কলকাতা 

বিদায় শোভন ! আদরের কাননকে ধমকে দলের মন্ত্রী-সাংসদ-বিধায়কদের শবক শেখালেন মমতা

শেয়ার করুন
  • 22
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : জল্পনা-কল্পনার অবসান হল । কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলেন । সাংবাদিক হিসেবে বেশ কয়েক মাস আগেই আঁচ করেছিলাম কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূলে কংগ্রেসের সঙ্গে সর্ম্পক খুব বেশি দিন আর নেই । কারণ তিনি দলনেত্রীর সুনজরে নেই । এক সময়ের আদরের কানন এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বেশ খানিকটা বোঝা হয়ে যে উঠেছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্ত কাননকে এভাবে চলে যেতে হবে তা হয়তো কোনও রাজনৈতিক ভাষ্যকারও অনুমান করেননি । আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই নিজেকে সততার প্রতীক হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করুক না কেন তিনি তাঁর দলের নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সততার মর্যাদা খুব বেশি দিয়েছেন বলে আমার অভিঞ্জতায় মনে হয়নি। রাজ্যজুড়ে অধিকাংশ তৃণমূল নেতা নানাভাবে স্বজন-পোষণে যুক্ত । যে কয়েকজন নেতা-নেত্রী মানুষের জন্য সত্যিকার করার চেষ্টা করছেন তাঁরা দলের এখনও সম্পদ হতে পারেননি । এটা দূভার্গ্যজনক শুধু নয় , রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কাছে লজ্জার । শোভন চট্টোপাধ্যায়কে দুঃসাহস কে জুগিয়েছিল ? সেই প্রশ্ন আজ সাধারণ মানুষের মনে উঠছে । ফারজানা আলমের মত এক জন তৃণমূল-অন্ত প্রাণকে চলে যেতে হল । কার জন্য ? আজ সেই প্রশ্ন বারবার উঠবে । কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশয়েই শোভন চট্টোপাধ্যায় কলকাতার বাঘে পরিণত হয়েছিলেন । অভিযোগের পাওয়ার পরও দলনেত্রী তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি।

বিদায় ! শোভন বিদায় ! এবার হয়তো তাঁকে দল থেকেও সরিয়ে দেওয়া হবে । তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার দিন থেকে “ আদরের কানন” তাঁর দিদির সঙ্গেই ছিলেন । আজ তাঁকে সমস্ত মায়াজাল ছিন্ন করে মন্ত্রীসভা থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছে । জানা গেছে তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণও করে রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হয়েছে । আবাসন ও দমকল দপ্তরের  দায়িত্ব পেয়েছেন ফিরহাদ হাকিম । শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ডানা ছাঁটার প্রক্রিয়াটা শুরু হয়েছিল বেশ কয়েকমাস আগে । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুরোধ করেছিলেন, বৈশাখীর সঙ্গ ছাড়ার তিনি ছাড়বেন না । তারপর থেকেই শুরু হল মমতা-শোভনের দ্বন্দ্ব । আস্তে আস্তে জেলা সভাপতির পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হল । মেয়র পদ থেকে সরানোর চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছিলেন মমতা । কিন্ত কোনো অজানা কারণে শোভনকে সরাননি তিনি । তবু শেষ পর্যন্ত এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করা হল যাতে কাননের পদত্যাগ করা ছাড়া অন্য কোনো পথ ছিল না।

শোনা যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি শোভনকে মেয়র পদ থেকে সরিয়ে দিতে চলেছেন । পুর-কমিশনার খলিল আহমেদকে পুরসভার বিষয়টি সরাসরি দেখতে বলেছেন। এবার থেকে কলকাতা পুরসভা মেয়রের তেমন কোনো আর কাজ থাকবে না । সবটাই দেখবেন খলিল আহমেদ । শোভন হয়তো ভাবছেন ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে এত ওদ্ধত্য দেখিয়ে তিনি ভুল করেছেন । আজ বিদায় বেলায় একবারও কী শোভনের মনে পড়বে ফারজানা আলমের কান্নার কথা ! মনে পড়বে অহংকারে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করার কথা ।

শোভনের পরিণতি প্রমাণ করছে ক্ষমতা সব নয় , মানুষের স্বার্থে কাজ করলে , মানুষের ভালবাসা নিয়ে রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে । তা না হলেও অন্ততঃ মানুষ বলবে ওই রাজনীতিবিদটা ভাল ছিলেন । যেমন, মদন মিত্রের প্রতি কিছু মানুষের ভালবাসা এখনও অটুট আছে । সোমেন মিত্রের মত মানুষের হেরে যাওয়ার পরও মানুষের ভালবাসা পান । কারণ এরা সত্যিকার অর্থে রাজনীতিবিদ । কোনো নেতা বা নেত্রীর দয়ায় হঠাৎ মন্ত্রী-সান্ত্রী হননি।

শোভন নাটকের শেষ দৃশ্য যে এখনও বাকী রয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না । দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোভনকে ধমক দিয়ে আসলে সমস্ত তৃণমূল পরিবারকেই ধমক দিলেন । তিনি বুঝিয়ে দিলেন অহংকারই পতনের মূল । শোভন ছিল দিদির আদরের কানন তাঁকেও ছেঁটে ফেলা যায় এই বার্তা দিয়ে দলের বিধায়ক সাংসদ মন্ত্রীদের জানিয়ে দিলেন তাঁদের পরিণতি যেকোনো দিন শোভনের মত হবে ।

 

 


শেয়ার করুন
  • 22
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment