জেলা 

এ যেন উলাট পুরান! তৃণমূলের প্রধানই বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না, বেরোলেই জনতা মারছে, পুলিশ শাসকদলের পক্ষে নয়, নিরপেক্ষ! জনতার প্রতিরোধে মালদহের চাঁচলে অসহায় শাসকদল ! কেন ? জানতে হলে পড়ুন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : অশান্তির সূত্রপাত মহালয়ার দিন থেকে সপ্তমীর দিনে সামান্য অশান্তি আর বিসর্জনের ঘণ্টা বাজার পর একাদশীর সকালে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মালদাহের চাঁচলের কলিগ্রাম প্রাণসাগর এলাকা। যদিও সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুসারে অশান্তি মূলত কংগ্রেস সিপিএম বনাম তৃণমূলের মধ্যে। কিন্তু জানা গেছে মূলত গ্রামবাসীদের প্রতিরোধে তৃণমূল নেতারা অস্থির হয়ে পড়েছে।

গ্রামবাসীরা এক জোট হয়ে স্থানীয় প্রধানের বিরুদ্ধে এবং প্রধানের পরিবারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। এমনকি বুধবার সকালে প্রধানের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে গ্রামবাসীরা সকলে মিলে। ঘটনার খোঁজখবর করতে গিয়ে বাংলার জনরব জানতে পেরেছে গত পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকেই এর সূত্রপাত।

Advertisement

কারণ এলাকার মানুষ কেউই তৃণমূল কংগ্রেসকে জেতাতে চাইনি, যেভাবেই হোক তৃণমূল কংগ্রেস গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই চত্বরে জিতে যায়। সাধারণ মানুষের জনা দেশ না থাকার কারণে পক্ষান্তরে তৃণমূল কংগ্রেস জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে মালদহের চাঁচলে। আর এই কারণেই ক্ষমতায় থেকেও কিছু করতে পারছেন না তৃণমূলের অঞ্চল প্রধান রেজাউল খান।

এমনকি প্রধান রেজাউল খানের ভাই ইমরান খানকে মহালয়ার দিন প্রচন্ড পরিমাণে মারধর করেছিল স্থানীয় সাধারণ মানুষ।

তৃণমূল প্রধানের দাবি কংগ্রেস ও সিপিএম দু’পক্ষ মিলে এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে চাইছে অন্যদিকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে আসলে তৃণমূল কংগ্রেস সন্ত্রাস কায়েম করেছে আর এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গ্রামবাসী রুখে দাঁড়িয়েছে।

ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে এই সংঘাতের সূত্রপাত মহালয়ার দিন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দিন দু’পক্ষের বচসা বাধে। অভিযোগ, সে দিনই মোটরসাইকেল নিয়ে ফেরার সময় পঞ্চায়েত প্রধানের ভাই ইমরান খানের উপর বাঁশ, বাটাম নিয়ে হামলা চালায় কংগ্রেসের লোকজন। তার পর সপ্তমীতে ফের উত্তপ্ত হয় এলাকা। সে দিন আবার এক কংগ্রেস কর্মীর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বুধবার ভোরে রেজাউলের পুরনো বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে।

শাসকনেতা তথা পঞ্চায়েত প্রধান রেজাউল বলেন, ‘‘আমরা বাজার-হাট করতে পারছি না। যেখানে যাচ্ছি সেখানেই মারছে।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, ‘‘আমি পঞ্চায়েত প্রধান, অথচ আমিই তিন দিন ধরে বাড়ি থেকে বেরোতে পারছি না। পুলিশকে বলছি, পুলিশ কিছুই করছে না। উল্টে আমাদের নামে মামলা দেওয়া হচ্ছে।’’ রেজাউলের আরও অভিযোগ, কংগ্রেসের লোকজন তাঁর ভাইয়ের পুকুরে বিষ দিয়ে অন্তত ৩৫ কুইন্টাল মাছ মেরে ফেলেছে।

মালদহ জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি দুলালচন্দ্র সরকার বলেন, ‘‘পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে থেকেই কংগ্রেস, সিপিএম মিলে তৃণমূলকে কোণঠাসা করতে চাইছে। ভোটে হেরে গিয়ে তারা এখন হিংসার আশ্রয় নিচ্ছে।’’ পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ নিয়ে দুলাল বলেন, ‘‘পুলিশ পুজো নিয়ে ব্যস্ত। সেটাও তাঁদের সামলাতে হচ্ছে। উৎসবের মরসুমে সব জায়গায় একসঙ্গে সামাল দেওয়া মুশকিল। তবে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’’

স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, প্রধানের লোকজনই হামলা চালিয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। স্থানীয়রা প্রতিরোধ গড়েছেন। বুধবার এ নিয়ে চাঁচল-আশাপুর রাজ্য সড়ক অবরোধ করে তৃণমূল। সব মিলিয়ে জনতার প্রতিরোধের কাছে প্রকৃতপক্ষে তৃণমূল নেতৃত্ব অসহায় হয়ে পড়েছে একই সঙ্গে অসহায় হয়ে পড়েছে পুলিশও। কারণ পুলিশ শাসক দলের হয়ে কাজ করলে এলাকার জনতা এতটাই ক্ষেপে যাচ্ছে যে সবকিছু অচল করে দিচ্ছে তাই পরিস্থিতি বুঝে পুলিশকে অনেকটাই নিরপেক্ষ হতে হয়েছে আর এখানেই সমস্যায় পড়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। পুলিশ যদি নিরপেক্ষ হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে তৃণমূলের পরিণতি কি হতে পারে তা মালদায়ের চাচোল এর কলি গ্রামের প্রধানের অবস্থা দেখেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ