কলকাতা 

UCC নিয়ে SDPI এর অবস্থান জানালেন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হাকিকুল ইসলাম

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি: ২০১৪ সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হাতে পাওয়ার পর সংবিধানের উপর হস্তক্ষেপ করে একের পর এক দেশ বিরোধী আইন নিয়ে এসেছে বিজেপি সরকার। আবারও এক দেশ এক আইনের নামে নিয়ে এসেছে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC), কি এই আইন? এর দ্বারা লাভ কি ক্ষতি কি তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করলেন সোস্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়ার রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হাকিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন দেশের যাবতীয় আইন গুলোকে দুই ভাবে ভাগ করা হয়, ধর্মীয় মৌলিক অধিকার দ্বারা আবিষ্ট করা দেওয়ানি আইন ও যাবতীয় অপরাধ মূলক ফৌজদারি আইন যেগুলো সব ইউনিফর্ম, অর্থাৎ দেশকে নিরাপত্তার সাথে শান্তিপূর্ণ ভাবে পরিচালনা করার জন্য ক্রিমিনাল অ্যাক্ট হিসেবে ইন্ডিয়ান পেনাল কোড ১৮৬০, কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসেডিউর ১৯৭৩, এবং ইন্ডিয়ান এভিডেন্স অ্যাক্ট ১৮৭২ এর আয়ত্তে সারা ভারতীয়দের উপর আইন তো ইউনিফর্ম, অর্থাৎ অভিন্ন। তাহলে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কেন আবার আইন ব্যবস্থাকে কথিত অভিন্নতার মোড়কে ছাপতে চাইছে সেটা জনগণকে বুঝতে হবে!

Advertisement

বর্তমান সরকারের এই মিথ্যে অভিন্নতার বলিকাষ্ঠে যদি প্রথম কারো প্রাণপাত হয় সেটা নিঃসন্দেহে ভারতীয় সত্বা তথা ভারতীয় ভাবনার বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের। এই পরিবর্তিত ইউনিফরমিটি জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের মিলিত অস্ত্বিতকে চ্যালেঞ্জ করে প্রত্যেকের সমান অধিকার ও নিজ নিজ ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী জীবন যাপন করার স্বাধীনতাকে কেড়ে নিতে চায়। দেশের সমস্ত দেওয়ানি আইন গুলো উঠিয়ে নিতে চাই যেমন, SC /ST/OBC সংরক্ষণ, আদিবাসীদের ‘ জল জমি জঙ্গলের উপর অধিকার, নারীদের ডিভোর্স, খোরপোষ, বাবার সম্পত্তিতে অংশীদারিত্ব, স্বামী মারা গেলে সন্তানের অধিকার, নারীদের সন্তান দত্তক, শিক্ষা, চাকরির অধিকার সহ ‘ হিন্দু কোড ‘ এর সমস্ত আইন, এমনকি স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট ১৯৫৫ । তার সাথে তো আছেই মুসলিম পার্সোনাল ল অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্ট ১৯৩৭। আর্টিকেল ২৫, ২৬ এর ধর্মীয় স্বাধীনতাও অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে। মুসলিমদের নামাজ, আজান, জাকাত, রোজা, সহ শরীয়তী আইন গুলো উঠিয়ে নেওয়া হবেই তার সাথে উঠে যাবে হিন্দু কোড ‘ এর সব আইন গুলো। উঠিয়ে নেওয়া হবে দেশের সমস্ত ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বা পার্সোনাল আইন গুলো ।

সরকারের এই গতিবিধি দেখে এটা সুস্পষ্ট যে বিজেপি সরকার প্রকাশ্য ভাবে মুসলিম সম্প্রদায়ের কেন্দ্রীয় সত্ত্বাকে মুছে দেওয়ার জন্য কাজ করে চলেছে যার উদাহরণ বাবরি মসজিদের ধংস, সেই একই জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণ, মুসলিম শরিয়তের উপর হস্তক্ষেপ করার জন্য তিন তালাক, শুধুমাত্র মুসলিম জনবহুল জায়গা কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়া অথচ অসংখ্য জায়গায় ৩৭০A সুবিধা ভোগ করছে অমুসলিম সম্প্রদায়। Citizenship amendment act (CAA) থেকে শুধুমাত্র মুসলিম সম্প্রদায়কে বাদ এগুলো দ্বারা সুস্পষ্ট যে সরকার নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে টার্গেট করে কাজ করে চলেছে। এই জন্য কাজ করে চলেছে তারা দেশকে হিন্দু রাষ্ট্র করতে চাই, যেই কথা নোবেল জয়ী অমর্ত্য সেন নিজে বলেছেন।

তাই ইতিপূর্বে তিন তালাক , ৩৭০ ধারা, CAA, NRC এবং ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে পূর্বে সম্পূর্ণ ভাবে মুসলিম পার্সোনাল ল মুছে দেওয়ার জন্য ইউনিফর্ম সিভিল কোড কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের এক এবং অভিন্ন অস্ত্র।

মনুবাদী বিচারধারায় বিশ্বাসী এই সরকার শুধুই যে মুসলিমদের ধ্বংস আনবে তা নয়, তারা সতীদাহ প্রথা পুনরায় লাগু করবে, হিন্দুত্ববাদী নেত্রী বিজয়রাজে সিন্ধিয়া সতীদাহর পক্ষে করা মিছিল এটাই স্পষ্ট করে।

তাই আজ যদি তারা ইউনিফর্ম সিভিল কোড বাস্তবায়ন করে দেয় তাহলে দেশের উপর গভীর অন্ধকার নেমে আসছে তা একশো শতাংশ সুস্পষ্ট। ব্রাহ্মণ্যবাদ এবং মনুবাদের নাগপাশ থেকে ভারতীয়ত্বকে বাঁচাতে সোস্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া UCC- র বাস্তবায়ন রুখতে ইতিমধ্যে নানান ভূমিকা গ্রহণ করেছে।

SDPI বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দল, নেতা, রাজনীতিবিদ ও সচেতন নাগরিকদের কাছে একটি চিঠি পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সেই চিঠিতে ইউনিফর্ম সিভিল কোড কতটা বিপদজনক তা বিস্তারিত লেখা থাকবে, SDPI জনগণের কাছে পৌঁছাবে,বাড়ি – বাড়ি গিয়ে মানুষকে UCC সম্পর্কে অবগত করবে। যেই ভাবে জনগণ একত্রিত হয়ে CAA রুখেছে, কৃষকরা কৃষি আইন বাতিল করেছে সেই ভাবেই ইউনিফর্ম সিভিল কোড বাস্তবায়ন হতে দেশের জনগণ রুখবে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ