কলকাতা বিনোদন, সংস্কৃতি ও সাহিত্য 

‘স্বধীনতার কবিতা,কবিতার স্বাধীনতা’ বিষয়ে বাংলার জনরবের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে প্রাঞ্জল আলোচনা

শেয়ার করুন

সংবাদদাতা বাংলার জনরব: গত ১৫ ই আগস্ট ২০২৩ সগৌরবে উদযাপিত হলো ভারতের ৭৭ তম স্বাধীনতা দিবস। ৭৭তম স্বাধীনতা দিবস কে সামনে রেখেই পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল বাংলার জনরব গত ২৭ আগস্ট রবিবার রাত্রি ৮ টায় পোর্টালের সাহিত্য বিভাগ আয়োজন করেছিল এক ব্যতিক্রমী ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান। যার বিষয় ছিল ‘স্বাধীধতার কবিতা,কবিতার স্বাধীনতা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আলোচনা, গান, কবিতা পাঠের এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগদান করেছিলেন প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের স্বনামধন্য সংগীত শিল্পী কবি সমীরকান্তি দেবনাথ, পশ্চিববঙ্গের বিশিষ্ট কবি শংকর কুমার ঘোষ, আরজুমান দিলশাদ ও শিশু আবৃত্তি শিল্পী কিঞ্জল দাস।

পোর্টালের কর্ণধার সেখ ইবাদুল ইসলামের স্বাগত ভাষণ এবং সাহিত্য সম্পাদক কথাশিল্পী সেখ আব্দুল মান্নানের অতিথিদের পরিচয় করানোর পর শিল্পী সমীরকান্তি দেবনাথের দেশাত্মবোধক গান দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। গান শুরুর আগে শিল্পী সমীরকান্তি দেবনাথ ‘স্বাধীনতার কবিতা, কবিতার স্বাধীনতা’ বিষয়টির তাৎপর্য সংক্ষেপে বিশ্লেষণ করেন। তিনি উদাত্ত কন্ঠে পরিবেশন করেন কালজয়ী রবীন্দ্র সংগীত ‘ ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা’ এবং কাজী নজরুল ইসলামের ‘ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি আমার দেশের মাটি’ প্রাণজুড়ানো দুখানি গান।

Advertisement

স্বাধীধতা দিবসের উপর একগুচ্ছ স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি আরজুমান দিলশাদ, বর্ষীয়ান কবি শংকর কুমার ঘোষ, বালক কিঞ্জল দাস, কণকপ্রভা দাস ও সেখ আব্দুল মান্নান। ‘স্বাধীনতা’, ‘আমরা কতটা স্বাধীন’, ‘ হায়রে স্বাধীনতা ‘ শিরোনামে তিনটি কবিতা পাঠ করে শোনান আরজুমান দিলসাদ । কবি শংকর কুমার ঘোষ তাঁর কবিতা পাঠের আগে এদিনের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে আলোকপাত করে বলেন ‘আজকের বিষয়টি এই সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক এই বিষয়কে সামনে রেখে বিদ্রোহী কবি নজরুল তাঁর একাধিক কবিতায় আমাদের প্রাপ্ত স্বাধীনতা সম্পর্কে বেশ কিছু সংশয় ও যুক্তিপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন। তিনি খেদের সঙ্গে লিখেছিলেন ‘ তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু আর আমি জাগিব না/কোলাহল করি সারা দিনমান কারো ধ্যান আমি ভাঙিব না।’ এরপর তিনি উদাত্ত কন্ঠে পাঠ করেন তাঁর স্বরচিত দীর্ঘ কবিতা ‘সাতাত্তর’। ছোট্ট কিঞ্জল দাস কচিকন্ঠে দৃঢ়তার সাথে বিপ্লবের কবিতা আবৃত্তি করে সবার মন জয় করে নেয়।

সেখ আব্দুল মান্নান আলোচনার নির্ধারিত বিষয় সম্পর্কে বলেন, আমাদের দেশ যখন বৃটিশের অধীনে ছিল এবং দেশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে দেশের স্বাধীনতা সগ্রামীরা জীবনপণ আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন। থেমে থাকেননি দেশের কবি সাহিত্যিকরা। তাঁরাও তাঁদের কলমে দেশাত্মবোধক কবিতা গান রচনা করে স্বাধীনতা সগ্রামী তথা দেশবাসীদের আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর দেশের নির্বাচিত সরকারের কোন ভুল পদক্ষেপ দেখলেও কবিরা কলম ধরেছেন, প্রতিবাদ করেছেন। শাসকের ইচ্ছার পরিপন্থী কোনো কবিতা লেখার জন্য কখনো কখনো সেই কবিকে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। আজও ক্ষেত্র বিশেষে সেই ধরণের কবিতার স্বাধীনতার ওপর লাগাম টানা হয়। যা কাম্য নয়।

বিষয়টি সম্পর্কে সেখ ইবাদুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার ৭৬ বছর পরেও আজকের আলোচ্য বিষয় অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলেই মনে করি। প্রসঙ্গত তিনি বলেন মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, পন্ডিত জহরলাল নেহেরু, সর্দার প্যাটেলরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন দেশ যে স্বাধীনতা চেয়েছিল সে স্বাধীনতা দেশের মানুষ সর্বাংশে ভোগ করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শেষে তিনি বলেন, এ ধরণের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলার জনরব সাহিত্য সংস্কৃতিতে মানুষে মানুষে ব্যবধান দূর করার কাজ করে যাচ্ছে, আগামীতেও করে যাবে।

বাংলার জনরবের এদিনের অনুষ্ঠানে আলোচনা, গান, কবিতা পাঠ হয়েছে তা আগামীতে সমাজের মানুষকে কিছুটা হলেও ভাবাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত আমন্ত্রিত শিল্পী ও কবিরা।

 

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ