আন্তর্জাতিক 

গাজায় গণহত্যা বন্ধ না হলে প্রতিক্রিয়া হবে তীব্র হুঁশিয়ারি ইরানের

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি: অবরুদ্ধ গাজায় যেভাবে ইসরাইলি বাহিনী আক্রমণ চালাচ্ছে তা এক কথায় গণহত্যা বলে তীব্র ভাষায় নিন্দা করলেন ইরানের বিদেশ মন্ত্রী। ইরানের বিদেশ মন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য পাঁচটি দেশ সফর করেছেন। বর্তমানে তিনি লেবাননে অবস্থান করছেন। সূত্রের খবর লেবাননে অবস্থান করাকালীন সময়ে হামাসের নেতার সঙ্গে তিনি বৈঠকও করেছেন। সেই বৈঠকের পরে ই ইরানের বিদেশ মন্ত্রী কার্যত ইসরাইল এবং আমেরিকাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন।

ইরানের বিদেশমন্ত্রীর এই মন্তব্যের একদিন আগেই সৌদি আরবে স্পষ্ট করে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছে, অবিলম্বে গাজায় বোমা ফেলা বন্ধ করতে হবে তা না হলে পরিস্থিতি অন্যদিকে ঘুরে যাবে। এরই মাঝে ইরানের বিদেশমন্ত্রীর পাঁচটি মুসলিম দেশ সফররত মধ্যেই এটা স্পষ্ট হয়েছে যে ইসরাইলকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম দেশগুলি ঐক্যবদ্ধ হতে চলেছে। আর যদি ঐক্যবদ্ধ চেহারা নেই এই মুসলিম দেশগুলি তাহলে আরও সংকটে পড়বে ইসরাইল এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। যদিও আমেরিকা আবারও কিছু অস্ত্রশস্ত্র সহ একটি জাহাজ ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইসরাইলে পাঠাচ্ছে তবে সেটা যে অশনি সংকেত বহন করবে সেই বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহল শঙ্কিত। কারণ এটা পরিষ্কার হয়েছে গাজা ভূখণ্ডে সাধারণ মানুষের উপর ইসরাইল বোমা বর্ষণ করলেও এখনো পর্যন্ত হামাসের কোন নেতাকে কোন কর্মীকে তারা হত্যা করতে পারেনি। উপরন্তু এর ফলে সাধারণ নাগরিক যে খুন হচ্ছে যেটা আন্তর্জাতিক যুদ্ধ অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে ইসরাইল যে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ক্রমশই এক ঘরে হয়ে পড়বে তা নিয়েও কোন সন্দেহ নেই।

Advertisement

এদিকে এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া চীনের অবস্থান এমন একটা জায়গায় রয়েছে যার ফলে আমেরিকাও চাপে রয়েছে। উল্টোদিকে মিশর, তুরস্ক , লেবানন সৌদি আরব এবং সিরিয়া এখন এই বিষয়টিকে নিন্দা করে চলেছে। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া স্পষ্ট ভাষায় হামাসের পাশে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছে। এমন এক পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনিদের উপরে যে বর্বরোচিত আক্রমণ ইসরাইল চালাচ্ছে একে কেন্দ্র করে আগামী দিনে যে মধ্যপ্রাচ্যে আরো সংকট ঘনিয়ে আসবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। মানবাধিকার রক্ষার স্বঘোষিত অভিভাবক আমেরিকা কেন এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে নীরব রয়েছে এবং ইসরাইলের পাশে রয়েছে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা ফিলিস্তিনি নাগরিকদের উপরে ইসরাইলের এই বর্বরোচিত আক্রমণেরকে কেন্দ্র করে মুসলিম বিশ্ব এক হতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্বের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু আমেরিকার কাছ থেকে সরে গিয়ে রাশিয়া কিংবা চীনের হাতে যেতে পারে। ফলে আমেরিকার দাদাগিরি আগামী দিনের চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ