আন্তর্জাতিক 

ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা ও গাজায় অবিলম্বে নিরীহ জনতার উপরে বোমাবর্ষণ বন্ধ না হলে, মুসলিম দেশগুলি তেল রফতানিতে লাগাম টানতে পারে ইঙ্গিত কায়রো শান্তি সম্মেলনে

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিনিধি: বিগত ১০০ বছর ধরে এরকম উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলন আর কোনদিন দেখেনি বিশ্ব। গত শনিবার মিশরের কায়রো শহরে শেষ হয়েছে ইউরোপ এবং মুসলিম দেশগুলিকে নিয়ে শান্তি সম্মেলন। এই শান্তি সম্মেলন যৌথ বিবৃতি ছাড়ায় শেষ হয়েছে। মিশরে এই অনুষ্ঠানে এশিয়া এবং আফ্রিকার বহু মুসলিম দেশ যোগ দিয়েছিল সেখানে মুসলিম দেশের রাষ্ট্রনায়করা ফিলিস্তিনি জনতার স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ইসরাইল নামক একটি রাষ্ট্র যেভাবে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের নিজ ভূমি পরবাসী করে রেখেছে পরাধীন করে রেখেছে তার তীব্র নিন্দা করেন। এই সভাতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ইউরোপের রাষ্ট্র নায়কদের সামনেই জানিয়ে দেন গাজায় নিরীহ জনতার উপরে বোমাবর্ষণ বন্ধ না হলে এবং একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা না দিলে আগামী দিনে মুসলিম দেশগুলি তেল রফতানির উপরে লাগাম টানতে পারে। তিনি এও বলেন মুসলিম রাষ্ট্রগুলি যদি তেল রফতানিতে লাগাম টানে তাতে সমগ্র বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা বিপর্যস্ত হতে পারে। বিশ্বজুড়ে সৃষ্টি হতে পারে আর্থিক সংকট। তাই অবিলম্বে ফিলিস্তিনি জনতাকে স্বাধীনতা দিতে হবে এবং গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে হবে। মালোশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমও তীব্র ভাষায় পশ্চিমা দেশগুলিকে আক্রমণ করেন।

Advertisement

তিনি বলেন, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ হলে মানবাধিকারের প্রশ্ন সামনে আসে। আমেরিকা ফ্রান্স ব্রিটেন সহ দেশগুলি রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে ওঠে। আর যখন গাজায় দীর্ঘদিন ধরে সাধারন মানুষের উপরে ইসরাইল আক্রমণ চালাচ্ছে তখন পশ্চিমার দেশগুলি নীরব রয়েছে এই দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে আমাদেরকে গর্জে উঠতে হবে। মুসলিম দেশগুলিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান মালোশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে ইসরাইল যদি গাজা ভূখণ্ডে প্রবেশ করার চেষ্টা করে তাহলে তার পরিণতি হবে মারাত্মক। পশ্চিমা দেশগুলিকে তেল রফতানি বন্ধ করার যে আহ্বান ইরাকের প্রধানমন্ত্রী করেছেন তাকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করেছেন ইরান। ইরান বলেছে বহুদিন থেকে আমরা এই দাবি করে আসছিলাম এতদিন পরে মুসলিম দেশগুলো সেটা বুঝতে পেরেছে। আগামী দিনে যদি ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা না দেয়, গাজা ভূখণ্ডে অবিলম্বে বোমাবর্ষণ বন্ধ না করে তাহলে মুসলিম দেশগুলি কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে বলে ইরান জানিয়েছে।

অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মুসলিম দেশগুলির ঐক্যবদ্ধ আহবানে বেশ খানিকটা ব্যাকফুটে চলে গেছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতার ভূমিকা নিতে ভারতের দ্বারস্থ হতে চলেছে বলে জানা গেছে। নভেম্বরে প্রথম সপ্তাহে নয়া দিল্লি আসতে পারেন মার্কিন বিদেশ ও প্রতিরক্ষা সচিব। কিন্তু ভারতের হস্তক্ষেপে মুসলিম দেশগুলি কি তাদের আহ্বান ফিরিয়ে নেবে? সেটা মনে হচ্ছে না কারণ ইতিমধ্যে বিষয়টিতে নাক গলিয়েছে বিশ্বের দুটি সুপার পাওয়ার দেশ রাশিয়া এবং চীন! ইতিমধ্যে ভূমধ্যসাগরে মার্কিন রণতরি যাওয়ার পরে চিনও রনতরি পাঠিয়ে দিয়েছে ফলে মধ্যপ্রাচকে কেন্দ্র করে বিশ্ব এখন দু’ভাগে ভাগ হয়ে গেছে! এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে মুসলিম দেশগুলো ফিলিস্তিন ইস্যুতে অনড় অবস্থান ধরে রাখতে যদি পারে তাহলে আগামী দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ ইসরাইলকে মুসলিম দেশগুলোর কাছে মাথা নত করতে হবে।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ