দেশ 

বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’! মোদি সরকারের ঘুম কেড়ে নিয়েছে! দেশের নাম বদলের জন্যই সংসদের বিশেষ অধিবেশন!

শেয়ার করুন

সেখ ইবাদুল ইসলাম : ঝোলা থেকে বিড়াল শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে পড়ল। আসলে ইন্ডিয়া জোটকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভয় পাচ্ছেন শুধু নরেন্দ্র মোদি নয় আর এস এস সমানভাবে ইন্ডিয়া জোট নিয়ে ভীত হয়ে পড়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট মোদী এবং বিজেপি বিরোধী এই জোটে  রাজনৈতিক দলের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। বহু চেষ্টা করেও ইন্ডিয়া জোটকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে কিন্তু এখনো পর্যন্ত বিজেপি আরএসএস এই কাজের সফল হতে পারেনি। কারণ রাহুল গান্ধী এমন একটি জোটের নাম রেখেছেন যাতে আরএসএসের দফতরে রীতিমতো ভূমিকম্প  হয়েছে।

ইন্ডিয়া নামটিকে সম্বল করেই ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের মানুষের মনকে জয় করেছিলেন। আর আজ বিরোধীদের জোটের নাম যখন ইন্ডিয়া প্রচারে যখন বলছে জিতেগা ইন্ডিয়া। তখন বেশ খানিকটা ব্যাক ফুটে চলে যাচ্ছে আরএসএস এবং বিজেপি। অতএব দেশের নামটাই বদলে দাও। দেশের নাম বদলের জন্যই কি আগামী ১৮ই সেপ্টেম্বর সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকছে মোদি সরকার? সেটাই এখন হাজার কোটি টাকার প্রশ্ন। হঠাৎ করে সংসদ অধিবেশন ডাকার নেপথ্য কারণ কি? তা নিয়ে সমগ্র দেশ যখন আলোচনা সমালোচনায় অধীর তখনই দেখা গেল G 20 সম্মেলনের জন্য আগত প্রতিনিধিদের নৈশ ভোজের আমন্ত্রণপত্রে প্রেসিডেন্ট অফ ভারত কথাটি লেখা হয়েছে। তাহলে এটা পরিষ্কার ইন্ডিয়া শব্দটিকে এতদিন পর পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।

Advertisement

দিল্লির রাজনীতি মহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে যে আগামী সংসদের বিশেষ অধিবেশনে রীতিমতো আইন করে ইন্ডিয়া শব্দটিকে পরিবর্তন করা হবে এবং ভারত শব্দটিকে চালু করা হবে। যদিও ভারতের সংবিধানে ইন্ডিয়া এবং ভারত দুটি শব্দকেই ব্যবহার করা হয়েছে তবুও তড়িঘড়ি করে বিশেষ অধিবেশন ডেকে এটা করার অর্থ কি ? তা এখনো বোঝা গেল না, নাকি দেশজুড়ে নতুন করে জাতীয়তাবাদকে জাগিয়ে তোলা বিরোধী জোটকে কোণঠাসা করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নিয়েছে মোদি সরকার। যেহেতু ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে কিছু বললে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে দেশবিরোধী কথা বলা হচ্ছে অতএব দেশের নাম তাকে পাল্টে দিয়ে ভারত করে দেয়া হোক, তাহলে অন্তত দেশবিরোধী তকমা আর থাকবে না।

তবে মোদি সরকারের এই ইন্ডিয়া শব্দ নিয়ে যে এলার্জি তৈরি হয়েছে তাতেই বিপদ লুকিয়ে রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। কারণ মোদি সরকার যদি দ্রুত ইন্ডিয়া শব্দটিকে পাল্টে দিয়ে ভারত শব্দটি নিয়ে আসে তাহলে আর যাই হোক বিজেপি বিরোধী জোট যে আরো সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। আর এতেই বিজেপি আরএসএস যে দেশবাসীর কাছে আরো কোণঠাসা হয়ে যাবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

সুতরাং মোদি সরকারের উদ্যোগ থেকে এটা স্পষ্ট হয়েছে বিজেপি বিরোধী জোট কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ইন্ডিয়াকে ভয় পাচ্ছে বিজেপি এবং আরএসএস। দেশজুড়ে গড়ে ওঠা বিজেপি বিরোধী এই জোট যে ১৯৭৭ এবং ১৯৮৯ সালের মতোই ইন্দিরা গান্ধী ও রাজিবের পতনকে যেমন সুনিশ্চিত করেছিল একইভাবে মোদির পতনে যে সুনিশ্চিত করতে চলেছে তা অনেকটাই বিজেপি আগবাড়িয়ে এই সমর্থন দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ইন্ডিয়া শব্দটি পাল্টে ভারত শব্দটির জন্য যদি বিশেষ অধিবেশন সত্যিই ডাকা হয়ে থাকে তাহলে এটাই স্পষ্ট হতে চলেছে ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে এদেশের মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করবে কিনা তা নিয়ে স্বয়ং আর এস এসও ধন্দে রয়েছে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ