কলকাতা 

নওশাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগকারীনি তৃণমূলের প্রভাবশালী নেত্রী, এই ইস্যুতে পঞ্চায়েত ভোটেই তৃণমূল আরো আস্থা হারাবে মানুষের, আশঙ্কা দলের প্রবীণ নেতাদের

শেয়ার করুন

বুলবুল চৌধুরী: নওশাদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে অভিযোগকারীনি শাসক তৃণমূল দলের ডোমকল শহর কমিটির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক। তিনি দলের পক্ষ থেকে রেশন ডিলারদের সংগঠন দেখভাল করেন বলে সূত্রের খবর । দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী এইভাবে বিরোধীদলের ধর্মনিরপেক্ষ নেতা পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে পঞ্চায়েত ভোটের তিন দিন আগে ধর্ষণের অভিযোগ করে কার্যত দলকে পথে বসিয়ে দিয়েছেন বলে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতারা মনে করছেন। নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রবীণ নেতা মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এতে সায় নেই। ইতিমধ্যেই বাংলার জনরক প্রশ্ন তুলেছেন নওশাদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ সামনে আনার পর এই রাজ্যের মুসলিম সমাজের কাছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিশ্বাসযোগ্যতা শূন্য হয়ে গেল।

রাজ্যের আম জনতা মনে করছেন যে তৃণমূল কংগ্রেস দল পঞ্চায়েত ভোটের আগে নওশাদের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করতে গিয়ে আসলে নিজেদেরকেই মানুষের কাছে ভিলেনে পরিণত করে দিয়েছে। গতকাল দুপুরবেলায় এই খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সম্প্রচার হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠে যায়। সোশ্যাল মিডিয়া য় নিন্দা ঝড় বইতে থাকে এবং নিশানা তৈরি করা হয় শাসক তৃণমূল কংগ্রেসকে। এরপরেই শাসকদলের অন্তরে দুটি মত স্পষ্ট হয়ে পড়ে একটি মত হল এই ধরনের অভিযোগ সামনে আনার ফলে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব পেয়ে যাবেন নওশাদ সিদ্দিকী। এমনিতেই ৪২ দিন জেল খাটানোর জন্য নওশাদ সিদ্দিকী এই রাজ্যের মানুষের কাছে অতি জনপ্রিয় নেতা হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তার উপর একজন তৃণমূলের নেত্রী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করছেন এই অভিযোগের কতটা সারপ্রত্তা আছে তা অবশ্যই বিচার্য বিষয় কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে পার্সেপশন তৈরি হচ্ছে যে নওশাদ সিদ্দিকীকে ফাঁসানো হয়েছে এর প্রভাব পঞ্চায়েত ভোটে পড়বে বলে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতারা মনে করছে।

Advertisement

পঞ্চায়েত ভোটের তিনদিন আগে এই ঘটনা ঘটার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নওশাদ সিদ্দিকীর প্রতি সহানুভূতি যেন পাঁচ গুণ বেড়ে গেছে। বাসে ট্রেনে ট্রামে চায়ের আড্ডায় নওশাদ বিরোধী রাও এখন নওসাদের পক্ষে সওয়াল করছেন। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরবতা আরো বেশি করে তৃণমূল বিরোধী করে তুলছে এই রাজ্যের সাধারণ মানুষকে।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় এখনো পর্যন্ত নওশাদ সিদ্দিকী এ বিষয়ে কোনো কড়া মন্তব্য করেননি, শুধু একটি কথাই বলেছেন আমি যদি মুখ খুলি অনেকের পোল খুলে যাবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নওশাদ সিদ্দিকী বিরুদ্ধে কেন একজন তৃণমূলের প্রভাবশালী  নেত্রী ধর্ষণের অভিযোগ করলেন। আদালতে নিশ্চয়ই এই মামলা উঠবে । রায় কি হবে তা নিয়ে এখনই বলা সম্ভব নয়। বাংলার মানুষের পারসেপশন হলো নওশাদ এ কাজ করতে পারে না। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। এই পার সেপশান যদি পঞ্চায়েত ভোটে প্রভাবিত হয় তাহলে তৃণমূল কংগ্রেসের যে সর্বনাশ হবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। আগামী দিনে এই রাজ্যে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার জন্য তৃণমূল নেতারাই যে যথেষ্ট সেটা এখন বারবার প্রমাণিত হচ্ছে। বাংলার জনতা স্পষ্ট দাবি করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তার অবস্থান স্পষ্ট করুক। তিনি এই রাজ্যে তৃণমূলকে ক্ষমতায় রাখতে চান নাকি এই রাজ্যকে বিজেপির হাতে তুলে দিতে চান!

বিজেপির সংখ্যালঘু বাচ্চা নওশাদ সিদ্দিকী কে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে কে এর ফলে এই রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোট যে সরাসরি নওশাদের দিকে চলে যাবে তৃণমূল কংগ্রেসের কমিটেড ভোট হাতছাড়া হবে তাকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানেন না নাকি জেনেশুনে এই রাজ্যে বিজেপিকে আনার পথ সুগম করা হচ্ছে?

প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার নওশাদের পাশে দাঁড়িয়ে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘‘এই সব্যসাচী দত্তকেই মমতা (বন্দ্যোপাধ্যায়) কামদুনির আন্দোলন ভাঙতে পাঠিয়েছিলেন। এখন যখন ভাঙড়ে আরাবুল ইসলাম আর শওকত মোল্লা মিলে নওশাদকে ঠেকাতে পারছেন না, তখন এই নোংরা চিত্রনাট্য নিয়ে উনি নেমেছেন!’’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ