দেশ 

সংসদে চরম সাম্প্রদায়িক ভাষা প্রয়োগ, অভিযুক্ত বিজেপি সাংসদের পদ খারিজের দাবি জানাল জামাআতে ইসলামী হিন্দ

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : পার্লামেন্টের অধিবেশনে মুসলিম সাংসদ কুনওয়ার দানিশ আলীকে জাত-ধর্ম তুলে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করেছে বিজেপি সাংসদ রমেশ বিধূরী। যা নিয়ে দেশজুড়ে হইচই হচ্ছে। জামাআতে ইসলামী হিন্দ এর তীব্র নিন্দা করেছে। শনিবার জামাআতের কেন্দ্রীয় মারকায দিল্লি থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিজেপি সাংসদ রমেশ বিধূরী গণতন্ত্রের পীঠস্থান পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে যে ভাষা প্রয়োগ করেছে, তা চরম আপত্তিজনক ও অবমাননাকর। এমন নোংরা ভাষায় একজন নির্বাচিত সাংসদকে আক্রমণ করা যায় না। এটা রাজনৈতিক সৌজন্য ও সংসদীয় শিষ্টাচারের খেলাপ।

জামাআতের সর্বভারতীয় মিডিয়া সেক্রেটারি কে.কে সুহাইল বলেছেন, বিএসপি সাংসদ দানিশ আলীকে যে ভাষায় আক্রমণ করেছেন বিজেপি সাংসদ রমেশ বিধূরী, তা ভয়ঙ্কর ও অবমাননাকর এবং সংসদ ও গণতন্ত্রের মর্যাদা হানিকর। একজন সাংসদকে সংসদের অধিবেশন চলাকালে যেভাবে সন্ত্রাসী, দালাল, কাটুয়া ইত্যাদি বলে জাত-ধর্ম তুলিয়ে অশালীন ও সাম্প্রদায়িক ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে তাতে সারা বিশ্বের কাছে ভারতের মাথা হেঁট হয়ে গেছে। সাংসদ দানিশ আলীর ধর্মীয় পরিচয় টেনে সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়কে টার্গেট করে একের পর এক বিস্ফোরক বাক্য প্রয়োগ এটাই প্রমাণ করে, গোটা দেশে মুসলিম-বিদ্বেষ কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে। পুরো বিষয়টিকে জামাআত বলেছে, এ ধরনের নোংরা ভাষা কেবল অবমাননাকর কিংবা আক্রমণাত্মকই নয়; বরং এ ধরনের কুরুচিকর ভাষা প্রয়োগ করে ফৌজদারি অপরাধ করেছে বিজেপি সাংসদ রমেশ বিধূরী।

Advertisement

উল্লেখ্য, এই ঘটনার তিন দিন কেটে গেলেও প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেননি, ক্ষমা চাননি বা অভিযুক্ত সাংসদকে ভর্ৎসনা পর্যন্ত করেননি। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা রেকর্ড থেকে ওই বিতর্কিত কথাগুলো কেবল বাদ দেন এবং কীর্তিমান বিজেপি সাংসদকে সাবধান করে বলেন, ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি হলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে দায়িত্ব থেকে খালাস হন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং মৌখিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেই দায় সারেন। জামাআত মনে করে, নতুন সংসদ ভবন শুরুতেই চরম হেট-স্পিচের সাক্ষী হল এবং অভিযুক্ত বিজেপি সাংসদ পার্লামেন্টের মর্যাদাকে ধূলায় মিশিয়ে দিয়ে গণতন্ত্রকে কালিমালিপ্ত করল। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট এসেছে, সংবিধান থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রতিফলন এটাই।

সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রী এমন সাংঘাতিক বিদ্বেষী ঘটনার পরেও মুখে কুলুপ এঁটে থাকলে এভাবেই ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে কটূক্তিকর, উগ্র জাতিয়তাবাদী ও চরম অপমানজনক মন্তব্যের ঝড় বইবে নতুন পার্লামেন্টে। সাংসদ রমেশ বিধূরীর বক্তব্যকে ক্রিমিনাল ও সমাজবিরোধীদের ভাষা বলে অভিযোগ করে জামাআতে ইসলামী দাবি করেছে, অবিলম্বে তার সাংসদ পদ বাতিল করা হোক এবং বিজেপি দল থেকেও তাকে বরখাস্ত করা হোক।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ