জেলা 

বারুইপুরের স্বপ্নের সওদাগর শহিদুল লস্করকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে লাইভ টেলিকাস্টে দেখা যাবে , শোনাবেন সাফল্যের কাহিনী, আগামী দিনের পরিকল্পনা

শেয়ার করুন
  • 51
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে লাইভ মন কী বাত অনুষ্ঠানে অংশ নেবার জন্য দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হল বারুইপুরের শহিদুল লস্করকে । এই অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হবে দূরদর্শনে।দূরদর্শনের প্রসার ভারতীর পক্ষ থেকে  চিঠি পাঠিয়ে শহিদুল-কে এই অনুষ্ঠানের কথা জানিয়ে দিল্লি যাওয়ার বিমানের টিকিটও পাঠানো হয়েছে তাঁকে ।
কয়েক মাস আগে’মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদীর মুখে শোনা গিয়েছিল শহিদুল-এর  সমাজসেবার এক অভিনব কাহিনী।শহিদুল-এর বোন মারুফা ছোট্ট বয়সেই ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিল। অর্থনৈতিক অনটনে বোনের সেভাবে চিকিৎসাও করাতে পারেননি শহিদুল। চোখের সামনে বিনা চিকিৎসায় বোনকে মরতে দেখেছিলেন। এরপরই তিনি গ্রামের মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাইয়ে দেওয়ার জন্য হাসপাতাল তৈরি করার শপথ নেন।  মৃত বোনের স্মৃতিতে হাসপাতাল তৈরি করার জন্য  বারুইপুরের শহিদুল ট্যাক্সি চালিয়ে তার স্বপ্নকে সফল করে তুলেছিল । শুধু হাসপাতাল বানানো নয়, সেই হাসপাতালে বিনামূল্যে যে চিকিৎসারও বন্দোবস্ত করেছেন শহিদুল। এই কাহিনী স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে শুনিয়ে ছিলেন ।

এহেন শহিদুলকে ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে কুর্ণিশ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী দেওয়া সেই স্বীকৃতির পর কেটে গিয়েছে বেশ মাস। ট্যাক্সি চালক শহিদুল-কে এখন চেনে না এমন মানুষ কলকাতা ও বারুইপুর অঞ্চলে খুব কমই রয়েছে। হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এখনও আরও ভালো করে রোগী দেখা যাচ্ছে মারুফা মেমোরিয়াল হাসপাতালে।

প্রধানমন্ত্রীর ডাক পেয়ে খুশি শহিদুল।  তিনি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন , প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে এবার আরও এক প্রকল্পের গল্প শোনাতে চান । এর জন্য খরচ পড়বে বারো কোটি টাকা। ‘মারুফা মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড জেরিয়াট্রিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ নামে প্রতিষ্ঠানের কাজ হবে যে সব প্রৌঢ়-প্রৌঢ়া নিঃসঙ্গ জীবন-যাপন করছেন তাঁদের কাছে চিকিৎসা ব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়া।
এই নয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মহিলাদের মাধ্যমে প্রৌঢ়-প্রৌঢ়া-দের সম্পর্কে একটি বিশাল ডেটা ব্যাঙ্ক তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছেন শহিদুল। যাতে এই সব মানুষগুলির যাবতীয় মেডিক্যাল হিস্ট্রি নথিবদ্ধ করা থাকবে।

কিন্তু, এমন একটা প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে। আর সেই কারণে এই প্রকল্পে সরকারি সাহায্য পাওয়া যায় কি না সেটা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সামনে তুলে ধরবেন বলে সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন শহিদুল। অদম্য জেদ ও ইচ্ছা শক্তি কাজে লাগিয়ে তিনি যে অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন সেই কাহিনী-ই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে লাইভ টেলিকাষ্টের মাধ্যমে দেশবাসী শোনাবেন । স্বপ্নের সওদাগারের সফল ইতিহাস দেশবাসী শুনবে এই প্রত্যাশা নিয়েই দিল্লি চললেন শহিদুল লস্কর ।

 


শেয়ার করুন
  • 51
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment