কলকাতা বিনোদন, সংস্কৃতি ও সাহিত্য 

বাংলার জনরবের আন্তর্জালিক কবিতা বাসর

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সংবাদদাতা, বাংলার জনরব: প্রতিমাসের মত নভেম্বরের ২৬ তারিখেও রাত্রি ৮ টা থেকে ৯.১৫ টা পর্যন্ত বাংলার জনরব নিউজ পোর্টালের সাহিত্য শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী আন্তর্জালিক কবিতা বাসর। এই বাসরে অংশ নিয়েছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট কবি ও সংগীতশিল্পী প্রোফেসর ড. মনীষা চক্রবর্তী, বিশিষ্ট কবি ও ছড়াকার সুশান্ত পাড়ুই, বিশিষ্ট সাহিত্যিক সামসুল হুদা আনার এবং বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী গোপা দে।

অনুষ্ঠানের সূচনায় একটি কালজয়ী রবীন্দ্র সংগীত ‘একি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ প্রাণে এসো হে’ পরিবেশন করে‌ ব্যতিক্রমী কবিতা বাসরের সুর বেঁধে দেন মনীষা।

Advertisement

বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক তথা বাংলার জনরবের সাহিত্য সম্পাদক সেখ আব্দুল মান্নান অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের পরিচয় করিয়ে দিলে প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন বাংলার জনরবের সম্মানীয় সম্পাদক, বিশিষ্ট শিক্ষক ও কলামিস্ট সেখ ইবাদুল ইসলাম। তিনি উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলার জনরবের মাসিক আন্তর্জালিক অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাধর লেখক ও শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে এনে মূল শ্রোতের সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া। যাতে তারা বৃহত্তর পরিসরে তাদের প্রতিভাকে মেলে ধরতে পারে। আজকের অনুষ্ঠান সেদিক থেকে ব্যতিক্রমের দাবিদার যেহেতু আজ আমন্ত্রিত চারজন অতিথিই নিজের নিজের জায়গায় সুপ্রতিষ্ঠিত। তাঁরা আজ বাংলার জনরব কে অলংকৃত করেছেন।

অতিথি কবি ছড়াকার এবং পেশায় শিক্ষক সুশান্ত পাড়ুই তাঁর পরিচয়ে নিজেকে সাহিত্য সংস্থা ‘মুক্ত বলাকা’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকের পরিচয় দিয়ে স্বরচিত একটি দীর্ঘ ছড়া সংগীতের লয়ে পরিবেশন করেন। উল্লেখ্য তাঁর কবিতাটির মূল উদ্দেশ্য ছিল ছোটছোট ছেলেমেয়েদের অ,আ,ক,খ পড়ালেখার সাথে সাথে তাদের পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলা। তিনি তাঁর ছড়াগ্রন্থ ‘ইলিবিলি’ থেকেও একটি ছড়া পাঠ করে শোনান।

অতিথি সাহিত্যিক সামসুল হুদা আনার তাঁর নিজের পরিচয়ে লেখালেখির প্রারম্ভিক দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন বালক বেলায় তিনি তাঁর শিক্ষক পিতার কাছ থেকে লেখার প্রেরণা পেয়েছেন। তিনি খাতায় লুকিয়ে লুকিয়ে যা লিখতেন তাঁর পিতা তা দেখতেন এবং সংশোধন করে দিতেন তাঁর অজান্তেই। এরপর তিনি ক্লাস নাইনে পড়তে পড়তে লেখা একটি দীর্ঘ কবিতা পাঠ করে শোনান।

বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী গোপা দে লেখালিখি ও কাব্যচর্চার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন তাঁর পূর্বপুরুষ অমৃতবাজার, যুগান্তর পত্রিকার কর্মকর্তাদের লেখালিখি দেখে। কর্মজীবনে শিক্ষকতার পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চা করে এসেছেন। কথাগুলি বলে তিনি সেখ আব্দুল মান্নানের ‘ আলবিদা পঁয়ষট্টি ‘ আবৃত্তি করে সবাইকে মুগ্ধ করে দেন।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক সেখ আব্দুল মান্নান তাঁর কথা প্রসঙ্গে সাহিত্যিক সামসুল হুদা আনারের কথার সূত্র ধরে তিনিও তাঁর লেখালিখির শুরুয়াতের স্মৃতি রোমন্থন করে স্বরচিত একটি কবিতা ও একটি অনুগল্প পাঠ করে শোনান।

স্বরচিত একটি কবিতা পাঠের পাশাপাশি অনুষ্ঠান পরিসমাপ্তি হয় অতিথি শিল্পী প্রোফেসর ড. মনীষা চক্রবর্তীর একখানি রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে।

সব মিলিয়ে বাংলার জনরবের এদিনের কবিতা বাসর এক অনন্যতার দাবিদার।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ