দেশ 

রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেও পদত্যাগী উদ্ধব ঠাকরেকে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরাতে রাজি হলো না সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : দলত্যাগ বিরোধী আইন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে সহ ১৬ জনের বিধায়ক পদ খারিজ করতে রাজি হলো না  সুপ্রিম কোর্ট। ফলে মহারাষ্ট্র সরকারের উপর থেকে সব ধরনের বিপদ কেটে গেল। একনাথ শিন্ডে সরকার স্থায়ী ভাবে কাজ করতে পারবে।

বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত শিন্ডে এবং তাঁর অনুগামী বিধায়কদের পদক্ষেপকে ‘দলত্যাগ বিরোধী’ বললে তাঁরা পদ হারাতে পারতেন। সে ক্ষেত্রে উজ্জ্বল হত উদ্ধবের নেতৃত্বাধীন ‘মহা বিকাশ আঘাডী’ জোটের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা। কিন্তু উদ্ধব শিবিরের সেই আবেদন খারিজ করে প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন ৫ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ জানিয়েছে, গত জুনে শিন্ডে গোষ্ঠীর বিদ্রোহের সময় বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার (তথা ভারপ্রাপ্ত স্পিকার) নরহরি সীতারাম জিরওয়াল দলত্যাগী বিধায়কদের অবস্থান স্পষ্ট করার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা তাঁর এক্তিয়ার-বহির্ভূত।

Advertisement

মহারাষ্ট্রের মু‌খ্যমন্ত্রী পদে উদ্ধবকে পুনর্বহালের আর্জি সরাসরি খারিজ করেছে শীর্ষ আদালত। সাংবিধানিক বেঞ্চের মন্তব্য, ‘‘বিধানসভায় আস্থা ভোটের আগে উদ্ধব নিজেই ইস্তফা দিয়েছিলেন। তাই তাঁকে আবার মুখ্যমন্ত্রীর আসনে ফেরানো সম্ভব নয়।’’ উদ্ধবের ইস্তফার পরে রাজ্যপাল ভগৎ সিংহ কোশিয়ারি মহারাষ্ট্র বিধানসভার বৃহত্তম দল বিজেপির সমর্থিত শিন্ডেকে সরকার গড়তে ডেকে ‘অযৌক্তিক কিছু করেননি’ বলেও জানিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। এর আগে মামলার শুনানিতে রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলেছিলেন, “ধরা যাক কোনও বিষয়ে একটি দলের অন্দরে মতবিরোধ হল। তখন কি সেই দলের নেতাকে (এ ক্ষেত্রে উদ্ধব) আস্থাভোট নেওয়ার কথা বলবেন রাজ্যপাল?”

ক্ষমতার পালাবদলের পরে ক্ষমতাসীন শিবিরের নয়া স্পিকার তথা বিজেপি বিধায়ক রাহুল নরবেকর একতরফা ভাবে শিন্ডে শিবিরের বিধায়ক ভরত গোগাওয়ালেকে ‘শিবসেনা হুইপ’ মর্যাদা দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাকে ‘অসাংবিধানিক’ বলেছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের মন্তব্য, ‘‘কোনও পরিষদীয় দলের হুইপ স্থির করার অধিকার স্পিকারের নেই। সেই অধিকার সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের।’’

গত বছর জুনে শিবসেনার বিধায়কদের ধাপে ধাপে ভাঙিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন শিন্ডে। বিজেপির সাহায্য নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন উদ্ধব ঠাকরেকে। সে দিন শিন্ডে এবং তাঁর অনুগামী ‘প্রথম দফার বিদ্রোহী’ ১৬ শিবসেনা বিধায়কের সেই পদক্ষেপ ‘দলত্যাগ বিরোধী কার্যকলাপ’ ছিল কি না, বৃহস্পতিবার সেই রায় ঘোষণা করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাংবিধানিক বেঞ্চ জানায়, শিন্ডে-সহ ১৬ বিধায়কের পদ বহাল থাকবে।শিন্ডে গোষ্ঠীর বিদ্রোহের সময় বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার (তথা ভারপ্রাপ্ত স্পিকার) নরহরি সীতারাম জিরওয়াল দলত্যাগী বিধায়কদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলেছিলেন। কিন্তু শিন্ডে শিবির জানিয়েছিল, ডেপুটি স্পিকারকে সরানোর জন্য আগেই বিধানসভায় প্রস্তাব পেশ করেছেন তাঁরা। তাই তাঁর কৈফিয়ত চাওয়ার অধিকার নেই।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ