জেলা মুখ্যমন্ত্রীর দরবার 

‘কাঞ্জনজঙ্ঘা’ রক্ষা করে জনমানসে প্রশংসিত ‘ছোট্ট মোরসেলিম’কে সরকারি সাহায্য কেন দেওয়া হবে না !

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : শুধুমাত্র সাহসিকতা এবং উপস্থিত বুদ্ধির জোরে ১২ বছরের এক কিশোর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেভাবে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসকে রক্ষা করলেন তা এক কথায় প্রশংসনীয় । কিন্ত এই কিশোরের বাবা পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে গুজরাটে কর্মরত । এতগুলি মানুষকে বড়সড়ো দূর্ঘটনার হাত রক্ষা করার পর তেমনভাবে সম্মান ও গুরুত্ব কেন পেল না তা নিয়ে ইতিমধ্যে জনমানসে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে । মমতা সরকার যেখানে কথায় কথায় চাকরি ও অর্থ  দিতে থাকেন সেখানে ছোট্ট মোরসেলিমের অসম্ভব কাজের স্বীকৃতি শুধু মিষ্ঠি মুখ কেন? আবার এটাকে বড় করে প্রচার করে চলেছেন মন্ত্রী । অথচ এই নিম্নবিত্ত পরিবারকে আর্থিক ও সামাজিকভাবে স্বীকৃতি দিতেই পারত মমতা সরকার । অন্তত ওই ছেলেটির বাবাকে ছোটখাটো একটা সরকারি চাকরি কী দিতে পারেন না মুখ্যমন্ত্রী ? আর ওই জেলার বিধায়ক কিংবা মন্ত্রীরা এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে পরামর্শ বা অনুরোধ করতেই পারতেন ওই সাহসি কিশোরের বাবাকে একটি সরকারি স্থায়ী চাকরি দেওয়ার । কিন্ত দুঃখের হলেও সত্য করা হয়নি বা এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে ।

যদিও সংখ্যালঘু উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী তাজমুল হোসেন গতকাল শনিবার মোরসেলিম শেখের বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে এসেছেন । সাংবাদিকদের কাছে তার ভূয়শী প্রশংসা করেছেন ।তিনি বলেন, “মোরসেলিমের সাহসিকতাকে আমার কুর্নিশ। তাকে আমরা রাজ্য সরকারের তরফ থেকে মালা পরিয়ে বরণ করে মিষ্টি মুখ করিয়েছি। ওর পড়াশোনার জন্য আগামীদিনে সরকারের তরফে সব ধরনের সহায়তা করা হবে। রাজ্য সরকার এই বাচ্চা ছেলেটির পাশে রয়েছে। আর আমি রেল কর্তৃপক্ষকেও অনুরোধ করব, আপনারাও বাচ্চাটিকে সাহায্য করবেন।” এদিকে এই প্রসঙ্গে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সব্যসাচী দে বলেন, ‘রেল লাইনে সমস্যার কথা আমাদের নজরে এসেছে। আমরা তড়িঘড়ি তা ঠিক করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

Advertisement

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে,শুক্রবার দুপুর তখন সাড়ে তিনটে হবে। শিলচরগামী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস তখন প্রবল বেগে ছুটছে। কিন্তু সুপারফাস্ট এই ট্রেনের যাত্রী থেকে শুরু করে চালক কিংবা গার্ড কেউই জানতেন না, সামনে কত বড় বিপদ অপেক্ষা করে রয়েছে। ট্রেন তখন মালদহের ভালুকা রোড স্টেশন পেরোচ্ছে। সেই সময় ওখান দিয়েই বাড়ি ফিরছিল মোরসেলিম। হঠাৎ তার চোখ পড়ে ওই ট্রেন লাইনে। দেখতে পায়, যে লাইনে ট্রেন আসছে, সেই লাইনেরই নীচে মাটি সরে গিয়ে বিশাল এক গর্ত তৈরি হয়ে গেছে। ছোট্ট মোরসেলিম বুঝে যায়, সামনে কত বড় বিপদ ঘটতে চলেছে।

এরপর সেদিন কী ঘটেছে, তা শনিবার মোরসালেম নিজে মুখে জানিয়েছে। সে বলে, ‘আমি মাছ ধরতে রেললাইনের ধারে গিয়েছিলাম। তখন দেখি যে লাইনে আপ কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস আসছিল, সেই রেললাইনের নীচে বড় গর্ত দেখি। সঙ্গে সঙ্গে বিপদ বুঝে গায়ের লাল টি-শার্ট খুলে নাড়তে থাকি। বিপদ বুঝতে পেরে ট্রেন দাঁড়িয়ে যায়। তারপর নেমে এসে তাঁরা সবাই লাইনটি খতিয়ে দেখেন। এরপর ট্রেনের চালক আমাকে পিঠ চাপড়ে দেন।’ এদিকে ছেলের এমন সাহসিকতায় মুগ্ধ মোরসেলিমের বাবাও। বর্তমানে তিনি গুজরাটে রয়েছেন। সেখানেই পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে কাজ করেন তিনি। বলেন, ছেলে ভাল করে পড়াশোনা করে বড় মানুষ হয়ে উঠুক, এই কামনা করছেন। এদিকে ওই কিশোরের সাহসিতকা প্রশংসা করেছেন রাজ্য বিধানসভায় একমাত্র ধর্মনিরেপেক্ষ বিরোধী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী ।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ