প্রচ্ছদ 

মুখ্যমন্ত্রীর আন্তরিক উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও আধিকারিকদের গাফিলতিতে বকেয়া ইনক্রিমেন্ট থেকে বঞ্চিত মাদ্রাসা শিক্ষকরা

শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ মিজানুর রহমান

শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশে গত মাসের মাইনের সঙ্গেই শিক্ষকদের বকেয়া ইনক্রিমেন্ট দেওয়া শুরু করেছে স্কুল শিক্ষা দফতর। কিন্তু এক্ষেত্রে এখনও উদাসীন মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের কর্তারা। মাদ্রাসা শিক্ষকদের বকেয়া ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার বিষয়ে এখনও কোনও উদ্যোগই নেননি তাঁরা।

মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের পদস্থ আধিকারিক আবিদ হোসেনের কাছ থেকে এসম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে নিজের দায় এড়িয়ে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রাজ্যে সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন রয়েছে। রাজ্যজুড়ে চালু রয়েছে নির্বাচনী আচরনবিধি। সেজন্য নির্বাচন প্রক্রিয়া না সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত এবিষয়ে নতুন করে নির্দেশিকা জারি করা সম্ভব হবেনা। আবিদ সাহেবের এই যুক্তি না হয় মেনে নেওয়া গেল। কিন্তু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাহলে স্কুল শিক্ষা দফতরের কর্তারা কীভাবে নির্বাচনের আগেই শিক্ষকদের বকেয়া ইনক্রিমেন্ট চালু করতে পারলেন? তাহলে কি এক্ষেত্রে সরকারেরই কোনো গাফিলতি ছিল? স্কুল শিক্ষা দফতরকে বকেয়া ইনক্রিমেন্ট চালুর নির্দেশিকা দেওয়া  হলেও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরকে সেই নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি? যদিও ওয়াকিবহাল মহল এই কথা মানতে নারাজ। বিশিষ্টদের মন্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যালঘু উন্নয়নের জন্য সর্বদা সচেষ্ট। তাঁর উদ্যোগে রাজ্যে সংখ্যালঘু উন্নয়নে যে কাজ হয়েছে, অতীতে কোনও মুখ্যমন্ত্রীর সময়ে এত কাজ হয়নি। আর সেই  রকম একজন মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষার অন্যতম পীঠস্থান মাদ্রাসার শিক্ষকদের এইভাবে আদৌ বঞ্চিত করতে চাননি।

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত দফতরের আমলাদের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রীসভায় কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে দ্রুত তা বাস্তাবায়িত করতে হবে। এছাড়া কোনও শিক্ষকেরই ইনক্রিমেন্ট বকেয়া রাখা যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের পরেও মাদ্রাসা শিক্ষকদের বকেয়া ইনক্রিমেন্ট চালু না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এপ্রসঙ্গে, আবিদ হোসেন বলেন, মন্ত্রীসভায় যাই সিদ্ধান্ত হোক না কেন, সেগুলি প্রত্যেকটিই দ্রুত বাস্তবায়িত করার নির্দেশ দেওয়া থাকে। কিন্তু অনেক সময় বিভিন্ন রকমের চাপ থাকার জন্য তা সম্ভব হয়ে উঠেনি। এর ফলেই ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে মূলত সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের গাফিলতির জেরেই মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের শিক্ষকরা বকেয়া ইনক্রিমেন্ট থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।


শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment