কলকাতা 

চৈত্র সংক্রান্তির পর পহেলা বৈশাখেও সিবিআইয়ের তল্লাশি অব্যাহত, শীত ঘুম ভেঙে এতদিন পর তল্লাশি অভিযানে নেমে দুর্নীতির শিকড়ে কি পৌঁছাতে পারবে কেন্দ্রীয় এজেন্সি?

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : চৈত্র সংক্রান্তিতে শুরু হয়েছিল পহেলা বৈশাখে ও তা অব্যাহত এখন রাজ্যজুড়ে সিবিআই-এর তল্লাশিতে চাপে শাসক দল।গতকাল চৈত্র সংক্রান্তির দুপুর থেকেই মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়িতে হানা দিয়েছিল সিবিআই।চব্বিশ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সেই তল্লাশি এখনো চলছে বলে জানা গেছে। এর পর আজ শনিবার সকালেই বীরভূমের নলহাটিতে তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি বিভাস অধিকারীর বাড়ি এবং ফ্ল্যাটে হানা দিয়েছে সিবিআই।এর পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরের হেঁড়িয়াতে গোপাল দলপতির বাড়িতেও হানা দিয়েছে সিবিআই-এর একটি দল।

নিয়োগ দুর্নীতির কাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ গতকাল দুপুরে মুর্শিদাবাদের বড়ঞার আন্দি গ্রামে তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়িতে হানা দেয় সিবিআই-এর একটি দল৷ বড়ঞার বিধায়কের বিরুদ্ধে শিক্ষা দফতরে চাকরি দেওয়ার নাম করে অনেকের থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে৷ ২০১৬ সালের নবম এবং দশম শ্রেণির এসএলএসটি নিয়োগের সময় তিনি এই টাকা নিয়েছিলেন বলে সিবিআই-এর পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে৷ আন্দি গ্রামে বিধায়কের বাড়ি ছাড়াও মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে বিধায়কের শ্বশুরবাড়িতেও একযোগে তল্লাশি শুরু করে সিবিআই৷ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, তল্লাশি চলাকালীন অভিযোগের স্বপক্ষে একাধিক তথ্যপ্রমাণ পেয়েছেন তারা৷ কোন চাকরিপ্রার্থীর থেকে তৃণমূল বিধায়ক কত টাকা নিয়েছিলেন, সেই তালিকাও উদ্ধার হয় বলে সিবিআই-এর দাবি।

অভিযোগ এই তল্লাশি চলাকালীনই বিকেলের দিকে শৌচালয়ে যাওয়ার অছিলায় বাড়ির পিছনের দিকে পুকুরে নিজের দুটি মোবাইল ফোন ছুড়ে ফেলে দেন তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। এর পরেই ওই দুটি মোবাইল উদ্ধারে তৎপর হন সিবিআই আধিকারিকরা৷ পুকুর থেকে জল ছেঁচে ফেলতে নিয়ে আসা হয় পাম্প৷ পুকুরের জল ছেঁচে মোবাইল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে৷ যদিও এ দিন দুপুর পর্যন্ত সেই চেষ্টা সফল হয়নি।বরং বিধায়কের বাড়ির পিছনে একটি জায়গা থেকে কয়েকটি ব্যাগ ভর্তি নথি উদ্ধার করেছে সিবিআই।

কয়েকদিন আগে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সিবিআই এর ধিরে চলার নীতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় তারপরেই কেন্দ্রীয় এজেন্সি তৎপরতা শুরু করে বলে ওয়াকিবহাল মনে করছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে মুর্শিদাবাদে যে তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে গতকাল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা এজেন্সি হানা দিয়েছিল তারা এতদিন ধরে কেন দেয়নি? তাহলে কি কোথাও তদন্ত কে ভুল পথে পরিচালনা করা হচ্ছে। এতদিন পরে বিধায়কের বাড়িতে হানা দিলে কোন তথ্য প্রমাণ কি পাবে একইসঙ্গে যে অভিযোগ দেখিয়ে হানা দেওয়া হচ্ছে। তা কি প্রমাণ করতে পারবে আদালতের সিবিআই সেটাই এখন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ