দেশ 

মহা সমারোহে পালিত হল ইন্দিরা গান্ধী রাষ্ট্রীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬ তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান

শেয়ার করুন

বংশীবদন চট্টোপাধ্যায় ও নায়ীমুল হক : মহামান্য রাষ্ট্রপতি শ্রীমতি দ্রৌপদী মুর্মুর উপস্থিতিতে সোমবার গোটা দেশে একযোগে পালিত হল ইন্দিরা গান্ধী রাষ্ট্রীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা ইগনু (IGNOU)-এর সমাবর্তন অনুষ্ঠান। ইগনু-এর ৩৬ তম এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ছিলেন প্রধান অতিথি।

দীক্ষান্ত ভাষণে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলেন, সমাবর্তনের এই দিনটি কেবলমাত্র ইগনু-এর নয়, আমাদের সকলের জন্য এক গর্বের দিন। সম্মাননীয় উপাচার্য সহ সকল শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, কর্মচারী সকলকে হার্দিক অভিনন্দন জানান তিনি। সমস্ত আঞ্চলিক কেন্দ্রের অধিকর্তা, সকল আধিকারিক সহ সমস্ত পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের বিশেষভাবে অভিনন্দন জ্ঞাপন করে তিনি বলেন, আজ বিদেশের মাটিতেও দেশের মুখ উজ্জ্বল করছে ইন্দিরা গান্ধী রাষ্ট্রীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টি ডাইমেনশনাল অ্যাক্টিভিটিস। বিভিন্ন কোর্সে দেশের ন’জন সেরা ছাত্র-ছাত্রীকে স্বর্ণপদক প্রদান করে মহামান্য রাষ্ট্রপতি তাদেরকে হিম্মতের সঙ্গে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

Advertisement

মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক নাগেশ্বর রাও গর্বের সঙ্গে জানান, আজ ৩৮ লক্ষেরও অধিক ছাত্রছাত্রী আমাদের ঐশ্বর্য। সার্টিফিকেট থেকে ডক্টরাল ডিগ্রি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অফলাইনে ২৮০ টি এবং অনলাইনে ৪৩ টি প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হচ্ছে দেশের ২০৬৩টি কেন্দ্র এবং বিদেশের মাটিতে ২৫ টি প্রতিষ্ঠান থেকে। চাকুরীর ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির নিরিখে ভারত সরকারের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ন্যাশনাল স্কিল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, জনশিক্ষা সংস্থা, প্রধানমন্ত্রী কৌশল কেন্দ্র। প্রান্তিক, পিছিয়ে পড়া, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে শিক্ষা-প্রসার ও উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রকার কার্যক্রম।

এই পাঠক্রমে বয়সের কোনো সীমা নেই। সমাজের সকল শ্রেণির মানুষ যাতে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে পারে, সেটাই মূল লক্ষ্য।

এমনকী সংশোধনাগারে কয়েদিদের জন্যেও বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্টাডি সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে। আর এই ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ নিখরচায়।

এদিন ইগনু-এর সারা দেশে ৩২ টি আঞ্চলিক কেন্দ্রের সঙ্গে কলকাতায় মূল অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয় সল্টলেকের বিদ্যুৎ ভবনের আর এন সি অডিটোরিয়ামে।

এদিন নতুন দিল্লির কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বিশিষ্ট অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।

কলকাতা আঞ্চলিক কেন্দ্রের সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক রঞ্জন চক্রবর্তী।

সভার শুরু প্রথাগত নিয়মে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এর মাধ্যমে করা হয়। এরপর ছিল অতিথি বরণ ও অন্যান্য কর্মসূচি।

এদিন শিক্ষার্থীরা ডিগ্রী, ডিপ্লোমা, সার্টিফিকেট পান। এছাড়াও সামগ্রিক আয়োজনে আন্তরিকতার ছাপ ছিল অভূতপূর্ব।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ