কলকাতা 

INDIA জোটকে পশ্চিমবঙ্গে স্বাগত ও সমর্থন জানালো ভারত জোড়ো অভিযান

শেয়ার করুন

কলকাতা, ২৯ অগাস্ট, ২০২৩: আজ কোলকাতা প্রেস ক্লাবে প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে ভারত জোড়ো অভিযান ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব INDIA রাজনৈতিক জোটে কে পশ্চিমবঙ্গে স্বাগত ও সমর্থন জানায়। বিজেপি দলের ভারতের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর লাগাতার চরম আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারত জোড়ো অভিযানের পশ্চিমবঙ্গ নেতৃত্ব বলেন যে দেশের মানুষের রুজি, রোজগার, মৌলিক অধিকার, শান্তি, সদভাব ও ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য বিজেপি কে আগামী লোকসভা ভোটে পরাজিত করতে INDIA জোটের ভূমিকা অপরিহার্য। তাই বিজেপিকে ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে পরাজিত করার প্রধান লক্ষ্য নিয়ে সংগঠিত হয়েছে সিভিল সোসাইটি আন্দোলনের উদ্যোগে ‘ভারত জোড়ো অভিযান’, যা এই রাজ্যে INDIA জোটের শরিকদের সমস্ত যৌথ কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। বিজেপিকে পরাজিত করতে প্রায় সমস্ত অবিজেপি শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে যে INDIA জোট গড়ে উঠেছে, ভারত জোড়ো অভিযান তাকে আন্তরিক ভাবেই স্বাগত জানায় এবং আশা করে রাজ্যে রাজ্যে অচিরেই এর সুসংহত সাংগঠনিক রূপ বাস্তবায়িত করা যাবে এবং দ্রুত সমন্বয় গড়ে মোদী সরকারের সমস্ত জনবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে পথে নেমে লাগাতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিজেপিকে পরাস্ত করা সম্ভব হবে।

বক্তারা বলেন যে এটা মনে রাখতে হবে দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর চূড়ান্ত বিরোধী, চরম দুর্নীতিগ্রস্থ বিজেপি সমস্ত বিরোধী স্বরকে অবরুদ্ধ করতে ED, CBI, NIA ও আয়কর দপ্তরকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করেছে। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় আয়োগ ও বিচার ব্যবস্থাকেও করায়ত্ত করার চেষ্টা চলছে। এমনকি মাননীয় রাজ্যপালের পদকেও অপব্যাবহার করে অবিজেপি দল শাসিত রাজ্য সরকারগুলির কাজে হস্তক্ষেপ ও সাংবিধানিক রীতিনীতিগুলি উলঙ্ঘন চলেছে, যা কখনই মেনে নেওয়া যায় না। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল যেভাবে প্রতিনিয়ত সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপে হস্তক্ষেপ করছেন, যেভাবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে RSS-এর অনুগামীদের নিযুক্ত করছেন, তা চরম নিন্দনীয়।

Advertisement

রাজ্যে রাজ্যে বিরোধী দলের নেতা থেকে শুরু করে বিরোধী সংবাদ মাধ্যম পর্যন্ত আজ বেআইনি আক্রমণের লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। ভারত জোড়ো অভিযান দাবি করে যে ED, CBI, NIA ও আয়কর দপ্তরের সন্ত্রাস বন্ধ হোক। রাজ্যপালরা বিজেপি নেতা হিসাবে কাজ করা বন্ধ করুক।

বক্তারা এও বলেন যে এক নেতা, এক ধর্ম, এক ভাষার আওয়াজ তুলে বিজেপি শুধু ধর্মীয় সংখ্যালঘু মানুষই নয়, শ্রমিক, কৃষক, দলিত, আদিবাসী, মহিলা ও পূর্বাঞ্চল-সহ দেশের সমস্ত বৈচিত্র্যকে বিপন্ন করে আসলে গোটা দেশটাকেই বিপন্ন করছে। তাঁরা আহ্বান জানান: আসুন, ধর্ম ব্যবসায়ীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করি। গণ আন্দোলনের ফলে দেশের আইনি ব্যবস্থার যেটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তাকে নস্যাৎ করতে আনা বিভিন্ন জনবিরোধী মোদী-আইন প্রত্যাহার বা রোল-ব্যাক করানোও হবে এক বড় দায়িত্ব। আসুন, গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা, শান্তির পরিবেশ এবং সর্বোপরি আমাদের সংবিধানকে রক্ষা করি। দেশের নয়া সরকারকে চালিত করি এক বিকল্প উন্নয়নের মডেলকে সামনে রেখে এবং সংবিধানের উল্লেখিত আদর্শ ও প্রতিশ্রুতি পালনের লক্ষ্যে।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ