জেলা 

উত্তর দিনাজপুর জেলা শাসকের কাছে ডেপুটেশন দিলো আন্ – এডেড্ মাদ্রাসা বাঁচাও কমিটি

শেয়ার করুন
  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিনিধি : আন্ – এডেড্ মাদ্রাসা বাঁচাও কমিটির পক্ষ থেকে জেলা সভাপতি মোঃ মোস্তফার নেতৃত্বে উত্তর দিনাজপুর জেলার কর্ণজোড়া জেলাশাসক অফিসে আজ ডেপুটেশন দেওয়া হয় ।

পশ্চিমবাংলার পিছিয়ে পড়া মুসলিম সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলির মধ্যে মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলার পরেই যার স্থান , সেই উত্তর দিনাজপুর জেলায় সরকার স্বীকৃত ৪৪ টি আন্-এডেড্ মাদ্রাসা রয়েছে। যেখানে প্রায় ৫০০ এর অধিক শিক্ষক, শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মীবৃন্দ কর্মরত এবং এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলিতে ১৩,৫০০ অধিক ছাত্র – ছাত্রী পড়াশোনা করে । কিন্তু আফসোসের বিষয় মাদ্রাসা গুলির অনুমোদন দীর্ঘ 5 বৎসর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও রাজ্য সরকারের কোন হেলদোল নেই। এখনও পর্যন্ত শিক্ষক, শিক্ষিকাদের কোন বেতনের ব্যবস্থা ও ছাত্র – ছাত্রীদের কোন ধরনের সাহায্য করেনি বর্তমান রাজ্য সরকার । যার জন্য দীর্ঘ দিনের বঞ্চনার কারণে জেলাশাসকের কাছে প্রায় ৭০০ ও অধিক শিক্ষক, শিক্ষিকা, অশিক্ষক কর্মী ও পরিচালন কমিটির সদস্যদের নিয়ে ডেপুটেশন দিতে বাধ্য হলো পশ্চিম বঙ্গ আন্ – এডেড্ মাদ্রাসা বাঁচাও কমিটির উত্তর দিনাজপুর জেলা কমিটি ।

পশ্চিমবঙ্গ আন্ – এডেড্ মাদ্রাসা বাঁচাও কমিটির উত্তর দিনাজপুর জেলা কমিটির সভাপতি মোঃ মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন – এই জেলার ৪৪ টি আন্-এডেড্ মাদ্রাসা অনুমোদন দিয়েছেন রাজ্যের মা-মাটি-মানুষের সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও তার সরকার । কিন্তু এখনো পর্যন্ত শুধু পাঠ্য বই ও খাতা ছাড়া কিছুই দেয়নি আমাদের । দীর্ঘ দিন ধরে বেতন না পাওয়ার কারণে শিক্ষক -শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মীবৃন্দের অবস্থা আর্থিক ও মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত । ছাত্র-ছাত্রীরা মিড-ডে-মিল না পাওয়ার কারণে দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সরকারী ভাবে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কোন আর্থিক সাহায্য আসছে না। এই চরম সঙ্কটের মধ্যে মাদ্রাসা গুলি উঠে যাওয়ার উপক্রম হয়ে উঠেছে ।

সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক আব্দুল ওহাব মোল্লা সাহেব বলেন- রাজ্য সরকারের বুনিয়াদী মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি প্রচণ্ড অনীহা, যার স্পষ্ট উদাহরণ সরকার স্বীকৃত রাজ্যের ২৩৪ টি আন্ -এডেড্ মাদ্রাসা । আমরা বাম জামানাতেও দেখেছি সাবেক বাম সরকার মাদ্রাসা শিক্ষার উপর অনীহা থাকলেও এমএসকে ওএসএসকে মাদ্রাসাগুলির শিক্ষক – শিক্ষিকাদের সামান্য হলেও কিছু অর্থ সাহায্য করেছিল। কিন্তু বর্তমান রাজ্য সরকার তার নিজেস্ব প্রকল্প স্বত্বেও শিক্ষক – শিক্ষিকাদের মাস মাহিনা দিচ্ছে না। এমন কি কেন্দ্রর প্রকল্প SPQEM এর টাকাটা রাজ্য সরকার নিচ্ছে না।

গত মাসে যেখানে CGAIC এর মিটিংয়ের ফলে দেশের ১৮ টি রাজ্যের শিক্ষক – শিক্ষিকারা SPQEM টাকা পেলেন, সেখানে পশ্চিমবাংলার শিক্ষক – শিক্ষিকারা বঞ্চিত রইলেন। এর জন্য সম্পূর্ণ দায়ী পশ্চিমবাংলার রাজ্য সরকার । অথচ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে সাড়া দিয়েছিলাম আমরা, এখন দেখছি উনিই আমাদের পথে বসিয়ে ছাড়লেন। আমরা আশাবাদী মাদ্রাসা শিক্ষার পূর্ণ মন্ত্রী মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সহৃদয়তা দিয়ে বিষয়টি দেখবেন ।

ডেপুটেশন দেওয়ার পরে আন্ – এডেড্ মাদ্রাসা বাঁচাও কমিটির পক্ষ থেকে উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি মোঃ মোস্তফা জানান- জেলাশাসক ডেপুটেশন নিয়েছেন আনুগত্যের সহিত এবং আমাদের দাবীগুলি যে যুক্তি সঙ্গত সেটাও বলেছেন ।

পশ্চিমবঙ্গ আন্ – এডেড্ মাদ্রাসা বাঁচাও কমিটির রাজ্য সম্পাদক আব্দুল ওহাব মোল্লা সাহেব বলেন প্রতিটি জেলায় ডেপুটেশন দেওয়ার কর্মসূচি চলছে, জেলাস্তর গুলি শেষ হয়ে গেলে নবান্ন অভিযানের ডাক দেওয়া হবে ।


শেয়ার করুন
  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment