কলকাতা 

মমতা অভিষেক পারেননি! কুনাল তিন মিনিটে করে দেখালেন, কোন জাদু মন্ত্রে এক হাজার দিন পর চাকরিপ্রার্থীদের সমস্যার সমাধান করবেন তৃণমূলের মুখপাত্র!

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : ১ হাজার দিন ধরনা দেওয়ার পরও যে সমস্যার সমাধান মমতা সরকার করতে পারল না সেই সমস্যার সমাধান তিন মিনিটে করে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র এবং অভিষেক ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ। কুনাল ঘোষের এই উদ্যোগের পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাহলে কি এতদিন ধরে মমতা সরকার বিষয়টিকে এড়িয়ে যাচ্ছিল। যাইহোক শিক্ষকতার চাকরির দাবিতে এক হাজার দিন ধরে অবস্থান বিক্ষোভ করা চাকরি প্রার্থীরা যদি কুনাল ঘোষের দৌলতে চাকরি পান তাহলে তার চেয়ে ভালো কিছু হতে পারে না।

তবে একথা মানতে হবে কুনাল ঘোষ যে কায়দার যে কৌশলে আজকের আন্দোলনকারীদের সমস্ত প্রচারকে নিজের অনুকূলে টেনে নিলেন তার নেপথ্যে বড় পরিকল্পনা কাজ করছে। যদিও সকালে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা এক কথায় ভারতীয় হিসাবে আমরা লজ্জিত। আর বাঙালি হিসাবে আমরা কলঙ্কিত হলাম। একজন মেয়ে চাকরির দাবিতে ঝর্ণা মঞ্চে বসে নিজের চুল কেটে ফেললেন ন্যাড়া হলেন বাঙালি সংস্কৃতির কাছে যেটা লজ্জাজনক ঘটনা সেটা তিনি করলেন তার ফলে আর যাই হোক সবচেয়ে বড় আঘাত পেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তিতে ।

Advertisement

একজন মহিলা বাংলা সন্তান যেভাবে নিজের মাথার চুল কেটে ফেললেন ন্যাড়া হলেন তা এক কথায় আমাদের দেশের কাছে আমাদের সমাজের কাছে আমাদের সরকারের অমানবিক চরিত্রটা স্পষ্ট করে ধরা পড়ল। আর এই পরিস্থিতিতে কুনাল ঘোষের আগমন নিঃসন্দেহে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। খানিকটা হলেও তৃণমূল কংগ্রেস তার ভাবমূর্তিকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু। তিনি যা বলেছেন তা হল আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হতে পারে। এ কথা তো আজ থেকে নয় এক হাজার দিন আগেও একই কথা বলা হয়েছিল কেন তা হলো না? এই প্রসঙ্গে কুনাল ঘোষ বলেন, ‘‘আলোচনা থেকেই সমাধানের পথ আসে। আন্দোলন তো পালিয়ে যাচ্ছে না। গণতান্ত্রিক দেশে আন্দোলন করার অধিকার সকলের রয়েছে।’’

এসএলএসটি চাকরিপ্রার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন ধর্মতলায় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে। ১০০০তম দিনে তাঁদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে বিজেপি এবং বাম নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। বিকেলে ওই মঞ্চে উপস্থিত হন কুণাল। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় হুলস্থুল পরিস্থিতি। চাকরিপ্রার্থী, বিরোধী নেতৃত্ব এবং পুলিশের ধস্তাধস্তির মধ্যে পড়ে যান তৃণমূল নেতা কুণাল। বেশ কিছু ক্ষণ তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ চলে। যদিও পরে তিনি বেশ কিছু ক্ষণ কথা বলেন চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে। কুণাল জানান, আন্দোলনকারীদের দাবিদাওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু অবহিত। এ নিয়ে আলোচনার পথ খোলা আছে। আগামী সোমবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।

অন্য দিকে, শাসকদলের তরফে কুণালের উপস্থিতি এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলার পর খুশি চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করার পর কুণাল বলেন, ‘‘কোনও একটি জটিলতার জন্য এই চাকরিপ্রার্থীদের চাকরি আটকে আছে। আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন। মুখ্যমন্ত্রী থেকে শিক্ষামন্ত্রী, সবাই চান আশু সমাধান। এর আগে অভিষেক (বন্দ্যোপাধ্যায়) তো বৈঠক করে বলটাকে রোল (গড়িয়ে) করে দিয়েছিলেন।’’ এর পর কুণাল জানান যে চাকরিপ্রার্থী তাঁর মাথা কামিয়ে ফেলেছেন, তাঁকে তিনি ব্যক্তিগত ভাবে চেনেন। তাঁর সঙ্গে একাধিক বার তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে। ছেলেকে কোলে নিয়ে ওই চাকরিপ্রার্থীর আন্দোলনকে তিনি সম্মান করেন। তাঁর এই মাথা মুড়িয়ে দেওয়ার খবর পেয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি দেখা করতে এসেছেন। কুণালের কথায়, ‘‘কার কথায় মাথা কামালেন, দেখতে এসেছি।’’ অন্য দিকে, এই আন্দোলন এবং চাকরিপ্রার্থীর মাথা কামানো নিয়ে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় ‘নাটক’ বলেন। কুণাল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁরা সৌগত-প্রসঙ্গও তোলেন।

তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘‘নিয়োগ নিয়ে জট খুলুক। আজ যখন রাসমণি চুল বিসর্জন দিচ্ছেন, তখন মনে হয়েছে অফিসে কথা না বলে ওঁদের সঙ্গে এসে দেখা করে যাই।’’ বস্তুত, কুণালের সঙ্গে রাসমণি এবং অন্যান্য চাকরিপ্রার্থীকে বেশ কিছু ক্ষণ বসে কথা বলতে দেখা যায়। কথাবার্তার পর কুণাল বলেন, ‘‘জট খুলছে। তবে একটা আঁকসিতে এসে আটকে রয়েছে। সোমবার বিকেলে তাই আলোচনা করার কথা বলেছি।’’ তৃণমূল মুখপাত্রের সংযোজন, ‘‘যদি কেউ মনে করেন স্লোগান দিয়ে চাকরি পাবেন, তা করতেই পারেন। গণতান্ত্রিক দেশে আন্দোলন করার অধিকার আছে। আর সরকারের তরফে কোনও ভুল থাকলে সরকারের তরফেই তার প্রায়শ্চিত্ত হবে।’’

ওই চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, ২০১৬ সালের এসএলএস-টির নম্বরভিত্তিক মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়নি। সামনের সারির মেধাকে বঞ্চিত করে পিছনের সারির প্রার্থীদের নিয়োগ করা হয়েছে। এবং এসএমএসের মাধ্যমে অবৈধ নিয়োগ হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে ২৯ দিন অনশন করেছিলেন তাঁরা। তখন তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও তাঁরা চাকরি পাননি— এই অভিযোগে আবার অনশনে বসেন কয়েকশো যুবক-যুবতী। ২০২১ সালে সল্টলেকে ১৮৭ দিন ধর্না দেন তাঁরা। তার পর গত ১০০০ দিবারাত্রি কেটেছে রাস্তায়। কিন্তু চাকরি হয়নি। শনিবার সেই ধর্নামঞ্চে হাজির হন শাসক-বিরোধী দুই পক্ষের নেতারা। একে সদর্থক ভাবেই দেখছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

কিন্তু যে সমস্যার সমাধান স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করতে পারলেন না সেই সমস্যার সমাধান কোন জাদু মন্ত্রে কুনালঘোষ করবেন তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। নাকি লোকসভা নির্বাচন সামনে বলে সবটাই রাজনীতি করা হচ্ছে। রাজনীতিবিদদের কাছে আমাদের স্বনির্বন্ধ অনুরোধ যে কাজটা করতে পারবেন না সেই কাজটা নিয়ে রাজনীতি না করাই ভালো। এর আগেও আমরা দেখেছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সকলেই এই সমস্যার সমাধান করার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন শেষ পর্যন্ত তা করে উঠতে পারেননি। কুনাল কি পারবেন বা ব্রাত্য বসুর সঙ্গে বৈঠকের পর আন্দোলনকারী চাকরি প্রার্থীরা কি চাকরি পাবেন সেটাই এখন হাজার কোটি টাকার প্রশ্ন।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ