অন্যান্য কলকাতা 

Women Reservation Bill: আইন সভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল অনেক আগেই এনেছিল কংগ্রেস, একথা নরেন্দ্র মোদী অস্বীকার করতে পারবেন ?

শেয়ার করুন

সেখ ইবাদুল ইসলাম: আজ মঙ্গলবার ১৯শে সেপ্টেম্বর ভারতের ইতিহাসে একটি দিন হিসাবে চিহ্নিত হবে, যেদিন সংসদে আইনসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশ করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশ করে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন, ‘‘অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলেই মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু সংসদের প্রয়োজনীয় সংখ্যা না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। ঈশ্বর সেই পবিত্র কর্তব্য পালনের জন্য আমাকে বেছে নিয়েছেন।’’

কিন্তু নরেন্দ্র মোদি যাই বলুক না কেন ইতিহাস বলছে সংসদে সর্বপ্রথম মহিলা সংরক্ষণ বিল এনেছিলেন সিপিআই এর সাংসদ গীতা মুখোপাধ্যায়। তিনি এই বিল প্রাইভেট মেম্বার বিল হিসাবে সংসদে পেশ করেছিলেন।

Advertisement

সেই বিল যথাযথভাবে পাস করা যায়নি। পরবর্তীকালে প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপায়ীর আমলে এই বিল পেশ করার চেষ্টা হয়েছিল। সেই সময় সমাজবাদী পার্টি এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলের দাবি ছিল যদি মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশ করা হয় বা পাস করা হয়, তাহলে অবশ্যই তপশিলি জাতি উপজাতি সম্প্রদায়ের জন্য এবং অনগ্রসর শ্রেণীর জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সময় রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকার জন্য বা রাজনৈতিক মতানৈক্য না হওয়ার কারণেই সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশ করা যায়নি।

অন্যদিকে ইউপিএ সরকারের তথা ডঃ মনমোহন সিংয়ের আমলে মূলত কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর উদ্যোগে ২০০৬ সালে রাজ্যসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশ করা হয়েছিল এবং সেই বিল পাসও করা হয় রাজ্যসভাতে। কিন্তু লোকসভায় কংগ্রেসের একক গরিষ্ঠতা না থাকার কারণে সেটা পাস করানো যায়নি। ইতিহাস বলছে মহিলা সংরক্ষণ বিলের কৃতিত্ব মোদী নিতে পারে কিনা তা নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে কংগ্রেস দল যে প্রথম থেকেই মহিলা সংরক্ষণের পক্ষে তা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। তাহলে এতদিন কেন এই বিল লোকসভায় পাস করানো যায়নি! সেটা বড় প্রশ্ন হতেই পারে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে বলা যেতেই পারে কংগ্রেস যখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তখন লোকসভায় তাদের একক গরিষ্ঠতা ছিল না ।তাই জোটের বাধ্যবাধকতায় সিদ্ধান্ত নিয়েও পিছু হটতে হয়েছে।

সুতরাং নরেন্দ্র মোদী বা বিজেপি যে দাবি করছে তা সঠিক নয় মহিলা সংরক্ষণ বিল সংসদে বেশ কয়েকবার পেশ করার চেষ্টা হয়েছে! এমনকি রাজ্যসভাতে এই বিল পাসও হয়েছে শুধুমাত্র দেশের কয়েকটি আঞ্চলিক দলের বিরোধিতার কারণে এই বিল কে আইনে পরিণত করা সম্ভব হয়নি। তাই নরেন্দ্র মোদি একা এই কৃতিত্বের দাবিদার নয় এই কৃতিত্বের দাবিদার অবশ্যই কংগ্রেসও।

একথা অস্বীকার করার জায়গা নেই ঠিক লোকসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে মহিলা সংরক্ষণ বিল সংসদে পেশ করে আসলে সাধারণ মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছে বিজেপি তথা মোদি সরকার। কারণ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যাচ্ছে। মহিলা সংরক্ষণ বিল সংসদে পাস হলেও তা কার্যকরী হবে ২০২৯ সাল থেকে। তাহলে এটা স্পষ্ট সময়ের বিচারে মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর হতে আরো পাঁচ বছর সময় লাগবে। তাহলে এত তাড়াতাড়ি কেন কোন উদ্দেশ্য নিয়ে বিশেষ অধিবেশন ডাকা হল? আগামী লোকসভা নির্বাচনের পরেই তো মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশ করা যেতে পারত। কেন মোদি সরকারের এত তাড়াহুড়ো বড্ড জানতে ইচ্ছা করে!

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ