জেলা 

কোচবিহারের একাধিক তৃণমূল নেতাদের সিবিআইয়ের চিঠি, ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিনিধি : কোচবিহারের একাধিক তৃণমূল নেতার নামে ‘সিবিআইয়ের চিঠি’ ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে জেলার রাজনীতিতে। গত দু’দিন ধরে জেলার তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের নামে থাকা ওই চিঠি ‘ভাইরাল’ হয়েছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে। শাসক দলের নেতাদের নামে ‘সিবিআইয়ের চিঠি’ নিয়ে বাড়ছে জল্পনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই ‘সিবিআইয়ের চিঠি’তে দেখা যাচ্ছে নাম রয়েছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষের। নাম রয়েছে সাংসদ পার্থ প্রতিম রায়, যুব নেতা নিশীথ প্রামাণিক, ব্লক সভাপতি নূর আলম হোসেনের। কি রয়েছে ওই ভাইরাল হওয়া ‘সিবিআইয়ের চিঠি’তে?

চিঠিতে দেখা যাচ্ছে, একই তারিখে, একই সিরিয়াল নম্বরে ওই চিঠি ইস্যু হয়েছে। চিঠিতে তৃণমূল নেতাদের নামে একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, প্রথম যে চিঠিটি ছড়িয়ে পড়ে, তাতে যুব তৃণমূলের কোচবিহার জেলার সাধারণ সম্পাদক নিশীথ প্রামাণিকের নাম ছিল। পরে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, সাংসদ পার্থপ্রতিম রায় এবং দিনহাটা-১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি নুর আলম হোসেনের নামের চিঠিও ছড়িয়ে পড়ে।

চিঠিটি এসেছে দিল্লিতে সিবিআইয়ের সদর দফতর থেকে। ভাইরাল হওয়া চিঠিতে ওই তৃণমূল নেতাদের নামে মানুষ পাচার, বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবসা এবং প্রচুর বেনামী সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগ আছে। এই চিঠির সত্যতা নিয়ে সব মহলেই প্রশ্ন উঠেছে। কোচবিহার পুলিশ জানিয়েছে, তারা ‘ভাইরাল’ ওই চিঠি হাতে পেয়েছে শুধু। সিবিআইয়ের তরফে তাদের কিছুই জানানো হয়নি। কোচবিহারের পুলিশ সুপার ভোলানাথ পাণ্ডে এই বিষয়ে কিছু বলতে চাননি। তবে জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, “ওই চিঠি সত্যতা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

তৃণমূল নেতারা বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের এক নেতা বলেন, “ওই চিঠি গত ৮ জানুয়ারি ইস্যু করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। আর চিঠি যে ভাবে আঁকাবাঁকা, তাতে তা জাল বলে আমাদের সন্দেহ। সিবিআই এমন ভাবে কাউকে চিঠি দেয় না। সিবিআইয়ের গোপন চিঠি ফাঁস হয়েছে, এমনটাও শুনিনি।”

তৃণমূলেরই একাংশের দাবি, এই চিঠিও সম্ভবত গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। গত পঞ্চায়েত ভোট থেকে যুব ও মূল তৃণমূলের মধ্যে লড়াইয়ে উতপ্ত কোচবিহার। দলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ভোটের সময় থেকে ৬০টিরও বেশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে প্রায় একশো জন। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার দ্বন্দ্ব থামাতে নির্দেশ দিয়েছেন নেতাদের। কাজ হয়নি। শাসকদলের একাংশের দাবি, এতে যুব-তৃণমূলের লড়াই থাকতে পারে। তৃণমূলের আর একটি অংশের অভিযোগ, বিরোধীদের একটি অংশ জাল চিঠি তৈরি করে নেতাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চাইছে। আরএক তৃণমূল নেতা বলেন, “এমন হতে পারে যুব-তৃণমূলের লড়াইয়ের সুযোগ নিয়েছে কেউ। যাঁদের নামে ওই চিঠি, তাঁরা দলে বিরোধী গোষ্ঠীর বলে পরিচিত। তাঁদের বদনাম করে কেউ ফায়দা তুলতে পারে।” তবে কারণ যাই হোক কোচবিহারের শাসক দলের নেতাদের নামে ‘সিবিআইয়ের চিঠি’ ঘিরে জোর জল্পনা কোচবিহারের রাজনীতিতে।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment