কলকাতা 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই পারেন , স্বাধীনতা ৭২ বছর পর ফিরহাদ হাকিমকে কলকাতার মেয়র করতে

শেয়ার করুন
  • 18
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবাংলার রাজনীতিতে ব্যতিক্রমী চরিত্র হিসেবে পরিচিত । তিনিই পারেন ২০ শতাংশের নিচে বসবাসকারী মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনো ব্যক্তিকে কলকাতার মেয়র করতে । এখানেই তিনি অনন্য । এখানেই তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক । আর এ কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবাংলার রাজনীতিতে অনন্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ।

আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবহেলিত-বঞ্চিত মানুষদের সব সময় সম্মান দিতে চেয়েছেন । এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই তিনিই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি গ্রামীণ স্তরে বা পঞ্চায়েত এবং পুরসভার স্তরে মুসলিম নেতৃত্বকে যথাযথ মর্যাদা দিয়েছেন । কংগ্রেস দল প্রথম রাজ্যের কোনো জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদে মুসলিম মহিলাকে বসিয়েছিল । তবে সেটা মুর্শিদাবাদ জেলা । সেখানে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাই মুর্শিদাবাদ জেলার সভাধিপতি পদে সিদ্দিকা বেগমকে বসিয়ে বিশেষ কোনো কৃতিত্বের কাজ কংগ্রেস বা অধীর চৌধুরিরা করেননি।

কিন্ত ২০০৮ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা পরিষদ দখল করেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমিমা বেগমকে ওই জেলার সভাধিপতি করে রাজ্যের বাঙালি মুসলিম সমাজকে বার্তা দিয়েছিলেন,‘ স্বাধীনতার পর আমি-ই রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে সংখ্যালঘুদের সুযোগ দেব বেশি ।‘ তারপর উত্তর ২৪ পরগণার জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদে রহিমা মন্ডলকে বসিয়ে চমক দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তাঁর এই উদার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে মুগ্ধ হয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলার সংখ্যালঘু মুসলিমরা তাঁকে দুহাত উপুড় করে ভোট দিয়েছে । তাদের বিপুল সমর্থন নিয়ে তিনি ক্ষমতায় আসীন হয়েছেন ।

ক্ষমতায় আসার পর থেকে গ্রামীণ রাজনীতিতে মুসলিমদের অংশীদারিত্ব তৃণমূল নেত্রী অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর এই উদারতাকে সম্বল করে এক শ্রেণীর ধান্দাবাজ নেতা গজিয়ে উঠেছে যারা দিদির নাম ভাঙিয়ে দলের সর্বনাশ করে চলেছে । দুঃখের হলেও সত্য তৃণমূল এখনও পর্যন্ত তাদের চিহ্নিত করতে পারেননি। কিংবা জেনে-বুঝে নিরব আছেন । ক্ষমতা ধরে রাখার তাগিদে । এ কথা বলতে দ্বিধা নেই তৃণমূল নেত্রীর মানসিকতাকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই । তিনি চান এ রাজ্যের সংখ্যালঘু সমাজ থেকে নেতৃত্ব উঠে আসুক সেই লক্ষেই তিনি কাজ করছেন । বাস্তব হল , সংখ্যালঘু সমাজের ভালো ভালো ছেলেমেয়েদেরকে দল গুরুত্ব না দিয়ে ধান্দাবাজ-তোলাবাজদের গুরুত্ব দিয়ে চলেছে । খানাকুল থেকে মুরারই প্রত্যেকটি এলাকার দিকে তাকালে তৃণমূলের সংখ্যালঘু নেতৃত্বের চরিত্রটা ফুটে উঠবে । আর একারণেই তৃণমূল দলের প্রতি আম-জনতার মতই সংখ্যালঘু সমাজের একটাংশ ক্ষুদ্ধ ।

যাই হোক ফিরহাদ হাকিমকে কলকাতার মেয়র পদে বসিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে উদারতার পরিচয় দিয়েছেন তার প্রশংসা করতেই হবে । স্বাধীনতার আগে কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র পদে এ,কে ফজলুল হক থেকে শুরু করে সৈয়দ বদরুদ্দোজার মত মহান নেতারা বসেছেন । জনসংখ্যার বিচারে সেই সময় কলকাতায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিল ৫০ শতাংশ কিংবা তারও বেশি । উত্তর কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছিল মুসলিমদের বাস । রাজাবাজার থেকে কাশীপুর পর্যন্ত গেলে মসজিদ ও মাজার এখন দেখেই স্পষ্ট হবে এই সব অঞ্চলে এক সময় মুসলিমদের বাস ছিল । সেই সময় কলকাতার মেয়র পদে মুসলিমদের বসাটা আশ্চর্যের কিছু নয় । কিন্ত এখন ২০ শতাংশের নিচে থাকা সত্ত্বে একজন মুসলিমকে মেয়র পদে বসানোর চ্যালেঞ্জ একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নিতে পারেন । এ কথা স্বীকার করতে হবে ফিরহাদ হাকিমের যোগ্যতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই । তিনি যোগ্য বলেই মেয়র পদে বসতে পেরেছেন । এই পদে বসে তিনি যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই ।

সব শেষে তৃণমূল নেত্রীর আজকের সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য কুর্নিস জানিয়ে বলব, তিনি গ্রামীণ স্তরেও যেন যোগ্যতা দেখে মুসলিম ব্যক্তিদের হাতে নেতৃত্ব দেন । তা না হলে সমগ্র বাংলা জুড়ে সংখ্যালঘু আবেগকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে পঞ্চায়েত স্তরে যেসব মুসলিম তৃণমূল নেতার সৃষ্টি করা হয়েছে তাদের হাতে আজ বাংলা বিপন্ন । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি বাংলার মানুষের প্রত্যাশা এই ধান্দাবাজ নেতাদের থেকে তিনি যেন মানুষকে মুক্তি দেন । তা না হলে, এদের জন্যই আগামী দিনে চূড়ান্ত মাসুল গুনতে হবে তৃণমূলকেই ।


শেয়ার করুন
  • 18
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment