতিপ্রিয়-বাকিবুর জুটি নিয়ে। দুর্নীতিতে যে পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, অর্থাৎ যে পরিমাণ টাকা সরকারের লোকসান হয়েছে, তার পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ছুঁতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথম চার্জশিটে এমনটাই দাবি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি।

Advertisement

ইডি সূত্রের খবর, তদন্তে উঠে এসেছে যে, বালু-‘ঘনিষ্ঠ’ ব্যবসায়ী বাকিবুরের দু’টি কোম্পানির মাধ্যমে ধান কেনায় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। ভুয়ো ধান বিক্রয় শিবিরে ভুয়ো কৃষকদের দেখিয়ে, সরকারি অর্থ নয়ছয় করা হয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বলে ইডি সূত্রে খবর। দুর্নীতির অন্যতম প্রমাণ হিসাবে চার্জশিটে এই সব প্রসঙ্গই রেখেছে ইডি।

এই দুর্নীতির প্রমাণ হিসাবে খাদ্য দফতরেই কর্মরত এক আমলাকে সাক্ষী হিসাবে দেখানো হয়েছে। এমনকি ওই আমলার বয়ানও নথিবদ্ধ করেছে ইডি। ইডি সূত্রের খবর, খাদ্য দফতরের তৎকালীন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয়ের মদতেই দুর্নীতির এই কাজ করে গিয়েছেন বাকিবুর।

ইডি সূত্রে আগেই জানা গিয়েছিল, রেশনের খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করার সময় তা নিয়ে নয়ছয় করতেন বাকিবুর এবং তাঁর সহযোগীরা। এই চক্রে অনেকে যুক্ত আছেন। এমনকি, রেশন ডিস্ট্রিবিউটরেরাও কেউ কেউ দুর্নীতিতে জড়িত। তাঁদের কাছ থেকে যত বস্তা গম চাওয়া হত, তার চেয়ে ৩০-৪০ শতাংশ কম সরবরাহ করতেন তাঁরা। ওই পরিমাণ গম নিজেরা আত্মসাৎ করতেন। রেশন ডিলার এবং ডিস্ট্রিবিউটরেরাও এ ভাবে লাভবান হতেন। বেশ কয়েক জন আধিকারিকও এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতে ১৬২ পাতার চার্জশিট পেশ করেছে ইডি। ইডি সূত্রে খবর, চার্জশিটে রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয়, মিল ব্যবসায়ী বাকিবুর ছাড়াও রয়েছে তাঁদের নামে থাকা ১০টি ভুয়ো সংস্থার নাম। এই সংস্থাগুলির মাধ্যমে দুর্নীতির কালো টাকা সাদা করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ