জেলা 

নিউটাউনের আইনজীবীর মৃত্যু রহস্য ঘনীভূত, আটক স্ত্রী

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিনিধি : নিউটাউনের আইনজীবী রজত দে মৃত্যু নিয়ে রহস্য দানা বাধতে শুরু করেছে । তাঁর পিতার অভিযোগের ভিত্তিতে মৃতার স্ত্রী অনিন্দিতাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময়  বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় শনিবার তাঁকে আটক করা হয়। পুলিশের অনুমান, অনিন্দিতাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করলেই রজতের মৃত্যুরহস্যের উন্মোচন হবে।

উল্লেখ্য,গত শনিবার রাতে মৃত্যু হয় আইনজীবী রজত দে’র। তাঁর বাবা সমীরবাবু অভিযোগ করেন, সেদিন রাতে তাঁকে ফোন করে রজতের শ্যালক অভীক পাল। বলা হয়, রজত অসুস্থ। সমীরবাবু যেন তৎক্ষণাৎ রজতের নিউটাউনের ফ্ল্যাটে চলে আসেন। রজতকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে অভীক জানায় অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টা করেও অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়নি।

তারপর বরানগর থেকে তড়িঘড়ি নিউটাউনে আসেন সমীরবাবু। তিনি এসে দেখেন ফ্ল্যাটের দরজা খোলা রয়েছে। ঘরে নেই অনিন্দিতা ও অভীক। আর ঘরে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে রজতের দেহ। রজতের গলা ও শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্নও দেখেন সমীরবাবু। ঘরের জিনিসপত্রও লন্ডভন্ড ছিল। সন্দেহ হওয়ায় সমীরবাবু নিউটাউন থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। খুন, তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মঙ্গলবার রজতের ময়নাতদন্ত করা হয়।

ইতিমধ্যে অনিন্দিতাকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। অনিন্দিতা পুলিশের সামনে বলে, গলায় চাদর পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে রজত। প্রমাণস্বরূপ পুলিশকে একটি চাদরও দেয় অনিন্দিতা। কিন্তু, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসতে দেখা যায় সরু তার জাতীয় কোনও জিনিসে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে রজতের। ঘটনার দিন ঘরের জিনিসপত্রও লন্ডভন্ড ছিল। পুলিশের অনুমান, মৃত্যুর আগে প্রতিরোধের প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন রজত। তাঁর গলা ও শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন সেই তত্ত্বকে আরও জোরালো করেছে। এমতাবস্থায় চাদর পেঁচিয়ে আত্মহত্যার তত্ত্ব বানানো বলেই মনে করছেন গোয়েন্দারা।

অপরদিকে, আজ বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার জ্ঞানবন্ত সিংহ নিউটাউন থানায় আসেন। তিনি তদন্তকারী আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি। তারপরই অনিন্দিতাকে আটক করা হয়।

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment