কলকাতা 

একুশে জুলাই এর ঐতিহাসিক মঞ্চ থেকে মমতার নয়া স্লোগান,‘‘হিন্দুস্থান জিতেগা, মোদী হারেগা, ভাজপা হারেগা’’

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে বাম কংগ্রেসের সমর্থক কর্মীরা খুন হলেও একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে তেমন ভাবে বাম কংগ্রেসকে নিশানা করলেন না দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরং প্রথম থেকেই নিশানায় ছিল বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দুজনেই একুশে জুলাই এর মঞ্চ থেকে ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে দিলেন। কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোট গঠিত হলেও আজকের সমাবেশ দেখে মনে হচ্ছিল এই জোটের মূল প্রচারক হল তৃণমূল কংগ্রেস।

জোটের স্লোগান দিতে দিতে তৃণমূলের দুই প্রবাদপ্রতিম রাজনীতিবিদ ভুলেই গিয়েছিল কেরলেতে ক্ষমতায় আছে বামেরা কিন্তু স্লোগান দিতে যেতে বলে দিলেন কেরলেতে কে উত্তর এলো ইন্ডিয়া। অভিষেক বললেন সারাদেশে কে? সমাবেশ বলল ইন্ডিয়া!

Advertisement

তৃণমূল নেতৃত্ব এমনভাবে ইন্ডিয়া শব্দটির ব্যবহার করছে মনে হচ্ছে যেন তারাই এদেশে এই শব্দটি ব্যবহার শুরু করল। আসলে তৃণমূল নেতৃত্ব ভেবেই দেখছেন না আগামী লোকসভা নির্বাচনে তারা যদি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে তাহলে এই রাজ্যের হিন্দু ভোট সবটাই চলে যাবে বিজেপিতে আর মুসলিম ভোটের একটা বড় অংশ চলে যাবে বাম এবং আই এস এফের দিকে। রাজনৈতিক ভাষ্যকার রা বলছে এই রাজ্যে যদি কংগ্রেস এবং বামেদের মধ্যে জোট হত তাহলে বাম কংগ্রেস রোড সর্বসাকুল্যে আট থেকে দশটি লোকসভা আসন দখল করতে পারত কিন্তু যদি তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেসের মধ্যে জোট হয় সেক্ষেত্রে কংগ্রেস চারটি আসন দখল করবে এবং তৃণমূল কংগ্রেস কটি আসন দখল করতে পারবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

একথা অস্বীকার করার উপায় নেই জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে হয়তো এ রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস এবং জাতীয় কংগ্রেসের জোট হতে পারে তবে সেই জোট এর সাফল্য কংগ্রেস পাবে তৃণমূল কংগ্রেস সেভাবে পাবে না। কাল রাজনৈতিক যে আভাস তা থেকে তার স্পষ্ট হচ্ছে যে দক্ষিণবঙ্গের পুরো মুসলিম ভোটের অর্ধেকটা চলে যাবে আইএসএফ এবং বামেদের দিকে । ফলে যখন জাতীয় কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের জোট হবে তখন মুসলিম ভোটের একটা বড় অংশ কংগ্রেসকে ভোট দিলেও তৃণমূলকে দেবে কিনা সন্দেহ অন্যদিকে হিন্দু ভোটের বড় অংশটা চলে যাবে বিজেপির থেকে ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের খুব বেশি ফায়দা এতে হবে না।

এই রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ না করে যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেস ইন্ডিয়া কথাটিকে সামনে এ নে রাজ্যবাসীকে একটা বার্তা দিতে চাইছেন তাকে খুব বেশি সফল যে হবে এটা বলা যাবে না। তবে জাতীয় কংগ্রেস ছাড়া এদিনের সভায় বামেদের বিরুদ্ধেও তেমনভাবে মুখ খোলেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিটি সভাতে ই সিপিএমকে আক্রমণ করে থাকেন কিন্তু একুশে জুলাই এর ঐতিহাসিক সমাবেশে শুধুমাত্র বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জামানার একটি উদাহরণ দিয়ে মমতা চুপ করে যান।

মমতা বলেন, ‘‘বুদ্ধদেববাবুর আমলে কী হয়েছিল? মমতার নামে আপনাদের তো চিরকাল ‘অ্যাল্যার্জি’! ২০০৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০০৮ সালে ভোটের দিনে ৩৯ জন মারা গিয়েছিল। এ বার মারা গিয়েছেন ২৯ জন। তার মধ্যে তৃণমূলেরই ১৮ জন।’’ পঞ্চায়েত ভোটপ্রক্রিয়ায় ‘হিংসা’ এবং ‘সন্ত্রাস’ নিয়ে সরকার তথা শাসকদলকে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। সেই কারণেই মমতা ওই তুলনা টেনেছেন। পাশাপাশিই, উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, ‘‘৭১ হাজার বুথে ভোট হয়েছে। ভাঙড়ে হাঙরেরা গোলমাল করেছে। ডোমকলে গোলমাল হয়েছে। সেখানে আমরা হেরেছি। চোপড়া-ইসলামপুরে আর কোচবিহারে গোলমাল হয়েছিল। যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তার জন্য আমি দুঃখিত।’’ আর বক্তৃতার শেষ দিকে বলেছেন, ‘‘আমাদের পঞ্চায়েতগুলো সিপিএমের সরকারের কায়দায় কাজ করবে না। আমাদের সরকারের মতো করবে।’’ এই পর্যন্তই! যা তুলনায় অনেক ‘নরম’ বলেই অনেকে মনে করছেন।

তবে বাম কংগ্রেসের প্রতি নরম মনোভাব দেখালেও এ রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদীকে মমতা তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন,‘‘উনি রাজস্থান, ভোপাল— সর্বত্র গিয়ে বাংলার নিন্দা করে বেড়াচ্ছেন। মোদীজি, আপনি বাংলার বদনাম করছেন। বাংলাকে অসম্মান করছেন।’’ তবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বা তৃণমূলের সর্বময় নেত্রীর থেকে শুক্রবার মমতা বেশি করে চোখে পড়েছেন ‘ইন্ডিয়া’-র (ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স) প্রতিনিধি হিসাবে। বাংলায় বক্তৃতার মধ্যে বিশেষ বিশেষ জায়গায় ব্যবহার করেছেন হিন্দি ভাষা। বলেছেন, ‘‘হিন্দুস্থান জিতেগা, মোদী হারেগা, ভাজপা হারেগা।’’

পাশাপাশি মমতা এও জানিয়ে দিলেন, জোটর ‘মুখ’ হতে তৃণমূলের আলাদা কোনও বাসনা নেই। মমতা বলেছেন, ‘‘আমরা ইনক্লুসিভ (সম্মিলিত) জোট তৈরি করতে পেরেছি। সবটাই ‘ইন্ডিয়া’র ব্যানারে হবে।’’ আরও বলেছেন, ‘‘আমরা চেয়ারকে কেয়ার করি না। ‘ইন্ডিয়া’ লড়বে। তৃণমূল কংগ্রেস পাশে সৈনিকের মতো ঝান্ডা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকবে। বিজেপি দেশ থেকে রাজনৈতিক ভাবে বিদায় নিক। আর সহ্য করা যাচ্ছে না। সব সীমা পার করে গিয়েছে।’’ অর্থাৎ, মমতা আর ‘আমি’ নয়, ‘আমরা’-র কথা বেশি গুরুত্ব দিয়ে বলা শুরু করেছেন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ