কলকাতা 

নিয়োগ দুর্নীতির টাকা কী ত্রিপুরা ও গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে খরচ করেছে তৃণমূল? তদন্তে ইডি!

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষক নিয়োগ এবং পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে নির্বাচনের যোগ আছে কিনা তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ইডি বলে জানা গেছে। প্রাথমিক শিক্ষক এবং হাই স্কুল গুলোর শিক্ষক নিয়োগে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ইতিমধ্যেই তার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি গুলো। রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের তৎকালীন আধিকারিক সহ মন্ত্রিসহ আধিকারিকরা জেলে রয়েছেন এমনকি এই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির অন্যতম বড় এজেন্ট কুন্তল ঘোষ ও শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ও জেলে আছেন। এরা সবাই নিয়োগ দুর্নীতিকে সামনে রেখে কোটি কোটি টাকা তুলেছে।ইডি সূত্রে এখন দাবি, সেই টাকার একটি অংশ রাজনৈতিক কার্যকলাপেও খরচ করা হয়েছে। আর সেই খরচ হয়েছে নগদে। প্রশ্ন উঠেছে, এ বার কি শাসক দলের আরও উচ্চ পদাধিকারী আতশকাচের তলায় চলে এলেন।

ডিজিটাল আনন্দবাজারে প্রকাশিত পক্ষ থেকে জানা যাচ্ছে,তদন্তকারীদের দাবি, বাজার থেকে তোলা টাকা যে রাজনৈতিক দলের প্রচারে খরচ করা হয়েছে, তার নথিপত্র পাওয়া গিয়েছে নিয়োগ কাণ্ডে ধৃত তৃণমূলের দুই যুব নেতা (পরে বহিষ্কৃত) কুন্তল ঘোষ ও শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে। অভিযোগের তির মূলত কুন্তলের দিকেই। তদন্তকারীদের দাবি, চাকরির টোপ দিয়ে বাজার থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা তুলেছিলেন কুন্তল। জেরায় তিনিই নাকি দাবি করেছেন, তার মধ্যে ধাপে ধাপে ১০ কোটিরও বেশি টাকা দিয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। ইডি সূত্রের দাবি, এখনও পর্যন্ত কুন্তল ও তাঁর আত্মীয়দের নামে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার ব্যাঙ্ক আমানত ও সম্পত্তির হদিস পাওয়া গিয়েছে। বাকি প্রায় ১৬ কোটি টাকার হদিস পেতে চাইছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement

তদন্তকারীদের দাবি অনুযায়ী, ২০২১ সালে রাজ্যে বিধানসভা ভোট এবং পরবর্তীকালে ত্রিপুরার নির্বাচনে কুন্তল মারফত নগদ টাকা খরচ হয়েছে। তদন্তকারীদের সূত্রে এ-ও দাবি, ত্রিপুরার নির্বাচনে কলকাতার বাসিন্দা এক ঝাঁক যুব নেতা-নেত্রী সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যাঁদের বেশিরভাগই কুন্তল-ঘনিষ্ঠ। অভিযোগ, শুধু রাজনৈতিক কার্যকলাপ নয়, ওই নেতা-নেত্রীদের থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের খরচও নগদ টাকায় মেটানো হয়েছিল। নিয়োগ দুর্নীতির কালো টাকা কয়েক জন যুব নেতা-নেত্রীর বিভিন্ন সম্পত্তি ও ব্যবসাতেও বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে ইডির দাবি।এখন, কয়েক জন যুব নেতা-নেত্রীর আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির হদিস পেতে তাঁদের ডেকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ইডি সূত্রের দাবি।

যুব নেত্রী সায়নী ঘোষকে ইতিমধ্যেই ডেকে পাঠিয়ে ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। দ্বিতীয় বার তলব করা হলেও তিনি যাননি, ভোটপ্রচারে ব্যস্ত থাকার কারণ দেখিয়ে, পাঠিয়েছেন কিছু নথিপত্র। ইডি সূত্রে খবর, সায়নীর জবাবে তদন্তকারী সংস্থা সন্তুষ্ট নয়, যদিও অভিনেত্রী-নেত্রী প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে তোলা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন।

তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছে গত বিধানসভা নির্বাচনে যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেস কোটি কোটি টাকা খরচা করেছে একইভাবে ত্রিপুরা ও গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস ত্রিপুরা এবং গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে তেমন কোন সাফল্য দেখাতে পারেনি। তবু জাতীয় দল গুলো তুলনায় প্রচারের বহরে তৃণমূল কংগ্রেস অনেকটাই এগিয়েছিল এ থেকে কেন্দ্রীয় এজেন্সি গুলো তদন্ত নেমেছে যে এই টাকার উৎস কি তাহলে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির টাকা? যদি তদন্তে এটা প্রমাণিত হয় তাহলে মমতা সরকার এবং তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে আরো বড় বিপদ সামনে আসতে যে চলেছে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ