প্রচ্ছদ 

আদানি সংস্থার শেয়ার বাজারে কারচুপির বিষয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে তদন্ত করে সেবিকে রিপোর্ট দিতে বলল সুপ্রিম কোর্ট

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : ভারতীয় শিল্পপতি আদানি গোষ্ঠীর শেয়ার বাজারের ওপর তদন্ত প্রক্রিয়ায় জারি রাখার নির্দেশ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে সেবি বলেছিল ২০১৬ সালের পর থেকে আদানী গোষ্ঠীর শেয়ার বাজারের উপর কোন তদন্ত করা হয়নি। এদিকে আমেরিকার শেয়ার বাজার বিশ্লেষক সংস্থা হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২রা মার্চ কমিটি গঠন করে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট সেবিকে বলেছিল তদন্ত করতে। সে সম্পর্কে সেবি  গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টকে বলেছিল আরো ছয় মাস সময় দেওয়া হোক কিন্তু আজ বুধবার এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে কোন সময় বাড়ানো হবে না। আগামী ১৪ আগস্ট এর মধ্যে আদানি শেয়ার বাজার সংস্থার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত শেষ করতে হবে।

বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় সেবিকে ১৪ অগস্টের মধ্যে আদালতে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলেন। সেবির আইনজীবী তুষার মেহতাকে শীর্ষ আদালতের তরফে জানানো হয়, ওই রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে সেবির অতিরিক্ত সময় পাওয়া উচিত কিনা। শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সেবির আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, “আমরা আপনাদের অনির্দিষ্ট সময় দিতে পারি না। আমাদের জানান তদন্তের অগ্রগতি কতটা হয়েছে।”

Advertisement

২০১৬ সালে শিল্পপতি গৌতম আদানির মালিকানাধীন কোনও সংস্থায় তদন্ত করা হয়নি। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে এ কথাই জানিয়েছিল সেবি। হিন্ডেনবার্গের রিপোর্ট প্রকাশের আগেই সেবি আদানি গোষ্ঠীর সংস্থাগুলির ‘কারচুপি’ নিয়ে তদন্ত করছে— কিছু মামলাকারীর তরফে, এমনকি সংসদে সরকারের তরফে আদালতে এমনটাই জানানো হয়েছিল। সেই ‘অভিযোগ’কে উড়িয়ে দিয়ে সেবির তরফে জানানো হল যে, তারা আদৌ ২০১৬ সাল থেকে এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেনি।

গত শুক্রবারেই এই মামলার শুনানিতে সেবি-র তরফে সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয়, তদন্তে তাদের আরও ৬ মাস লাগবে। তবে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, ৬ মাস সময় দেওয়া সম্ভব নয়। প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়, বিচারপতি জেবি পরদিওয়ালা এবং বিচারপতি পিএস নরসিমহার বেঞ্চের তরফে বলা হয়, “তদন্তের জন্য অনন্তকাল সময় নিতে পারে না সেবি। আমরা অগস্টের মাঝামাঝি সময়ে মামলাটি নথিভুক্ত করব। তখনই তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে।”

গত জানুয়ারিতে আমেরিকার শেয়ার বাজার বিশ্লেষক সংস্থা হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ এক রিপোর্টে দাবি করে, হিসাবের খাতায় গরমিল করে এবং বেআইনি ভাবে গত এক দশক ধরে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে চলেছে আদানি গোষ্ঠীর সংস্থাগুলি। এই রিপোর্টের পরেই সংস্থাগুলির শেয়ারে ধস নামে। গোটা বিষয়টি নিয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ায় বিরোধীরা। যৌথ সংসদীয় কমিটিকে দিয়ে তদন্তের দাবিও তোলা হয়। যদিও এখনও পর্যন্ত তা মঞ্জুর হয়নি।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ