কলকাতা 

স্বাধীনোত্তর কলকাতায় পুর-নিগমের মেয়র পদে কোনো মুসলিম ব্যক্তিকে বসিয়ে বাজিমাত করতে চাইছেন কী মমতা ?

শেয়ার করুন
  • 14
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরি : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ আদরের কানন ‘ এখন অতীত । তিনি গতকালই মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন । দলনেত্রী তাঁকে মেয়র পদ ছাড়তে বলেছেন , সম্ভবত বৃহস্পতিবার তিনি মেয়রপদ থেকে ইস্তফা দিতে চলেছেন । তাঁর জায়গায় বিশ্বস্ত সেনাপতি কে হবেন তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে ।

তবে এই মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠের তালিকাটা খুব কম । সেই তালিকায় রয়েছেন অরূপ বিশ্বাস , ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত মুখার্জি । মেয়র হওয়ার যোগ্যতার দিক থেকে এগিয়ে আছেন দুজন । সুব্রত মুখার্জি ও ফিরহাদ হাকিম । অবশ্য সুব্রতবাবু ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি আর মেয়র হতে চান না । স্বাভাবিকভাবেই ফিরহাদ হাকিমের মেয়র হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল । তবে তাঁকে এই পদে বসাতে গেলে অবশ্য পুর-নিগমের আইন সংশোধন করতে হবে । যাইহোক , ফিরহাদ হাকিমকে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা পুরসভার মেয়র পদে বসান তাহলে স্বাধীনতার পর আক্ষরিকভাবে একটা রের্কড তৈরি হবে । তিনি হবেন প্রথম মুসলিম মেয়র কলকাতা পুর-নিগমের । স্বাধীনতার পর কলকাতা পুরসভার মেয়র পদে কোনো মুসলিম ব্যক্তিকে বসাতে পারলে তা রাজ্য-রাজনীতিতে সমূহ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা আছে ।

রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটের বিরাট অংশের সমর্থন যে এই আবেগকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস দখল করতে পারবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না । তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে খানিকটা ঝুঁকি হয়ে যেতে পারে তাহল , বিজেপি আবার নতুন করে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ করার চেষ্টা করতে পারে। রাজ্যের হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে বিজেপি-আরএসএস প্রচার করতে পারে কলকাতায় মাত্র ২০ শতাংশ মুসলিম ভোট হওয়া সত্ত্বেও একজন মুসলিমকেই মেয়র করেছেন মমতা। মমতা আসলে এই রাজ্যকে মুসলিমদের জন্য খুলে দিতে চাইছেন । আর এই প্রচারে রাজ্যের গ্রামীণ ভোট-ব্যাঙ্কে ধস নামতে পারে ।

একথা স্বীকার করতে হবে , রাজ্যে এই মুহূর্তে আরএসএস যেভাবে সাংগঠনিক স্তরে শক্তিশালী হয়েছে তাতে তাদের পক্ষে ভোটে প্রভাব খাটানো কোনো বড় বিষয় নয় । তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে ফিরহাদ হাকিমকে মেয়র পদে বসানো অনেকটাই চ্যালেঞ্জ । কারণ এটাও মনে রাখতে হবে শোভন চট্টোপাধ্যায় পদত্যাগ করার পরে দিনেই আরএসএস জানিয়ে দিয়েছে তাকে বিজেপি নিলে তাদের কোনো আপত্তি নেই । অথচ গত বছরই মুকুল রায়কে বিজেপি নেওয়ার আগে শুধুমাত্র আরএসএসের অনুমোদন পেতে অমিত শাহকেও অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হয়েছে । এ থেকে স্পষ্ট শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আরএসএসের ঘনিষ্ঠ সর্ম্পক অনেক আগে থেকেই ছিল । তাই ফিরহাদ হাকিমকে মেয়র পদে বসিয়ে মমতা কী ঝুঁকি নেবেন ? নাকি তাঁরই রাজনৈতিক গুরু সুব্রত মুখার্জিকে জোর করেই মেয়র পদে বসাবেন , যদি একান্তই সুব্রত বসতে রাজি না হন তাহলে হয়তো অরূপ বিশ্বাসকেই মেয়র পদে বসাতে পারেন মমতা । তবে সব কিছু নির্ভর করছে দলনেত্রীর মর্জি উপর । আগামী কাল আলিপুরের উত্তীর্ণ ভবনে কাউন্সিলরদের যে বৈঠক ডাকা হয়েছে সেখানেই স্পষ্ট হবে কলকাতার লালবাড়ির মসনদে কে বসতে চলেছেন !


শেয়ার করুন
  • 14
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment