জেলা 

পঞ্চায়েত নির্বাচন শেষ হওয়ার পরেও রাজ্য জুড়ে বেলাগাম হিংসা সন্ত্রাস চলছে নির্বিকার পুলিশ!

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক: নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে তারপরেও বেনজীর সন্ত্রাসে উত্তপ্ত বাংলা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক হিংসার খবর আসছে। আজ রবিবার সকালেও মুর্শিদাবাদ মালদা থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সিপিএম বিজেপি ও কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে শাসকদলের কর্মীরা। সকাল থেকে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙা বিধানসভা এলাকা এই এলাকায় আইএসএফ কর্মীদের সঙ্গে তৃণমূলের সংঘর্ষ চলছে।

অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় বাম কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গা যেখানে ভোট ব্যালট পেপার গুলো রাখা রয়েছে সেই এলাকায় নাকি ব্যালট বাক্সের কারচুপি করা হচ্ছে এই অভিযোগ করে কংগ্রেস কর্মীরা বেলডাঙা থানায় ঘিরে রেখেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য পুলিশের কর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা করলেও মার মুখে জনতার কাছে অনেক জায়গায় পুলিশ কিছু হচ্ছে। পুলিশের কিছু করার নেই বলে রাজনৈতিক মহলের একটা অংশ মনে করছে যেভাবে ভোট লুট হয়েছে মানুষের সমর্থন যেভাবে না পেয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস জেতার চেষ্টা করছে তার পরিণতিতে খারাপ হবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

Advertisement

এদিকে রবিবার সকালে পুলিশ ও বিজেপি সংঘর্ষে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার ব্লকের শ্রীকৃষ্ণপুর। বিজেপির অভিযোগ, নির্বাচন মিটে যাওয়ার পর স্ট্রংরুমে গিয়ে ছাপ্পা ভোট দেয় তৃণমূল। তাই নির্বাচন বাতিলের দাবিতে সরব পদ্মশিবির। সেই দাবিতে ওই এলাকায় এদিন পথ অবরোধ শুরু করে বিজেপি। টায়ারে আগুন জ্বালিয়েও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে তারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী।

বিক্ষোভ হঠাতে গেলে পুলিশ ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা বচসায় জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জও করে। লাঠিচার্জের প্রতিবাদে আবারও পথ অবরোধের চেষ্টা করে বিজেপি। তবে তা আর সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার পর থেকে উত্তপ্ত গোটা এলাকা। যাতে নতুন করে আর অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি না হয় তাই বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়াতেও পথে কংগ্রেস। ছাপ্পা ভোটের অভিযোগে চাকুলিয়ার রামপুরে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন দলীয় কর্মী-সমর্থকরা। অবরোধকারীরা একের পর এক সরকারি বাস ও গাড়ি ভাঙচুর করে। একের পর এক গাড়িতে আগুনও লাগিয়ে দেওয়া হয়।

ভোট পরবর্তী হিংসায় উত্তপ্ত হাওড়ার জগৎবল্লভপুরও। রবিবার ভোরে বড়গাছিয়া এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪১ নম্বর বুথের নির্দল প্রার্থী শেখ শফিকুল ইসলামের ভাইয়ের বাড়িতে আগুন লাগানো হয়। পুড়ে ছাই হয়ে যায় দু’টি বাইক এবং বাড়ির আসবাবপত্র। অভিযোগের তির তৃণমূলের বিরুদ্ধে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। বড়গাছিয়া এক নম্বর অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মহম্মদ জাফর মোল্লা বলেন, “তিনি ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। ওই পরিবারের অনেকেই রাজনীতি করেন। তৃণমূল কর্মীরা এ কাজ করেনি।”

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ