আন্তর্জাতিক 

হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করার পর যুদ্ধ বিরতি: ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল তেল-আবিব! গদি রক্ষা করতে পারবেন!

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : গেরিলা কায়দায় হামাসের আক্রমণে স্থলযুদ্ধে কার্যত বিপর্যস্ত হয়েছে ইসরাইল সেনারা । বিমান বাহিনীর মাধ্যমে আকাশ থেকে নির্বিচারে গাজার সাধারণ নাগরিকদের উপর আক্রমণ না চালালে ইসরাইলের আস্ফালন প্রকাশ পেত না । বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করা ছাড়া ইসরাইল এই সংঘর্ষে তেমন কোনো সাফল্য পায়নি বলে আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে । যেভাবে হাসপাতাল থেকে শুরু করে জাতিসংঘের শরণার্থী শিবির এবং স্কুল-কলেজে বোমা বর্ষণ করেছে ইসরাইল তা একথায় মানবাধিকার বিরোধী । মানবাধিকারের স্বঘোষিত অভিভাবকরা আজ নিরব থেকে ইসরাইলের গনহত্যাকে সমর্থণ করেছে । এতো কিছু করার পরেও গাজায় স্থলযুদ্ধে হামাসকে পরাজিত করতে পারেনি ইসরাইল । এমনকি নেতানিয়াহুর হুংকার ছিল হামাসকে নিশ্চিহ্ন করে তাদের হাতে বন্দী ইসরাইলি নাগরিকদের মুক্ত করবেন । হামাসের সঙ্গে কোনো আলোচনা করতে রাজি ছিলেন না বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু । তিনি হামাসকে এক জঙ্গি সংগঠন বলে অভিহিত করেছিলেন । তিনি ঘোষণা করেছিলেন গাজা থেকে হামাসকে নিশ্চিহ্ন করার পর এমন এক সরকার বা প্রশাসনের হাতে গাজার শাসনভার দেওয়া হবে যারা ইসরাইল বিদ্বেষী হবে না । কিন্ত বাস্তব হলো ইসরাইলের অহংকারকে ভেঙে চুরে তছনছ করে দিয়েছে হামাস ।

দীর্ঘ ৪৮ দিন ধরে যুদ্ধ করার পরেও হামাসের অবস্থান, তাদের সুরঙ্গ এবং তাদের অস্ত্রভান্ডারের সন্ধান বের করতে পারেনি ইসরাইল । এমনকি ইসরাইল গোয়েন্দা দফতর মোসাদ থেকে শুরু করে মার্কিন গোয়েন্দা দফতরের তৎপরতা সত্ত্বে হামাসের কিছু করতে পারেনি ইসরাইল । স্থলযুদ্ধে হামাসের গেরিলা আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে ইসরাইল সেনারা । তাই কাতারকে মধ্যস্থতা মেনে হামাসের সঙ্গে লজ্জাজনক চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হলেন নেতানিয়াহু । ফলে নেতানিয়াহুর সম্মান থেকে ইসরাইলি জাতীয়তাবাদ আজ ভূলুন্ঠিত ।

Advertisement

যুদ্ধ বিরতি নিয়ে অনেকেই হামাসের ব্যর্থতাকে প্রকটভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিল বিশেষ করে ইসরাইল ঘনিষ্ঠ মিডিয়াগুলো । তারা এমনভাবে বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করেছে যেন মনে হচ্ছে ইসরাইল দয়া করে এই যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করেছে । গণমাধ্যমের এই প্রচারে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছে , এমনকি আমাদের দেশের গণমাধ্যমগুলোও ইসরাইলির নারকীয় হত্যাযঞ্জের কোনো সমালোচনা না করে এমন ভাবে খবর পরিবেশন করছে যাতে মনে হচ্ছে ইসরাইল হঠাৎ করেই মানবিক হয়ে উঠেছে । ১২ থেকে ১৪ হাজার নিরস্ত্র জনতাকে হত্যা করার পর এবং ৬০ হাজারের বেশি মানুষকে আহত করার পর মানবিক সাজা যে মানবাধিকারের লজ্জা সে কথাটি বলতে ভুলে যাচ্ছে তথা কথিত গণমাধ্যমগুলি ।

যাইহোক শেষ পর্যন্ত হামাসের কাছে মাথানত করে ইসরাইলকে বন্দী বিনিময় চুক্তি করতে হয়েছে । হামাস তো প্রথম দিন থেকেই ইসরাইলের কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মুক্তির বিনিময়ে পণবন্দী মুক্তি দিতে চেয়েছিল তাহলে অহেতুক কেন ১২ থেকে ১৪ হাজার মানুষকে হত্যা করা হলো ? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন নেতানিয়াহু থেকে জো বাইডেন । এতো গুলি মানুষের রক্তের বিনিময়ে নেতানিয়াহু কী পেরেছেন তাদের পণবন্দীদের মুক্ত করতে ? তাহলে কেন এই রক্তস্রোত ? আর দেখুন ভাগ্যের পরিহাস হামাসের শর্ত যুদ্ধ বিরতি যেমন মেনে নিয়েছেন নেতানিয়াহু। একই রকমভাবে একজন ইসরাইলি বন্দীর বিনিময়ে তিন জন ফিলিস্তিনি নাগরিককে ইসরাইলের কারাগার থেকে ছাড়তে হচ্ছে । এখনও পর্যন্ত এভাবে মুক্তি পাচ্ছে সকলেই । তাহলে এটা কী ইসরাইলের কাছে লজ্জার বিষয় নয় ? নেতানিয়াহুর হুংকার এখন আকাশে মিলিয়ে গেল ।

আর এতেই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর পতনের সুর প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ! গতকাল রবিবার থেকেই ইসরাইলের রাজধানী তেল অবিবে শুরু জনতা বিক্ষোভ । লক্ষ লক্ষ ইসরাইল নাগরিক বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে । অচিরে হয়তো দেখা যাবে গদিচ্যুত হচ্ছেন একুশ শতকের অন্যতম গণহত্যার নায়ক বেঞ্জমিন নেতানিয়াহু । অন্যদিকে, মার্কিন এক সংস্থা গবেষণা করে দেখেছে ৪৮ দিন ধরে গাজায় বোমা বর্ষণ করার পরেও ফিলিস্তিনে হামাসের জনপ্রিয়তা বেড়েছে । গাজায় হামাসের শাসন এখনও বলবত রয়েছে , হামাসের বিকল্প কোনো সংগঠন বা সংস্থাকে পচ্ছন্দ করছে গাজাবাসী । এবার পশ্চিমতীরেও হামাসের জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে । ওখানকার শাসক মাহমুদ আব্বাসের জনপ্রিয়তা নেই বললেই চলে । বিশেষ করে গত ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর ইসরাইলের নারকীয় আক্রমণে পশ্চিম তীরের নাগরিকদের ৯০ শতাংশই নাকি হামাসের সমর্থক হয়ে উঠেছে । মার্কিন এই সংস্থার সমীক্ষা রিপোর্ট সামনে আসার পর এখন নেতানিয়াহু থেকে জো বাইডেনদের হাত কামড়ানো ছাড়া অন্য কোনো উপোয় নেই !


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ