কলকাতা 

উগ্র হিন্দুত্বকে সামনে এনে বাংলায় মেরুকরণের রাজনীতি করতে বিজেপি এবার প্রচারে নামাচ্ছে স্বামী অসীমানন্দকে

শেয়ার করুন
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 নিজস্ব প্রতিনিধিঃ স্মামী অসীমানন্দ হুগলি জেলার কামারপুকুরের ভূমিপুত্র। ছোট্ট বেলা থেকেই হিন্দু ধর্মের প্রতি তীব্ৰ আসক্তি ছিল। পরবর্তীতে তাঁর এই টান আরএসএসে যোগ দিতে উৎসাহিত করেছিল।কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনে যোগ দেওয়ার পর বাবামায়ের দেওয়া নাম নবকুমার সরকার ত্যাগ করে স্বামী অসীমানন্দ হয়ে যান। এরপর তিনি বাংলার জঙ্গল মহল এলাকায় আদিবাসীদের মধ্যে কট্টর হিন্দুত্বের প্রচার শুরু করেন।
সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল। ঠিক সেই সময় ঘটে যায় হায়দরাবাদের মক্কা মসজিদে বিস্ফোরণ। সেই বিস্ফোরণের তদন্ত করতে গিয়ে আধিকারিকরা মক্কা মসজিদের উপর বিস্ফোরণের মূল নায়ক হিসেবে স্বামী অসীমানন্দকে গ্রেফতার করেন। তারপর থেকেই নবকুমার সরকার ওরফে স্বামী অসীমানন্দ সকলের কাছে উগ্র হিন্দুত্বের প্রচারক হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
সম্প্রতি এই মামলা থেকে তিনি বেকসুর খালাস পেয়েছেন। এখন জেল থেকে ছাড়া পেয়ে নিজ বাড়ি কামারপুকুরে তিনি রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আবার নূতন করে আদিবাসীদের মধ্যে হিন্দুত্ববাদ প্রচারের কাজ শুরু করবেন। তাঁর ভক্তরা মনে করেন তাদের স্বামীজিকে পূর্বতন কংগ্রেস সরকার জোর করে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পুরে রেখে ছিল। শুধু তাই নয়, রাজ্যের কট্টরপন্থী হিন্দু সমাজেও বিপুল জনপ্রিয়। সদ্য জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার ফলে আগের তুলনায় তিনি এখন কট্টরপন্থীদের কাছে অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।
এমনকি তাঁকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিতনাথের সঙ্গেও তুলনা করা হচ্ছে।
আর এই সুযোগটিকে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপির রাজ্য নেতৃবৃন্দ। এই মুহর্তে মমতা ব্যানার্জীর জনপ্রিয়তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মতো বিজেপি দলে কেউ এখন নেই। উপায় একমাত্র উগ্র হিন্দুত্বের প্রচার। এই হিন্দুত্বের প্রচারের একমাত্র হিন্দু সমাজে গ্রহনযোগ্য মুখ হলেন স্বামী আসিমানন্দ। বিশেষ সূত্রে জানাগেছে,আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রচারে স্বামীজিকে দেখে যেতে পারে।
বিজেপির এই চালে বেকায়দায় পড়তে পারে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস। কারণ জঙ্গল মহল থেকে শুরু করে আদিবাসী সমাজে স্বামী অসীমানন্দর ব্যাপক জনসংযোগ রয়েছে। আর এই জনসংযোগকে ঠিক মতো কাজে লাগাতে পারলে শাসক দলের সুপ্রিমোর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে পারে।

শেয়ার করুন
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment