জেলা 

বিরোধীদলের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে এলে গোলাপ এবং জলের বোতল দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে তৃণমূল কর্মীরা সৌজন্যের এক অভিনব নজীর শাসক দলের!

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর থেকে সমগ্র রাজ্যজুড়ে অশান্তির চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। ইতিমধ্যেই শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের জনস্বার্থে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তার শুনানিও চলছে। এই অবস্থায় উলাট পুরান দেখা গেল পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের বারাবনিতে এখানে সিপিএম এবং বিজেপির কিংবা বিরোধী দলের যেসব প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করতে ব্লকে আসছেন তাদের সকলকে গোলাপ এবং জলের বোতল দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। এক কথায় অভিনব উদ্যোগ বলা যেতে পারে।

বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতি ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত হিসাবে বারাবনির তৃণমূল কর্মীরা তুলে ধরার চেষ্টা করছে।বারাবনি বিধানসভার বারাবনি ব্লকেও মনোনয়নের প্রথম দিন শাসকদলের বিরুদ্ধে লাঠি উঁচিয়ে মারধরের অভিযোগ করেছে বিরোধীরা। তবে ওই বিধানসভার অন্য একটি ব্লকে দেখা গেল আলাদা ছবি। সালানপুর ব্লকে মনোনয়ন কেন্দ্রের বাইরে তৃণমূলের নেতা এবং কর্মীরা বিজেপি, সিপিএম এবং কংগ্রেস প্রার্থীদের হাতে গোলাপ ফুল, পানীয় জলের বোতল ধরিয়ে দিচ্ছেন। আবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর তাঁরা যেন বিডিও অফিসের ক্যান্টিন থেকে চা খেয়ে যান, তারও আমন্ত্রণ করছেন তৃণমূল নেতারা। বলছেন, ক্যান্টিনে সবার জন্য চা পানের বন্দোবস্ত তাঁরাই করেছেন। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি ভোলা সিংহের কথায়, ‘‘এই ব্লকে কোনও ঝামেলা বা দ্বন্দ্ব হবে না। আমরা সবাই চাই, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। তাই সবাই সুষ্ঠু ভাবে মনোনয়ন জমা দিক। সে দিকে লক্ষ্য রাখা আমাদের কর্তব্য।’’

Advertisement

ওই তৃণমূল নেতা আরও বলেন, ‘‘আমাদের বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়ের নির্দেশে বিরোধীদের মনোনয়ন কেন্দ্রে ফুল-জল দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছি। ঝামেলা নয়, উন্নয়নের নামে ভোট হবে সালানপুর ব্লকে। অনেক জায়গায় বিরোধীরা বলছে যে, তাদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। মারধর করা হচ্ছে। তাই এখানে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘মানুষ জানেন কে উন্নয়ন করেছে। কাকে ভোট দিতে হবে। সেই বিশ্বাস আছে।’’

বিজেপি এবং সিপিএম নেতাদের হাতে গোলাপ ফুল ধরিয়ে ফটো তোলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। চা-জলখাবার খেয়ে তবেই যেতে বলছেন তাঁরা। মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে বিরোধী প্রার্থীদের ‘বেস্ট অফ লাক’ বলতে শোনা যায় তৃণমূল নেতাদের।

তবে সালানপুরের তৃণমূল নেতা কর্মীরা যেভাবে বিরোধীদলের প্রার্থীদের স্বাগত জানাচ্ছেন তাদেরকে চা পান এর আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন তা এককথায় নজীর বিহীন। বঙ্গ রাজনীতিতে সৌজন্যের এমন রাজনীতি অন্তত পঞ্চায়েত স্তরে দেখা যায়নি। এ কথা স্বীকার করতেই হবে বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় যে পদ্ধতিতে বিরোধীদলের প্রার্থীদের মর্যাদা দিচ্ছেন তাতে তাঁর এবং তার দলের ভাবমূর্তি যে উজ্জ্বল হয়েছে এটা স্বীকার করতেই হবে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ